ঢাকা ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইয়াবা দিয়ে উখিয়ায় সংগীতশিল্পী ও তার স্ত্রীকে ফাঁসানোর অভিযোগ মৃত্যুর বর্ষণ: কক্সবাজার-নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে নিহত ১১ বৃষ্টি বাধ সাধেনি: শেষ হলো এইচএসসি ও সমমানের তৃতীয় দিনের পরীক্ষা, নকলের দায়ে বহিস্কৃত ২ টানা বৃষ্টিতে লামার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : প্রশাসনের সতর্কতা জারি লোহাগাড়ায় টানা বৃষ্টি :পানিবন্দী অসংখ্য মানুষ সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ সাত মামলার আসামি কচ্ছপিয়ার ইউপি সদস্য শাকিলকে ঘিরে সীমান্ত চোরাচালানের অভিযোগ বৈরী আবহাওয়ায় মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাক ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও ঢলের পানিতে মৃত্যু, দুর্ভোগে নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষ জামায়াতকে সাধুবাদ, শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে বাধা নেই: রুমিন ফারহানা কক্সবাজার ফিশারী ঘাটে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক ফিশ ল্যান্ডিং স্টেশন : মৎস্য খাতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন কক্সবাজারে বিদেশি নারী পর্যটককে ধ/র্ষ/ণ চেষ্টা : তিনজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড পেকুয়ায় পাহাড় ধসে এক শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ

যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত করা হবে না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, জব্দ থাকা অর্থ নিয়ে চলমান যে অচলাবস্থা, তা নিয়ে সমঝোতার সুযোগ তেমন একটা নেই। গতকাল রোববার প্রচারিত এনবিসি নিউজের অনুষ্ঠান মিট দ্য প্রেসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করার প্রশ্নটি কেবল চুক্তি হওয়ার পরই বিবেচনায় আসবে। তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি ভালো আচরণ করে, যদি ভালো কাজ করে, তাহলে আমরা আলোচনা শুরু করব।’

ইরান বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে, তেহরানের জব্দ থাকা সম্পদের অন্তত একাংশ অবমুক্ত না হলে চুক্তি না–ও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে গভীর অবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেই তারা এ অবস্থান নিয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা সামরিক অভিযান চালায়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এ কারণেই চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প বলে আসছেন, সমঝোতা এই হলো বলে। তবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও জব্দ থাকা সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তেমন ইঙ্গিত নেই।

কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দিচ্ছেন। গত শুক্রবার উইসকনসিন সফরের সময় এক খামারবাড়িতে ধারণ করা এনবিসির সাক্ষাৎকারেও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয় চুক্তির খুব কাছাকাছি, নয়তো আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালাব।’

অন্যদিকে গত শনিবার সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আলোচনায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জব্দ থাকা সম্পদ

যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদ জব্দ অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি হয়। কথা ছিল, এই চুক্তির আওতায় ধীরে ধীরে এসব সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবে তেহরান।

ওই চুক্তির অধীনে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল, বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্প ২০১৮ সালে একতরফাভাবে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান বর্তমানে ১২ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার জব্দ থাকা অর্থ ছাড়ের দাবি করছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, চুক্তি সইয়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্ধেক অর্থ ছাড় করতে হবে এবং বাকি অর্ধেক পরবর্তী ধাপে।

রেজায়ী এই অর্থছাড়ের বিষয়কে ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি খামেনির সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরুর পরপরই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নেতৃত্বে আসেন।

গত ৮ এপ্রিল থেকে বড় ধরনের সংঘাত অনেকটা থেমে থাকলেও দুই পক্ষ মাঝেমধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি কোথায় আছেন, তা আমি জানি কি না—সেটা বলতে চাই না। তবে আমার জানার সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশি।’

সংঘাতের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে খামেনিকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তিনি করছেন না।

লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান হামলার কারণে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ইরান এই হামলার বিরোধিতা করছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা এবং ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধের জবাবে তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।

একই দিন আল–জাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, লেবাননের সংঘাতের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ‘সম্পূর্ণভাবে হিজবুল্লাহকেই দায়ী’ মনে করে।

সূত্র:আল–জাজিরা

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়াবা দিয়ে উখিয়ায় সংগীতশিল্পী ও তার স্ত্রীকে ফাঁসানোর অভিযোগ

যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত করা হবে না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১২:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, জব্দ থাকা অর্থ নিয়ে চলমান যে অচলাবস্থা, তা নিয়ে সমঝোতার সুযোগ তেমন একটা নেই। গতকাল রোববার প্রচারিত এনবিসি নিউজের অনুষ্ঠান মিট দ্য প্রেসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করার প্রশ্নটি কেবল চুক্তি হওয়ার পরই বিবেচনায় আসবে। তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি ভালো আচরণ করে, যদি ভালো কাজ করে, তাহলে আমরা আলোচনা শুরু করব।’

ইরান বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে, তেহরানের জব্দ থাকা সম্পদের অন্তত একাংশ অবমুক্ত না হলে চুক্তি না–ও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে গভীর অবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেই তারা এ অবস্থান নিয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা সামরিক অভিযান চালায়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এ কারণেই চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প বলে আসছেন, সমঝোতা এই হলো বলে। তবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও জব্দ থাকা সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তেমন ইঙ্গিত নেই।

কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দিচ্ছেন। গত শুক্রবার উইসকনসিন সফরের সময় এক খামারবাড়িতে ধারণ করা এনবিসির সাক্ষাৎকারেও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয় চুক্তির খুব কাছাকাছি, নয়তো আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালাব।’

অন্যদিকে গত শনিবার সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আলোচনায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জব্দ থাকা সম্পদ

যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদ জব্দ অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি হয়। কথা ছিল, এই চুক্তির আওতায় ধীরে ধীরে এসব সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবে তেহরান।

ওই চুক্তির অধীনে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল, বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্প ২০১৮ সালে একতরফাভাবে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান বর্তমানে ১২ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার জব্দ থাকা অর্থ ছাড়ের দাবি করছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, চুক্তি সইয়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্ধেক অর্থ ছাড় করতে হবে এবং বাকি অর্ধেক পরবর্তী ধাপে।

রেজায়ী এই অর্থছাড়ের বিষয়কে ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি খামেনির সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরুর পরপরই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নেতৃত্বে আসেন।

গত ৮ এপ্রিল থেকে বড় ধরনের সংঘাত অনেকটা থেমে থাকলেও দুই পক্ষ মাঝেমধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি কোথায় আছেন, তা আমি জানি কি না—সেটা বলতে চাই না। তবে আমার জানার সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশি।’

সংঘাতের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে খামেনিকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তিনি করছেন না।

লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান হামলার কারণে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ইরান এই হামলার বিরোধিতা করছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা এবং ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধের জবাবে তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।

একই দিন আল–জাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, লেবাননের সংঘাতের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ‘সম্পূর্ণভাবে হিজবুল্লাহকেই দায়ী’ মনে করে।

সূত্র:আল–জাজিরা