ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হচ্ছে ৭ শতাধিক এআই ক্যামেরা হ্নীলার নুরুল হুদা মেম্বারের সাড়ে তিন বছর কারাদণ্ড : ৫ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকার অর্থদণ্ড শহরে বন্দুকসহ গ্রেফতার ২ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী ও সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত স্বামী ঢাকায় গ্রেফতার নতুন বাহারছড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইস্কান্দার মির্জা আর নেই শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো হবে কি না, ঠিক করবে ভারতের আদালত: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ব্লু ইকোনমির রাজধানী হবে কক্সবাজার – এমপি লুৎফুর রহমান কাজল পেকুয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ৪টি গরু ও বসতঘর পুড়ে ছাই অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হলে ভারত যাবেন না প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎবিহীন উখিয়া-টেকনাফ, স্বাভাবিক হতে লাগবে ৭ ঘন্টা রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ! প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্বের ফ্রি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন চলছে

তামাক ছেড়ে বাদাম চাষে ঝুঁকছে চকরিয়ার কৃষকেরা: হচ্ছে লাভবান

চকরিয়া উপজেলায় বদলে যাচ্ছে কৃষির চিরচেনা রূপ। একসময়ের তামাক চাষের উর্বর ক্ষেত্র মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চল এখন বাদামের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। বিষাক্ত তামাকের পরিবর্তে লাভজনক বাদাম চাষে ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

চাষের পরিধি ও বর্তমান চিত্র

​উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চকরিয়ায় বাদাম চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়:

অর্থবছর ও চাষের পরিমাণ

২০২২-২৩ =৪২৫ একর

২০২৩-২৪ = ৪৫০ একর

২০২৪-২৫ (বর্তমান)=৪৬২ একর

এর মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৩৫০ একর জমিই মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, একসময় এই এলাকায় মাত্র ৩০ একর জমিতে বাদাম হতো, যা এখন এক বিশাল বিপ্লবে রূপ নিয়েছে।

​লাভ ও খরচের হিসাব

​তামাক ছেড়ে কৃষকদের বাদামে ঝুঁকে পড়ার প্রধান কারণ এর উচ্চ মুনাফা। কৃষকদের সাথে কথা বলে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী:

​উৎপাদন খরচ: একর প্রতি প্রায় ৬৫,০০০ টাকা।

​বিক্রি: ১,২৫,০০০ থেকে ১,৪৫,০০০ টাকা।

​নিট লাভ: প্রতি একরে প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা।

​বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বাদাম ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তামাকের তুলনায় পরিশ্রম কম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকায় কৃষকরা একেই বেছে নিচ্ছেন।

কেন এই নীরব বিপ্লব?

​মাতামুহুরী নদীর পলিমাটি বাদাম চাষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী জানান:

​”বর্ষায় পাহাড় থেকে নেমে আসা উর্বর পলি চরাঞ্চলের মাটিকে বাদাম চাষের উপযোগী করে তোলে। তামাকচাষিরা এখন বুঝতে পারছেন যে তামাকের চেয়ে বাদাম চাষ অনেক বেশি লাভজনক এবং পরিবেশবান্ধব। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।”

কৃষকদের কণ্ঠে আশার সুর

​চরাঞ্চলের কয়েকজন কৃষক জানান, তামাক চাষে দীর্ঘসময় ও বেশি শ্রমের প্রয়োজন হতো, যা স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করত। কিন্তু বাদাম চাষে অল্প সময়েই ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। পলিমাটির উর্বরতা কাজে লাগিয়ে বাদাম চাষ করে তারা এখন আর্থিকভাবে অনেক বেশি সচ্ছল।

​পরিবেশ ও স্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকের বিকল্প হিসেবে চকরিয়ার এই ‘বাদাম বিপ্লব’ দেশের অন্যান্য তামাকপ্রবণ অঞ্চলের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হচ্ছে ৭ শতাধিক এআই ক্যামেরা

তামাক ছেড়ে বাদাম চাষে ঝুঁকছে চকরিয়ার কৃষকেরা: হচ্ছে লাভবান

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

চকরিয়া উপজেলায় বদলে যাচ্ছে কৃষির চিরচেনা রূপ। একসময়ের তামাক চাষের উর্বর ক্ষেত্র মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চল এখন বাদামের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। বিষাক্ত তামাকের পরিবর্তে লাভজনক বাদাম চাষে ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

চাষের পরিধি ও বর্তমান চিত্র

​উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চকরিয়ায় বাদাম চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়:

অর্থবছর ও চাষের পরিমাণ

২০২২-২৩ =৪২৫ একর

২০২৩-২৪ = ৪৫০ একর

২০২৪-২৫ (বর্তমান)=৪৬২ একর

এর মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৩৫০ একর জমিই মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, একসময় এই এলাকায় মাত্র ৩০ একর জমিতে বাদাম হতো, যা এখন এক বিশাল বিপ্লবে রূপ নিয়েছে।

​লাভ ও খরচের হিসাব

​তামাক ছেড়ে কৃষকদের বাদামে ঝুঁকে পড়ার প্রধান কারণ এর উচ্চ মুনাফা। কৃষকদের সাথে কথা বলে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী:

​উৎপাদন খরচ: একর প্রতি প্রায় ৬৫,০০০ টাকা।

​বিক্রি: ১,২৫,০০০ থেকে ১,৪৫,০০০ টাকা।

​নিট লাভ: প্রতি একরে প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা।

​বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বাদাম ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তামাকের তুলনায় পরিশ্রম কম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকায় কৃষকরা একেই বেছে নিচ্ছেন।

কেন এই নীরব বিপ্লব?

​মাতামুহুরী নদীর পলিমাটি বাদাম চাষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী জানান:

​”বর্ষায় পাহাড় থেকে নেমে আসা উর্বর পলি চরাঞ্চলের মাটিকে বাদাম চাষের উপযোগী করে তোলে। তামাকচাষিরা এখন বুঝতে পারছেন যে তামাকের চেয়ে বাদাম চাষ অনেক বেশি লাভজনক এবং পরিবেশবান্ধব। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।”

কৃষকদের কণ্ঠে আশার সুর

​চরাঞ্চলের কয়েকজন কৃষক জানান, তামাক চাষে দীর্ঘসময় ও বেশি শ্রমের প্রয়োজন হতো, যা স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করত। কিন্তু বাদাম চাষে অল্প সময়েই ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। পলিমাটির উর্বরতা কাজে লাগিয়ে বাদাম চাষ করে তারা এখন আর্থিকভাবে অনেক বেশি সচ্ছল।

​পরিবেশ ও স্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকের বিকল্প হিসেবে চকরিয়ার এই ‘বাদাম বিপ্লব’ দেশের অন্যান্য তামাকপ্রবণ অঞ্চলের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।