ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে সংঘাত-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন ৬ বছর পর নিষিদ্ধ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের ৮৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি লোহাগাড়ায় পুকুরে গোসলে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ১৫ রামুতে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও ডাকাত আটক, ৩ জনের কারাদণ্ড মা ইলিশ সংরক্ষণে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী পেকুয়ায় নিজ বিদ্যালয়ে সংবর্ধিত কউক চেয়ারম্যান ও কমেক অধ্যক্ষ উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযান : বালিভর্তি দুই অবৈধ ডাম্পার জব্দ কক্সবাজারে ২ প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা জাতীয় পর্যায়ে “সেরা গুণী শিক্ষক” সম্মাননা পেলেন রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুলের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আব্দুর রহিম টেকনাফে এসআরবি ও বিজিবির যৌথ অভিযান : ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার বাস টার্মিনালের স্ট্যান্ড পার্ক হোটেলে আলোচিত কুলসুমা হত্যার প্রধান আসামী ইরফান গ্রেফতার সাগরে মাছ শিকারে বন্ধ : দুঃশ্চিন্তায় জেলেরা পেকুয়ায় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

কথিত দালাল ‘কালা সোনা’কে সাথে নিয়ে উখিয়ায় বনবিভাগের ‘বির্তকিত’ উচ্ছেদ!

নেই কোন স্থায়ী পদ-পদবী, বিলুপ্ত হওয়া ভিলেজার পরিচয়ে তিনি যেন বনবিভাগের একছত্র নিয়ন্ত্রক। উখিয়ায় লোকেমুখে তার নাম উচ্চারিত হয় রাষ্ট্রীয় সংস্থার কথিত দালাল হিসেবে।

কালা সোনা (৫০) নামে উখিয়া সদর এলাকার সেই ব্যক্তিকে দেখা গেছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে।

শনিবার (২৮ মার্চ) উখিয়া রেঞ্জের সদর বিট আওতাধীন হাঙ্গরঘোনা ও আমগাছতলা এলাকায় চলা এই অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্থাপনা।

প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়,রাজারকুল রেঞ্জ থেকে অতিরিক্ত কর্মী সহ পর্যাপ্ত বনকর্মী অভিযানে থাকলেও সেই কালো সোনা নিজেই ভাঙ্গছেন নির্মিতব্য স্থাপনার দেয়াল যেখানে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন উখিয়া রেঞ্জের প্রধান (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহীনুর ইসলাম।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পাশে স্থাপনা থাকলেও সেগুলো উচ্ছেদ না করে কালা সোনার মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ না করায় তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে।

হাঙ্গরঘোনা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ কালো সোনা আমাদের কাছে আতংকের নাম, সে বনের জায়গা কন্ট্রাক্টে বৈধ করায়। বনবিভাগের আসকারায় এসব ওপেন সিক্রেট।’

কালো সোনার নামে ‘উখিয়া রেঞ্জের অঘোষিত বিট কর্মকর্তা কালা সোনা!’ নানা শিরোনামে কয়েক বছর ধরে অসংখ্য সংবাদ গণমাধ্যমে আসলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

এমনকি এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা থাকলেও সরকারি অভিযানে তার অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা এবং বনবিভাগের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

যদিও অভিযোগ প্রসঙ্গে কালা সোনা বলেন, ‘ আমি পুরাতন ভিলেজার, টুকটাক বনবিভাগকে সহায়তা করি কিন্তু অবৈধ কিছু করি না।’

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘সরকারি রক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি, বনভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

এছাড়াও তিনি বনবিভাগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে তাহলে তাদের আইনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে সংঘাত-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন

কথিত দালাল ‘কালা সোনা’কে সাথে নিয়ে উখিয়ায় বনবিভাগের ‘বির্তকিত’ উচ্ছেদ!

আপডেট সময় : ১০:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

নেই কোন স্থায়ী পদ-পদবী, বিলুপ্ত হওয়া ভিলেজার পরিচয়ে তিনি যেন বনবিভাগের একছত্র নিয়ন্ত্রক। উখিয়ায় লোকেমুখে তার নাম উচ্চারিত হয় রাষ্ট্রীয় সংস্থার কথিত দালাল হিসেবে।

কালা সোনা (৫০) নামে উখিয়া সদর এলাকার সেই ব্যক্তিকে দেখা গেছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে।

শনিবার (২৮ মার্চ) উখিয়া রেঞ্জের সদর বিট আওতাধীন হাঙ্গরঘোনা ও আমগাছতলা এলাকায় চলা এই অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্থাপনা।

প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়,রাজারকুল রেঞ্জ থেকে অতিরিক্ত কর্মী সহ পর্যাপ্ত বনকর্মী অভিযানে থাকলেও সেই কালো সোনা নিজেই ভাঙ্গছেন নির্মিতব্য স্থাপনার দেয়াল যেখানে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন উখিয়া রেঞ্জের প্রধান (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহীনুর ইসলাম।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পাশে স্থাপনা থাকলেও সেগুলো উচ্ছেদ না করে কালা সোনার মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ না করায় তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে।

হাঙ্গরঘোনা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ কালো সোনা আমাদের কাছে আতংকের নাম, সে বনের জায়গা কন্ট্রাক্টে বৈধ করায়। বনবিভাগের আসকারায় এসব ওপেন সিক্রেট।’

কালো সোনার নামে ‘উখিয়া রেঞ্জের অঘোষিত বিট কর্মকর্তা কালা সোনা!’ নানা শিরোনামে কয়েক বছর ধরে অসংখ্য সংবাদ গণমাধ্যমে আসলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

এমনকি এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা থাকলেও সরকারি অভিযানে তার অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা এবং বনবিভাগের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

যদিও অভিযোগ প্রসঙ্গে কালা সোনা বলেন, ‘ আমি পুরাতন ভিলেজার, টুকটাক বনবিভাগকে সহায়তা করি কিন্তু অবৈধ কিছু করি না।’

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘সরকারি রক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি, বনভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

এছাড়াও তিনি বনবিভাগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে তাহলে তাদের আইনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন।