ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত ২৬ মামলার আসামি চকরিয়ার নবী হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার রামু উপজেলা বিআরডিবির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল বশর বাবু  জেদ্দা থেকে মদিনার পথে দুর্ঘটনা, সড়কে নিভে গেল লোহাগাড়ার শওকতের প্রাণ কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, ২ লাখ পিস উদ্ধার ছাত্রদল নেতা জিসানসহ ২৪ ঘণ্টায় তিন মরদেহ, দুই ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কক্সবাজারে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ কবি অমিত চৌধুরী পরলোকে : রাতে শেষকৃত্য কক্সবাজার মহাশশ্মানে বাংলাদেশকে আকাশ ব্যবহার করতে দিল না পাকিস্তান

ফুটবল ইতিহাসে যে লজ্জার রেকর্ডে শীর্ষে ব্রাজিল

ফুটবল বিশ্বকাপ আর ব্রাজিল- এই দুটি শব্দ যেন একে অপরের পরিপূরক। ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এবং সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তারা। সেলেওসাওদের হলুদ জার্সিতে সাম্বা নৃত্যে বুঁদ হয়ে থাকে পুরো বিশ্ব। কিন্তু মুদ্রার যেমন এপিঠ-ওপিঠ থাকে, তেমনি ব্রাজিলের এই চোখ ধাঁধানো সাফল্যের আড়ালেও লুকিয়ে আছে এক কুখ্যাত অধ্যায়। বিশ্বমঞ্চে এমন এমন একটি চরম লজ্জার রেকর্ড তাদের আছে, যা নেই অন্য কোনো দেশের।

নান্দনিক ফুটবলের দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও মাঠের ভেতরে মেজাজ হারিয়ে কুৎসিত ফাউল ও কার্ড দেখার ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবার ওপরে রয়েছে ব্রাজিল।

ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার লজ্জাজনক বিশ্বরেকর্ডটি এককভাবে ব্রাজিলের দখলে। বিশ্বমঞ্চে সেলেসাওরা এ পর্যন্ত ১১টি লাল কার্ড পেয়েছে।

আর্জেন্টিনা বা ইতালির মতো দলগুলোকে ডিফেন্সে কিছুটা আগ্রাসী ভাব হলেও কার্ড দেখার দিক থেকে ব্রাজিলই সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। মাঠে রেফারিকে লাঞ্ছিত করা, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কিল-ঘুষি মারা কিংবা ফাউলের মহোৎসবে মেতে ওঠার বেশকিছু কুখ্যাত ইতিহাস রয়েছে তাদের।

ব্রাজিলের এই লাল কার্ডের রেকর্ডের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি। হাঙ্গেরির বিপক্ষে ব্রাজিলের সেই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে কোনো ফুটবল ম্যাচ হিসেবে নয়, বরং ‘ব্যাটল অফ বার্ন’ বা বার্নের যুদ্ধ নামে পরিচিত হয়ে আছে।

সেই ম্যাচে মাঠের রেফারিকে পাত্তাই দেয়নি ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা। পুরো ম্যাচ জুড়ে চলেছিল কুস্তি এবং বক্সিংয়ের মতো ঘটনা। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে ব্রাজিলের দুজন খেলোয়াড় (নিলটন সান্তোস ও হুমবার্তো তোজ্জি) সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।

নোংরামির শেষ এখানেই ছিল না; ম্যাচটি ৪-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা হাঙ্গেরির ড্রেসিংরুমে গিয়ে চড়াও হন। সেখানে বোতল, বুট এবং ভাঙা পানির পাইপ নিয়ে তারা প্রতিপক্ষের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালান। এমনকি ব্রাজিলের তৎকালীন কোচ জেজে মোরেওরা নিজে হাঙ্গেরির অধিনায়কের মাথায় বোতল দিয়ে আঘাত করেছিলেন!

তবে ব্রাজিল এই তালিকায় শীর্ষে থাকলেও খুব একটা পিছিয়ে নেই তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০টি লাল কার্ড দেখেছেন আলবিসেলেস্তেরা। তালিকার তিন নম্বরে অবস্থান আরেক লাতিন আমেরিকান দল উরুগুয়ের। তারা লাল কার্ড দেখেছে মোট ৯ বার। তাদের সমপরিমাণ লাল কার্ড পেয়েছেন ক্যামেরুনের ফুটবলারও।

এদিকে অবশ্য হলুদ কার্ড হজম করার ক্ষেত্রে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ১৯৩০ থেকে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত মোট ১২৩টি হলুদ কার্ড পেয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। গেল বিশ্বকাপেও সর্বোচ্চ ১৭টি হলুদ দেখেছিলেন তারা। এই তালিকায় দুই নম্বরে অবস্থান জার্মানির। তারা হলুদ কার্ড দেখেছেন মোট ১২১টি। আর ১১৪টি হলুদ কার্ড হজম করে তালিকার তিন নম্বরে অবস্থান ব্রাজিলের।

