ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎লাখ টাকার মিশনে নেমেও ঈদে বাড়ি ফেরা হলোনা শাহীন ডাকাতের:ফের আটক ডিবির হাতে জাতীয় দলে ফিরলেন চকরিয়ার জিকু শিল্পী রাজীব বড়ুয়া পরলোকে, শেষকৃত্য সম্পন্ন আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলির ঘটনায় উদ্বেগ জেলা আইনজীবী সমিতির,পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জামিনে বেরিয়ে ফের আটক গর্জনিয়ার আলোচিত শাহীন ডাকাত টেকনাফে টাকা দিয়ে সাংবাদিক কার্ড সংগ্রহ, ইয়াবা পাচারে আটক ভুয়া সাংবাদিক সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না, নির্মূল করা হবে ঈদের আনন্দ কেড়ে নিল আগুন, খোলা আকাশের নিচে শত পরিবার চকরিয়ায় ডাম্পারের ধাক্কায় নছিমন চালক নিহত পেকুয়ায় বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু ঈদকে সামনে রেখে পর্যটন শহরে নিরাপত্তা ও সেবায় বিশেষ উদ্যোগ কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের দুই জামাত সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় পবিত্র হজ আজ সীমান্ত শহরে ব্রাজিল উন্মাদনা মহাসড়কে কোরবানির পশুর হাট, যানজটে ভোগান্তি

লারিজানির উত্তরসূরি হচ্ছেন কে, ইরানের নিরাপত্তা পরিষদে বড় পরিবর্তনের আভাস

ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তার শূন্যস্থান পূরণ করাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

লারিজানিকে কেবল একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদই নয়, বরং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং এক দক্ষ আলোচক হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যিনি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতেন।

ইরানের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরবর্তী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে প্রভাবশালী এবং কট্টরপন্থি নেতা সাঈদ জলিলি এই পদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিরাই জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। লারিজানির অনুপস্থিতিতে জলিলি এখন সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প, কারণ এর আগেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান পরমাণু আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ও ইরান বিশেষজ্ঞ আরশ আজিজি মনে করেন, সাঈদ জলিলির এই পদে আসীন হওয়া হবে ইরানের নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। লারিজানি যেখানে মধ্যপন্থি ও বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, জলিলি সেখানে একজন কট্টর পশ্চিম-বিরোধী এবং চরমপন্থি হিসেবে পরিচিত। আজিজি সতর্ক করে বলেন, জলিলির অনমনীয়তা ও চরমপন্থা বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে ইরানের কূটনৈতিক কৌশলী হওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে।

এদিকে, ইরানের ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি যেহেতু এলিট রিভল্যুশনারি গার্ডসের হাতে, তাই তারা হয়তো এমন কাউকে খুঁজছে যার সামরিক অভিজ্ঞতা বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেশি কার্যকর হবে। লারিজানির উত্তরসূরি যেই হোন না কেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনার ভারসাম্য এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ। লারিজানির মৃত্যুর পর এক বার্তায় সাঈদ জলিলি অবশ্য দাবি করেছেন যে, এসব হত্যাকাণ্ড শত্রুপক্ষকে তাদের পরাজয় ও অবমাননা থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

সূত্র: সিএনএন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‎লাখ টাকার মিশনে নেমেও ঈদে বাড়ি ফেরা হলোনা শাহীন ডাকাতের:ফের আটক ডিবির হাতে

লারিজানির উত্তরসূরি হচ্ছেন কে, ইরানের নিরাপত্তা পরিষদে বড় পরিবর্তনের আভাস

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তার শূন্যস্থান পূরণ করাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

লারিজানিকে কেবল একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদই নয়, বরং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং এক দক্ষ আলোচক হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যিনি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতেন।

ইরানের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরবর্তী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে প্রভাবশালী এবং কট্টরপন্থি নেতা সাঈদ জলিলি এই পদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিরাই জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। লারিজানির অনুপস্থিতিতে জলিলি এখন সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প, কারণ এর আগেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান পরমাণু আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ও ইরান বিশেষজ্ঞ আরশ আজিজি মনে করেন, সাঈদ জলিলির এই পদে আসীন হওয়া হবে ইরানের নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। লারিজানি যেখানে মধ্যপন্থি ও বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, জলিলি সেখানে একজন কট্টর পশ্চিম-বিরোধী এবং চরমপন্থি হিসেবে পরিচিত। আজিজি সতর্ক করে বলেন, জলিলির অনমনীয়তা ও চরমপন্থা বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে ইরানের কূটনৈতিক কৌশলী হওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে।

এদিকে, ইরানের ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি যেহেতু এলিট রিভল্যুশনারি গার্ডসের হাতে, তাই তারা হয়তো এমন কাউকে খুঁজছে যার সামরিক অভিজ্ঞতা বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেশি কার্যকর হবে। লারিজানির উত্তরসূরি যেই হোন না কেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনার ভারসাম্য এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ। লারিজানির মৃত্যুর পর এক বার্তায় সাঈদ জলিলি অবশ্য দাবি করেছেন যে, এসব হত্যাকাণ্ড শত্রুপক্ষকে তাদের পরাজয় ও অবমাননা থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

সূত্র: সিএনএন।