ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১০০টিরও বেশি আসন লুট করে নিয়েছে বিজেপি: মমতা কক্সবাজার ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে বরণে নেতাকর্মীদের ঢল সংরক্ষিত বনে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য টেকনাফে গণধর্ষণ ও অপহরণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার মাটি খুঁড়ে ফের বিপুল মাদক-অস্ত্র পেলো নৌবাহিনী মাছের ব্যাগে ৩০ হাজার ইয়াবা, যুবক আটক উখিয়ায় হত্যা, অপহরণসহ একাধিক মামলার আসামী গ্রেফতার কক্সবাজারে শুরু হয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা পাচারকারীর ব্যাগে ৫০ হাজার ইয়াবা কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু, মোট ১৩ শিশুর মৃত্যু  নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি সাচিং প্রু জেরি জেলা ছাত্রদলের কমিটি: নেতৃত্বের পরিবর্তন নাকি অমীমাংসিত সমিকরণ! কচ্ছপিয়ায় ৫০ হাজার ইয়াবা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে যুবক , বিজিবির ব্যর্থ অভিযান জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি: নতুন নেতৃত্বের ঐক্যের বার্তার বিপরীতে ক্ষোভ–বঞ্চনার প্রকাশ.. কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে বিপাকে লবণ চাষিরা, বন্ধ উৎপাদন, বাড়ছে দুশ্চিন্তা

লারিজানির উত্তরসূরি হচ্ছেন কে, ইরানের নিরাপত্তা পরিষদে বড় পরিবর্তনের আভাস

ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তার শূন্যস্থান পূরণ করাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

লারিজানিকে কেবল একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদই নয়, বরং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং এক দক্ষ আলোচক হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যিনি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতেন।

ইরানের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরবর্তী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে প্রভাবশালী এবং কট্টরপন্থি নেতা সাঈদ জলিলি এই পদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিরাই জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। লারিজানির অনুপস্থিতিতে জলিলি এখন সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প, কারণ এর আগেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান পরমাণু আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ও ইরান বিশেষজ্ঞ আরশ আজিজি মনে করেন, সাঈদ জলিলির এই পদে আসীন হওয়া হবে ইরানের নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। লারিজানি যেখানে মধ্যপন্থি ও বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, জলিলি সেখানে একজন কট্টর পশ্চিম-বিরোধী এবং চরমপন্থি হিসেবে পরিচিত। আজিজি সতর্ক করে বলেন, জলিলির অনমনীয়তা ও চরমপন্থা বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে ইরানের কূটনৈতিক কৌশলী হওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে।

এদিকে, ইরানের ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি যেহেতু এলিট রিভল্যুশনারি গার্ডসের হাতে, তাই তারা হয়তো এমন কাউকে খুঁজছে যার সামরিক অভিজ্ঞতা বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেশি কার্যকর হবে। লারিজানির উত্তরসূরি যেই হোন না কেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনার ভারসাম্য এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ। লারিজানির মৃত্যুর পর এক বার্তায় সাঈদ জলিলি অবশ্য দাবি করেছেন যে, এসব হত্যাকাণ্ড শত্রুপক্ষকে তাদের পরাজয় ও অবমাননা থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

সূত্র: সিএনএন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

লারিজানির উত্তরসূরি হচ্ছেন কে, ইরানের নিরাপত্তা পরিষদে বড় পরিবর্তনের আভাস

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তার শূন্যস্থান পূরণ করাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

লারিজানিকে কেবল একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদই নয়, বরং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং এক দক্ষ আলোচক হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যিনি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতেন।

ইরানের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরবর্তী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে প্রভাবশালী এবং কট্টরপন্থি নেতা সাঈদ জলিলি এই পদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিরাই জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। লারিজানির অনুপস্থিতিতে জলিলি এখন সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প, কারণ এর আগেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান পরমাণু আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ও ইরান বিশেষজ্ঞ আরশ আজিজি মনে করেন, সাঈদ জলিলির এই পদে আসীন হওয়া হবে ইরানের নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। লারিজানি যেখানে মধ্যপন্থি ও বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, জলিলি সেখানে একজন কট্টর পশ্চিম-বিরোধী এবং চরমপন্থি হিসেবে পরিচিত। আজিজি সতর্ক করে বলেন, জলিলির অনমনীয়তা ও চরমপন্থা বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে ইরানের কূটনৈতিক কৌশলী হওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে।

এদিকে, ইরানের ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি যেহেতু এলিট রিভল্যুশনারি গার্ডসের হাতে, তাই তারা হয়তো এমন কাউকে খুঁজছে যার সামরিক অভিজ্ঞতা বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেশি কার্যকর হবে। লারিজানির উত্তরসূরি যেই হোন না কেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনার ভারসাম্য এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ। লারিজানির মৃত্যুর পর এক বার্তায় সাঈদ জলিলি অবশ্য দাবি করেছেন যে, এসব হত্যাকাণ্ড শত্রুপক্ষকে তাদের পরাজয় ও অবমাননা থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

সূত্র: সিএনএন।