আবার লাল এবং হলুদ কার্ড একত্রে হিসেবে করলে এগিয়ে থাকছে আর্জেন্টিনা। তাদের মোট প্রাপ্ত কার্ড সংখ্যা ১৩৩টি। আর ব্রাজিলের ১২৫টি।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র

ফুটবল ইতিহাসে যে লজ্জার রেকর্ডে শীর্ষে ব্রাজিল

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপ আর ব্রাজিল- এই দুটি শব্দ যেন একে অপরের পরিপূরক। ইতিহাসে একমাত্র দল হিসেবে প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এবং সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তারা। সেলেওসাওদের হলুদ জার্সিতে সাম্বা নৃত্যে বুঁদ হয়ে থাকে পুরো বিশ্ব। কিন্তু মুদ্রার যেমন এপিঠ-ওপিঠ থাকে, তেমনি ব্রাজিলের এই চোখ ধাঁধানো সাফল্যের আড়ালেও লুকিয়ে আছে এক কুখ্যাত অধ্যায়। বিশ্বমঞ্চে এমন এমন একটি চরম লজ্জার রেকর্ড তাদের আছে, যা নেই অন্য কোনো দেশের।

নান্দনিক ফুটবলের দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও মাঠের ভেতরে মেজাজ হারিয়ে কুৎসিত ফাউল ও কার্ড দেখার ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবার ওপরে রয়েছে ব্রাজিল।

ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার লজ্জাজনক বিশ্বরেকর্ডটি এককভাবে ব্রাজিলের দখলে। বিশ্বমঞ্চে সেলেসাওরা এ পর্যন্ত ১১টি লাল কার্ড পেয়েছে।

আর্জেন্টিনা বা ইতালির মতো দলগুলোকে ডিফেন্সে কিছুটা আগ্রাসী ভাব হলেও কার্ড দেখার দিক থেকে ব্রাজিলই সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। মাঠে রেফারিকে লাঞ্ছিত করা, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কিল-ঘুষি মারা কিংবা ফাউলের মহোৎসবে মেতে ওঠার বেশকিছু কুখ্যাত ইতিহাস রয়েছে তাদের।

ব্রাজিলের এই লাল কার্ডের রেকর্ডের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি। হাঙ্গেরির বিপক্ষে ব্রাজিলের সেই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে কোনো ফুটবল ম্যাচ হিসেবে নয়, বরং ‘ব্যাটল অফ বার্ন’ বা বার্নের যুদ্ধ নামে পরিচিত হয়ে আছে।

সেই ম্যাচে মাঠের রেফারিকে পাত্তাই দেয়নি ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা। পুরো ম্যাচ জুড়ে চলেছিল কুস্তি এবং বক্সিংয়ের মতো ঘটনা। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে ব্রাজিলের দুজন খেলোয়াড় (নিলটন সান্তোস ও হুমবার্তো তোজ্জি) সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।

নোংরামির শেষ এখানেই ছিল না; ম্যাচটি ৪-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা হাঙ্গেরির ড্রেসিংরুমে গিয়ে চড়াও হন। সেখানে বোতল, বুট এবং ভাঙা পানির পাইপ নিয়ে তারা প্রতিপক্ষের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালান। এমনকি ব্রাজিলের তৎকালীন কোচ জেজে মোরেওরা নিজে হাঙ্গেরির অধিনায়কের মাথায় বোতল দিয়ে আঘাত করেছিলেন!

তবে ব্রাজিল এই তালিকায় শীর্ষে থাকলেও খুব একটা পিছিয়ে নেই তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০টি লাল কার্ড দেখেছেন আলবিসেলেস্তেরা। তালিকার তিন নম্বরে অবস্থান আরেক লাতিন আমেরিকান দল উরুগুয়ের। তারা লাল কার্ড দেখেছে মোট ৯ বার। তাদের সমপরিমাণ লাল কার্ড পেয়েছেন ক্যামেরুনের ফুটবলারও।

এদিকে অবশ্য হলুদ কার্ড হজম করার ক্ষেত্রে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ১৯৩০ থেকে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত মোট ১২৩টি হলুদ কার্ড পেয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। গেল বিশ্বকাপেও সর্বোচ্চ ১৭টি হলুদ দেখেছিলেন তারা। এই তালিকায় দুই নম্বরে অবস্থান জার্মানির। তারা হলুদ কার্ড দেখেছেন মোট ১২১টি। আর ১১৪টি হলুদ কার্ড হজম করে তালিকার তিন নম্বরে অবস্থান ব্রাজিলের।

আবার লাল এবং হলুদ কার্ড একত্রে হিসেবে করলে এগিয়ে থাকছে আর্জেন্টিনা। তাদের মোট প্রাপ্ত কার্ড সংখ্যা ১৩৩টি। আর ব্রাজিলের ১২৫টি।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট