ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হোটেল কক্ষে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার, নগদ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বজ্রপাত, আহত ৫ নারী বাসযাত্রীর ব্যাগে মিললো ২.৭ কেজি গাঁজা জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামবাসীর কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. আবদুল হাই এর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ পাচারকারীর ফেলে যাওয়া বস্তায় এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের নগদ টাকা বিতরণ, তদন্তের মুখে এনজিও সওয়াব ভয়াল ২৯ এপ্রিল : এখনো অরক্ষিত বিস্তীর্ণ উপকূল পাঁচ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস একদিনে কক্সবাজারে ৮ প্রাণহানি সেন্টমার্টিনে “ভূতুড়ে জাল ও প্লাস্টিক” সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন, ১৫০ কেজি ভূতুড়ে জাল সংগ্রহ ৫ মাস ২১ দিন পর আবারও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে “বিপজ্জনক এলাকা” নির্দেশক লাল পতাকা কক্সবাজারে ২৪ ঘণ্টায় ৩১ মিমি বৃষ্টি, ৪ দিনের ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা

তামাক ছেড়ে বাদাম চাষে ঝুঁকছে চকরিয়ার কৃষকেরা: হচ্ছে লাভবান

চকরিয়া উপজেলায় বদলে যাচ্ছে কৃষির চিরচেনা রূপ। একসময়ের তামাক চাষের উর্বর ক্ষেত্র মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চল এখন বাদামের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। বিষাক্ত তামাকের পরিবর্তে লাভজনক বাদাম চাষে ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

চাষের পরিধি ও বর্তমান চিত্র

​উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চকরিয়ায় বাদাম চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়:

অর্থবছর ও চাষের পরিমাণ

২০২২-২৩ =৪২৫ একর

২০২৩-২৪ = ৪৫০ একর

২০২৪-২৫ (বর্তমান)=৪৬২ একর

এর মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৩৫০ একর জমিই মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, একসময় এই এলাকায় মাত্র ৩০ একর জমিতে বাদাম হতো, যা এখন এক বিশাল বিপ্লবে রূপ নিয়েছে।

​লাভ ও খরচের হিসাব

​তামাক ছেড়ে কৃষকদের বাদামে ঝুঁকে পড়ার প্রধান কারণ এর উচ্চ মুনাফা। কৃষকদের সাথে কথা বলে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী:

​উৎপাদন খরচ: একর প্রতি প্রায় ৬৫,০০০ টাকা।

​বিক্রি: ১,২৫,০০০ থেকে ১,৪৫,০০০ টাকা।

​নিট লাভ: প্রতি একরে প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা।

​বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বাদাম ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তামাকের তুলনায় পরিশ্রম কম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকায় কৃষকরা একেই বেছে নিচ্ছেন।

কেন এই নীরব বিপ্লব?

​মাতামুহুরী নদীর পলিমাটি বাদাম চাষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী জানান:

​”বর্ষায় পাহাড় থেকে নেমে আসা উর্বর পলি চরাঞ্চলের মাটিকে বাদাম চাষের উপযোগী করে তোলে। তামাকচাষিরা এখন বুঝতে পারছেন যে তামাকের চেয়ে বাদাম চাষ অনেক বেশি লাভজনক এবং পরিবেশবান্ধব। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।”

কৃষকদের কণ্ঠে আশার সুর

​চরাঞ্চলের কয়েকজন কৃষক জানান, তামাক চাষে দীর্ঘসময় ও বেশি শ্রমের প্রয়োজন হতো, যা স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করত। কিন্তু বাদাম চাষে অল্প সময়েই ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। পলিমাটির উর্বরতা কাজে লাগিয়ে বাদাম চাষ করে তারা এখন আর্থিকভাবে অনেক বেশি সচ্ছল।

​পরিবেশ ও স্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকের বিকল্প হিসেবে চকরিয়ার এই ‘বাদাম বিপ্লব’ দেশের অন্যান্য তামাকপ্রবণ অঞ্চলের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

তামাক ছেড়ে বাদাম চাষে ঝুঁকছে চকরিয়ার কৃষকেরা: হচ্ছে লাভবান

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

চকরিয়া উপজেলায় বদলে যাচ্ছে কৃষির চিরচেনা রূপ। একসময়ের তামাক চাষের উর্বর ক্ষেত্র মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চল এখন বাদামের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। বিষাক্ত তামাকের পরিবর্তে লাভজনক বাদাম চাষে ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

চাষের পরিধি ও বর্তমান চিত্র

​উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চকরিয়ায় বাদাম চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়:

অর্থবছর ও চাষের পরিমাণ

২০২২-২৩ =৪২৫ একর

২০২৩-২৪ = ৪৫০ একর

২০২৪-২৫ (বর্তমান)=৪৬২ একর

এর মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৩৫০ একর জমিই মাতামুহুরী নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, একসময় এই এলাকায় মাত্র ৩০ একর জমিতে বাদাম হতো, যা এখন এক বিশাল বিপ্লবে রূপ নিয়েছে।

​লাভ ও খরচের হিসাব

​তামাক ছেড়ে কৃষকদের বাদামে ঝুঁকে পড়ার প্রধান কারণ এর উচ্চ মুনাফা। কৃষকদের সাথে কথা বলে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী:

​উৎপাদন খরচ: একর প্রতি প্রায় ৬৫,০০০ টাকা।

​বিক্রি: ১,২৫,০০০ থেকে ১,৪৫,০০০ টাকা।

​নিট লাভ: প্রতি একরে প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা।

​বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বাদাম ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তামাকের তুলনায় পরিশ্রম কম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকায় কৃষকরা একেই বেছে নিচ্ছেন।

কেন এই নীরব বিপ্লব?

​মাতামুহুরী নদীর পলিমাটি বাদাম চাষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী জানান:

​”বর্ষায় পাহাড় থেকে নেমে আসা উর্বর পলি চরাঞ্চলের মাটিকে বাদাম চাষের উপযোগী করে তোলে। তামাকচাষিরা এখন বুঝতে পারছেন যে তামাকের চেয়ে বাদাম চাষ অনেক বেশি লাভজনক এবং পরিবেশবান্ধব। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।”

কৃষকদের কণ্ঠে আশার সুর

​চরাঞ্চলের কয়েকজন কৃষক জানান, তামাক চাষে দীর্ঘসময় ও বেশি শ্রমের প্রয়োজন হতো, যা স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করত। কিন্তু বাদাম চাষে অল্প সময়েই ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। পলিমাটির উর্বরতা কাজে লাগিয়ে বাদাম চাষ করে তারা এখন আর্থিকভাবে অনেক বেশি সচ্ছল।

​পরিবেশ ও স্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকের বিকল্প হিসেবে চকরিয়ার এই ‘বাদাম বিপ্লব’ দেশের অন্যান্য তামাকপ্রবণ অঞ্চলের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।