ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেরিন ড্রাইভে মিনিট্রাক উল্টে আহত ৮ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভায় এমপি স্বপ্না- গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে এখন গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে টেকনাফে র‍্যাবের অভিযান: অপহৃত ৩ রোহিঙ্গা উদ্ধার, গ্রেফতার ১ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ১০ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনের দুই বছর: শহীদ ওয়াসিমের কবরে প্রশাসনের শ্রদ্ধা বাংলাদেশ আর কখনো তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না: প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১’র মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের আর ২৪’র গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বাধীনতা রক্ষার: প্রধানমন্ত্রী শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবে রূপ পায়নি : নাহিদ ইসলাম জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ইতিহাসের নতুন পর্যায় সৃষ্টি করেছে: ড. ইউনূস কক্সবাজারে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ্য, দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি থাইংখালীতে জমিদখলের চেষ্টা, ১৪৪ ধারায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার আদেশ আদালতের ​পেকুয়ায় মায়ের সঙ্গে অভিমানে কিশোরের আত্মহত্যা হৃদরোগে আক্রান্ত : ইনানীর বে ওয়াচ রিসোর্টের সুইমিংপুলে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলি : আহত ১১ মাসের শিশু

৭৫ মিনিটের পর ১১ গোল: আর্জেন্টিনা যেন ঘুরে দাঁড়ানোর অন্য নাম

আটলান্টায় শেষ বাঁশি বাজার পর নতুন এক পাতার সংযোজন হলো রেকর্ড বইয়ে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ফাইনালে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দুই চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে। আর্জেন্টিনার প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেন। সে হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি হবে স্প্যানিশ ভাষার দুটি দলের মধ্যে দ্বিতীয় ফাইনাল। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে উরুগুয়ে–আর্জেন্টিনা ফাইনাল তালিকায় প্রথম।

ফাইনাল আগেই নিশ্চিত করেছে সর্বশেষ ইউরোজয়ী স্পেন। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হওয়া গতকাল রাতে নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটে হজম করা গোলে আর্জেন্টিনাই পিছিয়ে পড়েছিল ম্যাচে। এরপর ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ ও যোগ করা (৯০+২) সময়ে লাওতারো মার্তিনেজের গোলে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করে কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনা যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল

৫৫ মিনিটে ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডনের গোলের পর ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের মাঝে এই ৩১ মিনিটে ইংল্যান্ডের বলের দখল ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। অ্যাটাকিং থার্ডে মাত্র ৯ বার বল ছুঁতে পেরেছে ইংল্যান্ড, যেটা তাদের প্রতিপক্ষের চেয়ে ১৬৫ বার কম।

ব্যাপারটা অপ্রত্যাশিত নয়। মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষেও এগিয়ে থেকে খেলোয়াড়দের রক্ষণভাগে নেমে এসে চাপ সামলানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। পাশাপাশি বেঞ্চ থেকে ডিফেন্ডার ড্যান বার্নকে নামানোই বলে দিচ্ছিল গোল বাঁচানোই ইংল্যান্ডের আসল লক্ষ্য।

কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের বিপক্ষে চাপ সামলানো আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি ইংল্যান্ডের পক্ষে। পাশাপাশি চাপে পড়ে শেষ দিকে দু–একটি গোল আদায় করে ম্যাচ বের করাটা তো এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ‘সিগনেচার মার্ক। ’দুটি গোলের উৎস লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোয় মূল ভূমিকা পালন করেন। ইংল্যান্ড রক্ষণভাগে পুরোপুরি গুটিয়ে থাকায় বক্সের বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পান মেসি। ডান প্রান্ত দিয়ে কখনো ক্রস, কখনো বক্সে ঢুকে বেশ বিপজ্জনক কিছু পাস দেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। শুধু মেসি নয়, বদলি নামা রদ্রিগো দি পলের ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসাটা ছিল ইংল্যান্ডের জন্য বড় সতর্কবার্তা।

