উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমান পাড়া, মিয়ানমারের সীমান্তের শুন্যরেখা সংলগ্ন এই গ্রামে অন্তত চারটি পয়েন্টকে অবৈধ ইয়াবা পাচারের রুট হিসেবে চিহ্নিত করে সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
বিজিবি,পুলিশ,র্যাব সহ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি স্বত্তেও গ্রামীণ আধিপত্য ও দীর্ঘদিনের রপ্তকরা কৌশলকে কাজে লাগিয়ে আঞ্জুমানের তালিকাভুক্ত মাদককারবারিরা ওপার থেকে চোরাইপথে প্রতিরাতে আনছে কোটি টাকার ইয়াবা।
গত ৭ জুন দিবাগত আঞ্জুমান পাড়ার একটি মাছের ঘেরের গোপনপথ দিয়ে প্রবেশ করে ইয়াবার বড় চালান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সেই চালানে থাকা আনুমানিক প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৪ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা লুট কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই মাদককারবারীর প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য সুলতান আহমেদ প্রকাশ সুলতান মেম্বার ও সেলিম নেওয়াজ রিজভী এবং তাদের অনুসারীদের মধ্যে এঘটনায় মুখোমুখি অবস্থানের ফলে সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
আঞ্জুমানের মাদক সাম্রাজ্যে আধিপত্যে বিস্তারে আলোচিত এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা – মাদক সহ উখিয়া থানায় ডজনের বেশি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার তিনদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুলতান মেম্বার অভিযোগ করেন, রিজভী ও তার সহযোগী ইব্রাহিম মিলে ইয়াবাগুলো লুট করে তার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এছাড়াও তিনি দাবী করেন রিজভীর নেতৃত্বে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবী, সুলতান মেম্বারের দুই ভগ্নিপতি শামসুল আলম ও ফয়সাল রিজভীর পার্টনার ছিলেন এবং তারাই কৌশলে সুলতান মেম্বারের সহায়তায় ইয়াবাগুলো লুট করেছেন।
এবিষয়ে রিজভীর মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় মাদক প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত আছে।
উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকার স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশার পাশাপাশি মাদককারবারিদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক 























