ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে পেকুয়ার কয়েক’শ বসতি রামুতে ​শ্রী শ্রী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির দখলের অভিযোগ শহীদ জিয়া স্মৃতি গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রবাসী কিংস চট্টগ্রাম চ্যাম্পিয়ন সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের সংকটের শঙ্কা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ১০ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ হাজার- আরসিপি উখিয়ায় জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত ৪৫ আশ্রয়কেন্দ্র ফের পাহাড়ধস : দরিয়ানগরে নারীর মৃত্যু সোনাদিয়ায় পানির গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু রেললাইনে পানি, ঢাকা-কক্সবাজার রোডে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাতে মিশরের ঐতিহাসিক ম্যাচে প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল, অক্টোবরে ভোটগ্রহণ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল ইয়াবা দিয়ে উখিয়ায় সংগীতশিল্পী ও তার স্ত্রীকে ফাঁসানোর অভিযোগ মৃত্যুর বর্ষণ: কক্সবাজার-নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে নিহত ১১

লারিজানির উত্তরসূরি হচ্ছেন কে, ইরানের নিরাপত্তা পরিষদে বড় পরিবর্তনের আভাস

ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তার শূন্যস্থান পূরণ করাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

লারিজানিকে কেবল একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদই নয়, বরং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং এক দক্ষ আলোচক হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যিনি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতেন।

ইরানের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরবর্তী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে প্রভাবশালী এবং কট্টরপন্থি নেতা সাঈদ জলিলি এই পদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিরাই জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। লারিজানির অনুপস্থিতিতে জলিলি এখন সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প, কারণ এর আগেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান পরমাণু আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ও ইরান বিশেষজ্ঞ আরশ আজিজি মনে করেন, সাঈদ জলিলির এই পদে আসীন হওয়া হবে ইরানের নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। লারিজানি যেখানে মধ্যপন্থি ও বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, জলিলি সেখানে একজন কট্টর পশ্চিম-বিরোধী এবং চরমপন্থি হিসেবে পরিচিত। আজিজি সতর্ক করে বলেন, জলিলির অনমনীয়তা ও চরমপন্থা বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে ইরানের কূটনৈতিক কৌশলী হওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে।

এদিকে, ইরানের ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি যেহেতু এলিট রিভল্যুশনারি গার্ডসের হাতে, তাই তারা হয়তো এমন কাউকে খুঁজছে যার সামরিক অভিজ্ঞতা বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেশি কার্যকর হবে। লারিজানির উত্তরসূরি যেই হোন না কেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনার ভারসাম্য এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ। লারিজানির মৃত্যুর পর এক বার্তায় সাঈদ জলিলি অবশ্য দাবি করেছেন যে, এসব হত্যাকাণ্ড শত্রুপক্ষকে তাদের পরাজয় ও অবমাননা থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

সূত্র: সিএনএন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে পেকুয়ার কয়েক’শ বসতি

লারিজানির উত্তরসূরি হচ্ছেন কে, ইরানের নিরাপত্তা পরিষদে বড় পরিবর্তনের আভাস

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তার শূন্যস্থান পূরণ করাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

লারিজানিকে কেবল একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদই নয়, বরং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং এক দক্ষ আলোচক হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যিনি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতেন।

ইরানের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরবর্তী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে প্রভাবশালী এবং কট্টরপন্থি নেতা সাঈদ জলিলি এই পদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিরাই জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। লারিজানির অনুপস্থিতিতে জলিলি এখন সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প, কারণ এর আগেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান পরমাণু আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ও ইরান বিশেষজ্ঞ আরশ আজিজি মনে করেন, সাঈদ জলিলির এই পদে আসীন হওয়া হবে ইরানের নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। লারিজানি যেখানে মধ্যপন্থি ও বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, জলিলি সেখানে একজন কট্টর পশ্চিম-বিরোধী এবং চরমপন্থি হিসেবে পরিচিত। আজিজি সতর্ক করে বলেন, জলিলির অনমনীয়তা ও চরমপন্থা বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে ইরানের কূটনৈতিক কৌশলী হওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে।

এদিকে, ইরানের ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি যেহেতু এলিট রিভল্যুশনারি গার্ডসের হাতে, তাই তারা হয়তো এমন কাউকে খুঁজছে যার সামরিক অভিজ্ঞতা বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেশি কার্যকর হবে। লারিজানির উত্তরসূরি যেই হোন না কেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনার ভারসাম্য এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ। লারিজানির মৃত্যুর পর এক বার্তায় সাঈদ জলিলি অবশ্য দাবি করেছেন যে, এসব হত্যাকাণ্ড শত্রুপক্ষকে তাদের পরাজয় ও অবমাননা থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

সূত্র: সিএনএন।