টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালী এলাকায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় ইব্রাহিম (১৫) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় রবিউল নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ইব্রাহিম সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালী ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সামশুল আলমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ওমর ফারুক, মো. তৈয়ব ও মো. শফিক টমটমযোগে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় যাওয়ার পথে হারিয়াখালী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব বিরোধের জেরে রাজু, রবিউল ও তাদের সহযোগীরা তাদের পথরোধ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে ওমর ফারুকরা সেখান থেকে চলে গেলেও পরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধু নুর কায়েস জানান, তারা দুজন ঝগড়া দেখতে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাদের দিকে তেড়ে এলে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে ইব্রাহিমকে ধরে মারধর করা হয়। পরে ছোড়া পাথরের আঘাত ও হামলায় সে গুরুতর আহত হয় বলে জানান তিনি।
নিহতের বড় ভাই ইমরান অভিযোগ করে বলেন, রাজু, রবিউল, আব্দুর রজক, আব্দুল মাবুদ, আরিফসহ কয়েকজন মিলে তার ভাইয়ের ওপর হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে ইব্রাহিমকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইনানী সৈকত এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ থানার এসআই মোর্শেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় রবিউল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি তদন্ত সুকান্ত জানান, পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় এক কিশোর নিহত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