বক্সের বাইরে থেকে ফার্নান্দেজের শটটি ছিল দুর্দান্ত। সেটা সমতাসূচক গোল। এরপরই মেসির জাদুকরি মুহূর্ত—দুর্বল ডান পা দিয়ে দূরের পোস্টে নিখুঁত ক্রস দেন, যেখান থেকে জয়সূচক গোলটি করেন মার্তিনেজ। তখন যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় মিনিটের খেলা চলছিল। এবার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য শেষ মুহূর্তে গোল নতুন না। ম্যাচে ৭৫ মিনিট পার করে চলতি টুর্নামেন্টে এটা ছিল আর্জেন্টিনার ১১ তম গোল। ইংল্যান্ডের ভুল কী ছিলবিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের বেদনায় আগেও পুড়েছে ইংল্যান্ড। তবে এবারের হার সম্ভবত অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক।

ফিরে তাকানো যায় ১৯৯০ বিশ্বকাপে। সেবার পশ্চিম জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইংলিশদের। তবে সেই ম্যাচে আন্ডারডগ বা ফেবারিট না হয়েও বেশির ভাগ সময় প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়েছিল তারা, ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে এনেছিল সমতাও।

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলএএফপি

২০১৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সিংহভাগ সময় এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। যে টুর্নামেন্টে তাদের নিয়ে তেমন কোনো প্রত্যাশাই ছিল না, সেখানে ৬৭ মিনিটের পর ২ গোল হজম করে ছিটকে যেতে হয় তাদের।

আর আটলান্টায় গতকাল রাতে? ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা এবং মাঠে স্পষ্টভাবেই শ্রেয়তর দল হিসেবে খেলার পরও শেষ দিকে দুই গোল হজম করে হেরেছে ইংল্যান্ড।
আর্জেন্টিনার শারীরিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল সামলে ইংল্যান্ড কেবল এগিয়েই ছিল না, রক্ষণেও ছিল বেশ জমাট। এর বিপরীতে আর্জেন্টিনাকে দেখাচ্ছিল বড্ড সাধারণ।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ‘হাইড্রেশন ব্রেকে’র পর ইংল্যান্ড কৌশল বদলে রক্ষণাত্মক ৫-৪-১ ফরমেশনে খেলতে শুরু করে। এতে তারা আর্জেন্টিনাকে উল্টো আক্রমণের আমন্ত্রণ জানায়, আর আর্জেন্টিনা সুযোগটা লুফে নেয় একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে। ফলে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি ঘুরে যায় আর্জেন্টিনার দিকে।

ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনএএফপি

হারের পর টুখেলের অতিরক্ষণাত্মক কৌশল যে সমালোচিত হবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ইংল্যান্ড তারকা হ্যারি কেইনের কথায় তেমন ইঙ্গিতই মেলে। হারের পর বিবিসিকে কেইন বলেন, ‘ম্যাচের সিংহভাগ সময় আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হয়েছে আমরা শুধু লিডটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। এই পর্যায়ের ফুটবলে শুধু এতটুকু দিয়ে পার পাওয়া যায় না। তাই খুব কষ্ট হচ্ছে কারণ, এই পর্যায়ে আসতে আমরা প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছি।’

কেইন আরও বলেন, ‘গোল করে তারা আক্রমণভাগে খেলোয়াড় বাড়িয়েছে, নাকি আমরাই তাদের ম্যান-মার্কিংয়ে টেক্কা দিতে পারিনি—সেটা জানি না। তবে একের পর এক আক্রমণের ঢেউ ঠেকিয়ে আমরা কেবল লিড ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট ছিল না।’

সূত্র: প্রথম আলো
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মেরিন ড্রাইভে মিনিট্রাক উল্টে আহত ৮

৭৫ মিনিটের পর ১১ গোল: আর্জেন্টিনা যেন ঘুরে দাঁড়ানোর অন্য নাম

আপডেট সময় : ০১:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
আটলান্টায় শেষ বাঁশি বাজার পর নতুন এক পাতার সংযোজন হলো রেকর্ড বইয়ে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ফাইনালে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দুই চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে। আর্জেন্টিনার প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেন। সে হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি হবে স্প্যানিশ ভাষার দুটি দলের মধ্যে দ্বিতীয় ফাইনাল। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে উরুগুয়ে–আর্জেন্টিনা ফাইনাল তালিকায় প্রথম।

