ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
​টেকনাফ সৈকতে ভেসে এলো অসংখ্য মৃত জেলিফিশ ঈদ শেষে কক্সবাজারে যাত্রীচাপ, ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট করলে লাইসেন্স বাতিল: লুৎফুর রহমান কাজল কথিত দালাল ‘কালা সোনা’কে সাথে নিয়ে উখিয়ায় বনবিভাগের ‘বির্তকিত’ উচ্ছেদ! কক্সবাজারে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণে প্রস্তুতি পরিষদ: আহবায়ক খোরশেদ, সদস্য সচিব ছোটন গ্যাং কালচার থেকে ত্রিভুজ প্রেম: কেন খোরশেদের নির্মম পরিণতি? ৩ নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ‘আরাকান আর্মি’ সাংবাদিক এরশাদের জানাজা বাদ আসর হাশেমিয়া মাদ্রাসা মাঠে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ১২ সেনা আহত কক্সবাজারে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এইচ এম এরশাদ আর নেই চকরিয়ায় হাতিকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে ফেলার পরও শেষ রক্ষা হলো না! রামু কলেজ গেইটে নাইট মিনিবার ফুটবল ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন তেল শেষ হওয়ায় থেমেছিল বাস, যাত্রীরা নেমে বসেছিলেন রেললাইনে পৌর জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের আংশিক কমিটি গঠন

কথিত দালাল ‘কালা সোনা’কে সাথে নিয়ে উখিয়ায় বনবিভাগের ‘বির্তকিত’ উচ্ছেদ!

নেই কোন স্থায়ী পদ-পদবী, বিলুপ্ত হওয়া ভিলেজার পরিচয়ে তিনি যেন বনবিভাগের একছত্র নিয়ন্ত্রক। উখিয়ায় লোকেমুখে তার নাম উচ্চারিত হয় রাষ্ট্রীয় সংস্থার কথিত দালাল হিসেবে।

কালা সোনা (৫০) নামে উখিয়া সদর এলাকার সেই ব্যক্তিকে দেখা গেছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে।

শনিবার (২৮ মার্চ) উখিয়া রেঞ্জের সদর বিট আওতাধীন হাঙ্গরঘোনা ও আমগাছতলা এলাকায় চলা এই অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্থাপনা।

প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়,রাজারকুল রেঞ্জ থেকে অতিরিক্ত কর্মী সহ পর্যাপ্ত বনকর্মী অভিযানে থাকলেও সেই কালো সোনা নিজেই ভাঙ্গছেন নির্মিতব্য স্থাপনার দেয়াল যেখানে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন উখিয়া রেঞ্জের প্রধান (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহীনুর ইসলাম।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পাশে স্থাপনা থাকলেও সেগুলো উচ্ছেদ না করে কালা সোনার মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ না করায় তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে।

হাঙ্গরঘোনা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ কালো সোনা আমাদের কাছে আতংকের নাম, সে বনের জায়গা কন্ট্রাক্টে বৈধ করায়। বনবিভাগের আসকারায় এসব ওপেন সিক্রেট।’

কালো সোনার নামে ‘উখিয়া রেঞ্জের অঘোষিত বিট কর্মকর্তা কালা সোনা!’ নানা শিরোনামে কয়েক বছর ধরে অসংখ্য সংবাদ গণমাধ্যমে আসলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

এমনকি এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা থাকলেও সরকারি অভিযানে তার অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা এবং বনবিভাগের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

যদিও অভিযোগ প্রসঙ্গে কালা সোনা বলেন, ‘ আমি পুরাতন ভিলেজার, টুকটাক বনবিভাগকে সহায়তা করি কিন্তু অবৈধ কিছু করি না।’

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘সরকারি রক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি, বনভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

এছাড়াও তিনি বনবিভাগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে তাহলে তাদের আইনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন।

ট্যাগ :

​টেকনাফ সৈকতে ভেসে এলো অসংখ্য মৃত জেলিফিশ

কথিত দালাল ‘কালা সোনা’কে সাথে নিয়ে উখিয়ায় বনবিভাগের ‘বির্তকিত’ উচ্ছেদ!

আপডেট সময় : ১০:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

নেই কোন স্থায়ী পদ-পদবী, বিলুপ্ত হওয়া ভিলেজার পরিচয়ে তিনি যেন বনবিভাগের একছত্র নিয়ন্ত্রক। উখিয়ায় লোকেমুখে তার নাম উচ্চারিত হয় রাষ্ট্রীয় সংস্থার কথিত দালাল হিসেবে।

কালা সোনা (৫০) নামে উখিয়া সদর এলাকার সেই ব্যক্তিকে দেখা গেছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে।

শনিবার (২৮ মার্চ) উখিয়া রেঞ্জের সদর বিট আওতাধীন হাঙ্গরঘোনা ও আমগাছতলা এলাকায় চলা এই অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্থাপনা।

প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়,রাজারকুল রেঞ্জ থেকে অতিরিক্ত কর্মী সহ পর্যাপ্ত বনকর্মী অভিযানে থাকলেও সেই কালো সোনা নিজেই ভাঙ্গছেন নির্মিতব্য স্থাপনার দেয়াল যেখানে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন উখিয়া রেঞ্জের প্রধান (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহীনুর ইসলাম।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পাশে স্থাপনা থাকলেও সেগুলো উচ্ছেদ না করে কালা সোনার মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ না করায় তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে।

হাঙ্গরঘোনা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ কালো সোনা আমাদের কাছে আতংকের নাম, সে বনের জায়গা কন্ট্রাক্টে বৈধ করায়। বনবিভাগের আসকারায় এসব ওপেন সিক্রেট।’

কালো সোনার নামে ‘উখিয়া রেঞ্জের অঘোষিত বিট কর্মকর্তা কালা সোনা!’ নানা শিরোনামে কয়েক বছর ধরে অসংখ্য সংবাদ গণমাধ্যমে আসলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

এমনকি এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা থাকলেও সরকারি অভিযানে তার অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা এবং বনবিভাগের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

যদিও অভিযোগ প্রসঙ্গে কালা সোনা বলেন, ‘ আমি পুরাতন ভিলেজার, টুকটাক বনবিভাগকে সহায়তা করি কিন্তু অবৈধ কিছু করি না।’

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘সরকারি রক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি, বনভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

এছাড়াও তিনি বনবিভাগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে তাহলে তাদের আইনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন।