ঢাকা ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীলঙ্কার দুই জেলে কে নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে- ওসি মহেশখালী এস আলম বাসের ধাক্কায় টমটম উল্টে নারীর মৃত্যু উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সমাবেশের ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা, আসামী ১১৪, গ্রেফতার ২ উখিয়ার পর রামু : নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা সভাপতির ঘোষনা অনুযায়ী বাইক শো ডাউন ও মিছিল আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী ​টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্ত নিরাপত্তা ও ৬ দফা নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ‘নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন’-এর বৈঠক ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি এ্যালায়েন্স’কক্সবাজার জেলা কমিটি ঘোষণা কাউন্সিলর একরাম হত্যা: হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে কক্সবাজারের মেয়ে ইয়াশনা ইকতার এসএসসি ফল প্রকাশের সাম্ভব্য তারিখ জানা গেল বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন পারিবারিক কলহের জেরে মা-বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করে ছেলে : পুলিশ কোনো একসময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবির বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম

১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সীরা আর কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার(১ জুন) থেকেই মালয়েশিয়ায় এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে শুরু করেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবসহ যেসব প্ল্যাটফর্মের ৮০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে, সেগুলোকে এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, শিশুদের অনলাইন দুনিয়ায় নিরাপদ রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়া সরকার বলছে, সামাজিক মাধ্যম শিশুদের জন্য সব সময় নিরাপদ নয়। এখানে অনেক সময় নেতিবাচক কনটেন্ট, সাইবার বুলিং ও অতিরিক্ত আসক্তির ঝুঁকি থাকে। এই মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকি থেকে শিশুদের দূরে রাখতেই ১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বড় বড় সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হবে। যদি কোনো অ্যাকাউন্ট ১৬ বছরের কম বয়সী কারও বলে শনাক্ত হয়, তবে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার আগে ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের ছবি, ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য ডাউনলোড করে রাখার জন্য এক মাস সময় পাবে। এই নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার অনেক পরিবার সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। অভিভাবকদের মতে, এতে শিশুরা ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বের হয়ে বই পড়া, খেলাধুলা ও বাস্তব জীবনের কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, সামাজিক মাধ্যম শিশুদের অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ ও আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়। এক অভিভাবক তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সন্তানরা নিরাপদে বড় হোক, ভুল কিছুর প্রভাব যেন তাদের ওপর না পড়ে।’

তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সবাই পুরোপুরি একমত হতে পারছেন না। কিছু পরিবার মনে করছে, সামাজিক মাধ্যম এখন কেবল বিনোদন নয়, এটি শেখারও বড় জায়গা। ইউটিউব বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিশুরা অনেক শিক্ষণীয় বিষয় জানতে পারে। তাই এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভালো উদ্দেশ্য থাকলেও এটি বাস্তবে কতটা কার্যকর করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। কারণ অনেক সময় বয়স লুকিয়ে বা ভুয়া তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। আবার বয়স যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হলে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

সূত্র: আরটিভি

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কার দুই জেলে কে নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে- ওসি মহেশখালী

মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম

আপডেট সময় : ১১:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সীরা আর কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার(১ জুন) থেকেই মালয়েশিয়ায় এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে শুরু করেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবসহ যেসব প্ল্যাটফর্মের ৮০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে, সেগুলোকে এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, শিশুদের অনলাইন দুনিয়ায় নিরাপদ রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়া সরকার বলছে, সামাজিক মাধ্যম শিশুদের জন্য সব সময় নিরাপদ নয়। এখানে অনেক সময় নেতিবাচক কনটেন্ট, সাইবার বুলিং ও অতিরিক্ত আসক্তির ঝুঁকি থাকে। এই মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকি থেকে শিশুদের দূরে রাখতেই ১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বড় বড় সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হবে। যদি কোনো অ্যাকাউন্ট ১৬ বছরের কম বয়সী কারও বলে শনাক্ত হয়, তবে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার আগে ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের ছবি, ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য ডাউনলোড করে রাখার জন্য এক মাস সময় পাবে। এই নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার অনেক পরিবার সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। অভিভাবকদের মতে, এতে শিশুরা ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বের হয়ে বই পড়া, খেলাধুলা ও বাস্তব জীবনের কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, সামাজিক মাধ্যম শিশুদের অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ ও আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়। এক অভিভাবক তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সন্তানরা নিরাপদে বড় হোক, ভুল কিছুর প্রভাব যেন তাদের ওপর না পড়ে।’

তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সবাই পুরোপুরি একমত হতে পারছেন না। কিছু পরিবার মনে করছে, সামাজিক মাধ্যম এখন কেবল বিনোদন নয়, এটি শেখারও বড় জায়গা। ইউটিউব বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিশুরা অনেক শিক্ষণীয় বিষয় জানতে পারে। তাই এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভালো উদ্দেশ্য থাকলেও এটি বাস্তবে কতটা কার্যকর করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। কারণ অনেক সময় বয়স লুকিয়ে বা ভুয়া তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। আবার বয়স যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হলে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

সূত্র: আরটিভি