ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হয়েছে: আইজিপি ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্কবার্তা দিল মার্কিন দূতাবাস সারা দেশে টানা পাঁচদিন বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে না পারলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না: নাহিদ ইসলাম বিয়ের বাড়ি সাজাতে গিয়ে নিভে গেল সাইফুলের জীবন প্রদীপ বিজিবির ৪টি পৃথক অভিযান : ২ লাখ ৯৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২ দ্রুত গলছে এভারেস্টের হিমবাহ, দায়ী মানুষের প্রস্রাবও লোহাগাড়ায় টিউশনিতে যাওয়ার পথে শিক্ষকের ওপর হামলা, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ৮ মা’ম’লার আ’সা’মী শহরের শীর্ষ ছি’ন’তা’ইকা’রী বাবু আটক কক্সবাজারে জন্মাষ্টমী উদযাপন : শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ মানবসমাজকে সম্প্রীতির শিক্ষা দেয় কক্সবাজারে ২ হাজার আইফোন, শতাধিক ল্যাপটপসহ ৬ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার কক্সবাজারে অসুস্থ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত হয়নি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য সংসদে দুই হাত তুলে দোয়া করলেন জামায়াত আমির

লারিজানির উত্তরসূরি হচ্ছেন কে, ইরানের নিরাপত্তা পরিষদে বড় পরিবর্তনের আভাস

ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তার শূন্যস্থান পূরণ করাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

লারিজানিকে কেবল একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদই নয়, বরং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং এক দক্ষ আলোচক হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যিনি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতেন।

ইরানের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরবর্তী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে প্রভাবশালী এবং কট্টরপন্থি নেতা সাঈদ জলিলি এই পদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিরাই জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। লারিজানির অনুপস্থিতিতে জলিলি এখন সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প, কারণ এর আগেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান পরমাণু আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ও ইরান বিশেষজ্ঞ আরশ আজিজি মনে করেন, সাঈদ জলিলির এই পদে আসীন হওয়া হবে ইরানের নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। লারিজানি যেখানে মধ্যপন্থি ও বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, জলিলি সেখানে একজন কট্টর পশ্চিম-বিরোধী এবং চরমপন্থি হিসেবে পরিচিত। আজিজি সতর্ক করে বলেন, জলিলির অনমনীয়তা ও চরমপন্থা বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে ইরানের কূটনৈতিক কৌশলী হওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে।

এদিকে, ইরানের ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি যেহেতু এলিট রিভল্যুশনারি গার্ডসের হাতে, তাই তারা হয়তো এমন কাউকে খুঁজছে যার সামরিক অভিজ্ঞতা বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেশি কার্যকর হবে। লারিজানির উত্তরসূরি যেই হোন না কেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনার ভারসাম্য এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ। লারিজানির মৃত্যুর পর এক বার্তায় সাঈদ জলিলি অবশ্য দাবি করেছেন যে, এসব হত্যাকাণ্ড শত্রুপক্ষকে তাদের পরাজয় ও অবমাননা থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

সূত্র: সিএনএন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

লারিজানির উত্তরসূরি হচ্ছেন কে, ইরানের নিরাপত্তা পরিষদে বড় পরিবর্তনের আভাস

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর তার শূন্যস্থান পূরণ করাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

লারিজানিকে কেবল একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদই নয়, বরং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং এক দক্ষ আলোচক হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যিনি দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতেন।

ইরানের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরবর্তী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে প্রভাবশালী এবং কট্টরপন্থি নেতা সাঈদ জলিলি এই পদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিরাই জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। লারিজানির অনুপস্থিতিতে জলিলি এখন সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প, কারণ এর আগেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান পরমাণু আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ও ইরান বিশেষজ্ঞ আরশ আজিজি মনে করেন, সাঈদ জলিলির এই পদে আসীন হওয়া হবে ইরানের নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। লারিজানি যেখানে মধ্যপন্থি ও বাস্তববাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, জলিলি সেখানে একজন কট্টর পশ্চিম-বিরোধী এবং চরমপন্থি হিসেবে পরিচিত। আজিজি সতর্ক করে বলেন, জলিলির অনমনীয়তা ও চরমপন্থা বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে ইরানের কূটনৈতিক কৌশলী হওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে।

এদিকে, ইরানের ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি যেহেতু এলিট রিভল্যুশনারি গার্ডসের হাতে, তাই তারা হয়তো এমন কাউকে খুঁজছে যার সামরিক অভিজ্ঞতা বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বেশি কার্যকর হবে। লারিজানির উত্তরসূরি যেই হোন না কেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনার ভারসাম্য এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ। লারিজানির মৃত্যুর পর এক বার্তায় সাঈদ জলিলি অবশ্য দাবি করেছেন যে, এসব হত্যাকাণ্ড শত্রুপক্ষকে তাদের পরাজয় ও অবমাননা থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

সূত্র: সিএনএন।