ঢাকা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারে জেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ কক্সবাজারে একদিনে চার মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে উদ্বেগ গুপ্ত লিখে ফেইসবুক পোস্ট,উখিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৩ ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি অপহরণের ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ইউপি সদস্য রুস্তম আলী টেকনাফে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান: অপহরণ চক্র ও পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে তৎপরতা জোরদার আগুন দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশু রাইয়ানের সংকটেও বিদ্যুৎ গিলছে টমটম-ইজিবাইক স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি নিখোঁজ সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার কারচুপির অভিযোগে হামিদুর রহমানের মামলা: কক্সবাজার-২ আসনের নির্বাচনী নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে তাহসানের চুক্তি নবায়ন ঈদগড়ের ইউপি সদস্য অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি চকরিয়ায় বেড়িবাঁধ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

কথিত দালাল ‘কালা সোনা’কে সাথে নিয়ে উখিয়ায় বনবিভাগের ‘বির্তকিত’ উচ্ছেদ!

নেই কোন স্থায়ী পদ-পদবী, বিলুপ্ত হওয়া ভিলেজার পরিচয়ে তিনি যেন বনবিভাগের একছত্র নিয়ন্ত্রক। উখিয়ায় লোকেমুখে তার নাম উচ্চারিত হয় রাষ্ট্রীয় সংস্থার কথিত দালাল হিসেবে।

কালা সোনা (৫০) নামে উখিয়া সদর এলাকার সেই ব্যক্তিকে দেখা গেছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে।

শনিবার (২৮ মার্চ) উখিয়া রেঞ্জের সদর বিট আওতাধীন হাঙ্গরঘোনা ও আমগাছতলা এলাকায় চলা এই অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্থাপনা।

প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়,রাজারকুল রেঞ্জ থেকে অতিরিক্ত কর্মী সহ পর্যাপ্ত বনকর্মী অভিযানে থাকলেও সেই কালো সোনা নিজেই ভাঙ্গছেন নির্মিতব্য স্থাপনার দেয়াল যেখানে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন উখিয়া রেঞ্জের প্রধান (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহীনুর ইসলাম।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পাশে স্থাপনা থাকলেও সেগুলো উচ্ছেদ না করে কালা সোনার মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ না করায় তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে।

হাঙ্গরঘোনা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ কালো সোনা আমাদের কাছে আতংকের নাম, সে বনের জায়গা কন্ট্রাক্টে বৈধ করায়। বনবিভাগের আসকারায় এসব ওপেন সিক্রেট।’

কালো সোনার নামে ‘উখিয়া রেঞ্জের অঘোষিত বিট কর্মকর্তা কালা সোনা!’ নানা শিরোনামে কয়েক বছর ধরে অসংখ্য সংবাদ গণমাধ্যমে আসলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

এমনকি এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা থাকলেও সরকারি অভিযানে তার অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা এবং বনবিভাগের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

যদিও অভিযোগ প্রসঙ্গে কালা সোনা বলেন, ‘ আমি পুরাতন ভিলেজার, টুকটাক বনবিভাগকে সহায়তা করি কিন্তু অবৈধ কিছু করি না।’

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘সরকারি রক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি, বনভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

এছাড়াও তিনি বনবিভাগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে তাহলে তাদের আইনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারে জেলা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

কথিত দালাল ‘কালা সোনা’কে সাথে নিয়ে উখিয়ায় বনবিভাগের ‘বির্তকিত’ উচ্ছেদ!

আপডেট সময় : ১০:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

নেই কোন স্থায়ী পদ-পদবী, বিলুপ্ত হওয়া ভিলেজার পরিচয়ে তিনি যেন বনবিভাগের একছত্র নিয়ন্ত্রক। উখিয়ায় লোকেমুখে তার নাম উচ্চারিত হয় রাষ্ট্রীয় সংস্থার কথিত দালাল হিসেবে।

কালা সোনা (৫০) নামে উখিয়া সদর এলাকার সেই ব্যক্তিকে দেখা গেছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে।

শনিবার (২৮ মার্চ) উখিয়া রেঞ্জের সদর বিট আওতাধীন হাঙ্গরঘোনা ও আমগাছতলা এলাকায় চলা এই অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্থাপনা।

প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়,রাজারকুল রেঞ্জ থেকে অতিরিক্ত কর্মী সহ পর্যাপ্ত বনকর্মী অভিযানে থাকলেও সেই কালো সোনা নিজেই ভাঙ্গছেন নির্মিতব্য স্থাপনার দেয়াল যেখানে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন উখিয়া রেঞ্জের প্রধান (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহীনুর ইসলাম।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পাশে স্থাপনা থাকলেও সেগুলো উচ্ছেদ না করে কালা সোনার মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ না করায় তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে।

হাঙ্গরঘোনা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ কালো সোনা আমাদের কাছে আতংকের নাম, সে বনের জায়গা কন্ট্রাক্টে বৈধ করায়। বনবিভাগের আসকারায় এসব ওপেন সিক্রেট।’

কালো সোনার নামে ‘উখিয়া রেঞ্জের অঘোষিত বিট কর্মকর্তা কালা সোনা!’ নানা শিরোনামে কয়েক বছর ধরে অসংখ্য সংবাদ গণমাধ্যমে আসলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

এমনকি এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা থাকলেও সরকারি অভিযানে তার অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা এবং বনবিভাগের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

যদিও অভিযোগ প্রসঙ্গে কালা সোনা বলেন, ‘ আমি পুরাতন ভিলেজার, টুকটাক বনবিভাগকে সহায়তা করি কিন্তু অবৈধ কিছু করি না।’

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘সরকারি রক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি, বনভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

এছাড়াও তিনি বনবিভাগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে তাহলে তাদের আইনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন।