ঢাকা ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে সাবেক এডিসি আশরাফুল আফসারের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর প্রকোপ : ৯ মাসে আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮২ জন, ১০ জনের মৃত্যু পেকুয়ায় ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২৯ হাজার টাকা জরিমানা পরকীয়া ও অর্থ লেনদেনের বিরোধে চকরিয়ার ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা-পুলিশ : আরো ২ ঘাতক আটক জলদস্যু প্রতিরোধে বঙ্গোপসাগরে কোস্ট গার্ডের অভিযান জোরদার ভোক্তা-অধিকারের অভিযান: চকরিয়ায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা টেকনাফে জাল কাগজপত্রে ভোটার হওয়ার আবেদন, যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড টেকনাফে এসআরবির অভিযান ৫ লক্ষ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ একজন আদর্শ শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত? ছোলামুড়ি বিক্রির আড়ালে মাদক কারবার, ইয়াবাসহ আটক করলো পুলিশ কবি অমিত চৌধুরীর নাগরিক শোক সভা ৩১ অক্টোবর থানচিতে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫ লামায় ১৩ ইটভাটাকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা টেকনাফে বিজিবি ও এসআরবি’র যৌথ অভিযান: ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

তামাক ছেড়ে বাদাম চাষে ঝুঁকছে চকরিয়ার কৃষকেরা: হচ্ছে লাভবান

চকরিয়া উপজেলায় বদলে যাচ্ছে কৃষির চিরচেনা রূপ। একসময়ের তামাক চাষের উর্বর ক্ষেত্র মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চল এখন বাদামের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। বিষাক্ত তামাকের পরিবর্তে লাভজনক বাদাম চাষে ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

চাষের পরিধি ও বর্তমান চিত্র

​উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চকরিয়ায় বাদাম চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়:

অর্থবছর ও চাষের পরিমাণ

২০২২-২৩ =৪২৫ একর

২০২৩-২৪ = ৪৫০ একর

২০২৪-২৫ (বর্তমান)=৪৬২ একর

এর মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৩৫০ একর জমিই মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, একসময় এই এলাকায় মাত্র ৩০ একর জমিতে বাদাম হতো, যা এখন এক বিশাল বিপ্লবে রূপ নিয়েছে।

​লাভ ও খরচের হিসাব

​তামাক ছেড়ে কৃষকদের বাদামে ঝুঁকে পড়ার প্রধান কারণ এর উচ্চ মুনাফা। কৃষকদের সাথে কথা বলে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী:

​উৎপাদন খরচ: একর প্রতি প্রায় ৬৫,০০০ টাকা।

​বিক্রি: ১,২৫,০০০ থেকে ১,৪৫,০০০ টাকা।

​নিট লাভ: প্রতি একরে প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা।

​বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বাদাম ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তামাকের তুলনায় পরিশ্রম কম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকায় কৃষকরা একেই বেছে নিচ্ছেন।

কেন এই নীরব বিপ্লব?

​মাতামুহুরী নদীর পলিমাটি বাদাম চাষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী জানান:

​”বর্ষায় পাহাড় থেকে নেমে আসা উর্বর পলি চরাঞ্চলের মাটিকে বাদাম চাষের উপযোগী করে তোলে। তামাকচাষিরা এখন বুঝতে পারছেন যে তামাকের চেয়ে বাদাম চাষ অনেক বেশি লাভজনক এবং পরিবেশবান্ধব। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।”

কৃষকদের কণ্ঠে আশার সুর

​চরাঞ্চলের কয়েকজন কৃষক জানান, তামাক চাষে দীর্ঘসময় ও বেশি শ্রমের প্রয়োজন হতো, যা স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করত। কিন্তু বাদাম চাষে অল্প সময়েই ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। পলিমাটির উর্বরতা কাজে লাগিয়ে বাদাম চাষ করে তারা এখন আর্থিকভাবে অনেক বেশি সচ্ছল।

​পরিবেশ ও স্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকের বিকল্প হিসেবে চকরিয়ার এই ‘বাদাম বিপ্লব’ দেশের অন্যান্য তামাকপ্রবণ অঞ্চলের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ট্যাগ :

কক্সবাজারে সাবেক এডিসি আশরাফুল আফসারের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল

তামাক ছেড়ে বাদাম চাষে ঝুঁকছে চকরিয়ার কৃষকেরা: হচ্ছে লাভবান

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

চকরিয়া উপজেলায় বদলে যাচ্ছে কৃষির চিরচেনা রূপ। একসময়ের তামাক চাষের উর্বর ক্ষেত্র মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চল এখন বাদামের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। বিষাক্ত তামাকের পরিবর্তে লাভজনক বাদাম চাষে ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

চাষের পরিধি ও বর্তমান চিত্র

​উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চকরিয়ায় বাদাম চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়:

অর্থবছর ও চাষের পরিমাণ

২০২২-২৩ =৪২৫ একর

২০২৩-২৪ = ৪৫০ একর

২০২৪-২৫ (বর্তমান)=৪৬২ একর

এর মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৩৫০ একর জমিই মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, একসময় এই এলাকায় মাত্র ৩০ একর জমিতে বাদাম হতো, যা এখন এক বিশাল বিপ্লবে রূপ নিয়েছে।

​লাভ ও খরচের হিসাব

​তামাক ছেড়ে কৃষকদের বাদামে ঝুঁকে পড়ার প্রধান কারণ এর উচ্চ মুনাফা। কৃষকদের সাথে কথা বলে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী:

​উৎপাদন খরচ: একর প্রতি প্রায় ৬৫,০০০ টাকা।

​বিক্রি: ১,২৫,০০০ থেকে ১,৪৫,০০০ টাকা।

​নিট লাভ: প্রতি একরে প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা।

​বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বাদাম ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তামাকের তুলনায় পরিশ্রম কম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকায় কৃষকরা একেই বেছে নিচ্ছেন।

কেন এই নীরব বিপ্লব?

​মাতামুহুরী নদীর পলিমাটি বাদাম চাষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী জানান:

​”বর্ষায় পাহাড় থেকে নেমে আসা উর্বর পলি চরাঞ্চলের মাটিকে বাদাম চাষের উপযোগী করে তোলে। তামাকচাষিরা এখন বুঝতে পারছেন যে তামাকের চেয়ে বাদাম চাষ অনেক বেশি লাভজনক এবং পরিবেশবান্ধব। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।”

কৃষকদের কণ্ঠে আশার সুর

​চরাঞ্চলের কয়েকজন কৃষক জানান, তামাক চাষে দীর্ঘসময় ও বেশি শ্রমের প্রয়োজন হতো, যা স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করত। কিন্তু বাদাম চাষে অল্প সময়েই ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। পলিমাটির উর্বরতা কাজে লাগিয়ে বাদাম চাষ করে তারা এখন আর্থিকভাবে অনেক বেশি সচ্ছল।

​পরিবেশ ও স্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকের বিকল্প হিসেবে চকরিয়ার এই ‘বাদাম বিপ্লব’ দেশের অন্যান্য তামাকপ্রবণ অঞ্চলের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।