ফাইনাল আগেই নিশ্চিত করেছে সর্বশেষ ইউরোজয়ী স্পেন। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হওয়া গতকাল রাতে নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। ৫৫ মিনিটে হজম করা গোলে আর্জেন্টিনাই পিছিয়ে পড়েছিল ম্যাচে। এরপর ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ ও যোগ করা (৯০+২) সময়ে লাওতারো মার্তিনেজের গোলে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করে কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনা যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল

৫৫ মিনিটে ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডনের গোলের পর ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের মাঝে এই ৩১ মিনিটে ইংল্যান্ডের বলের দখল ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। অ্যাটাকিং থার্ডে মাত্র ৯ বার বল ছুঁতে পেরেছে ইংল্যান্ড, যেটা তাদের প্রতিপক্ষের চেয়ে ১৬৫ বার কম।

ব্যাপারটা অপ্রত্যাশিত নয়। মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষেও এগিয়ে থেকে খেলোয়াড়দের রক্ষণভাগে নেমে এসে চাপ সামলানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। পাশাপাশি বেঞ্চ থেকে ডিফেন্ডার ড্যান বার্নকে নামানোই বলে দিচ্ছিল গোল বাঁচানোই ইংল্যান্ডের আসল লক্ষ্য।

কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের বিপক্ষে চাপ সামলানো আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি ইংল্যান্ডের পক্ষে। পাশাপাশি চাপে পড়ে শেষ দিকে দু–একটি গোল আদায় করে ম্যাচ বের করাটা তো এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ‘সিগনেচার মার্ক। ’দুটি গোলের উৎস লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোয় মূল ভূমিকা পালন করেন। ইংল্যান্ড রক্ষণভাগে পুরোপুরি গুটিয়ে থাকায় বক্সের বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পান মেসি। ডান প্রান্ত দিয়ে কখনো ক্রস, কখনো বক্সে ঢুকে বেশ বিপজ্জনক কিছু পাস দেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। শুধু মেসি নয়, বদলি নামা রদ্রিগো দি পলের ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসাটা ছিল ইংল্যান্ডের জন্য বড় সতর্কবার্তা।

বক্সের বাইরে থেকে ফার্নান্দেজের শটটি ছিল দুর্দান্ত। সেটা সমতাসূচক গোল। এরপরই মেসির জাদুকরি মুহূর্ত—দুর্বল ডান পা দিয়ে দূরের পোস্টে নিখুঁত ক্রস দেন, যেখান থেকে জয়সূচক গোলটি করেন মার্তিনেজ। তখন যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় মিনিটের খেলা চলছিল। এবার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য শেষ মুহূর্তে গোল নতুন না। ম্যাচে ৭৫ মিনিট পার করে চলতি টুর্নামেন্টে এটা ছিল আর্জেন্টিনার ১১ তম গোল। ইংল্যান্ডের ভুল কী ছিলবিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের বেদনায় আগেও পুড়েছে ইংল্যান্ড। তবে এবারের হার সম্ভবত অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক।

ফিরে তাকানো যায় ১৯৯০ বিশ্বকাপে। সেবার পশ্চিম জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইংলিশদের। তবে সেই ম্যাচে আন্ডারডগ বা ফেবারিট না হয়েও বেশির ভাগ সময় প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়েছিল তারা, ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে এনেছিল সমতাও।

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলএএফপি

২০১৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সিংহভাগ সময় এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। যে টুর্নামেন্টে তাদের নিয়ে তেমন কোনো প্রত্যাশাই ছিল না, সেখানে ৬৭ মিনিটের পর ২ গোল হজম করে ছিটকে যেতে হয় তাদের।

আর আটলান্টায় গতকাল রাতে? ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা এবং মাঠে স্পষ্টভাবেই শ্রেয়তর দল হিসেবে খেলার পরও শেষ দিকে দুই গোল হজম করে হেরেছে ইংল্যান্ড।
আর্জেন্টিনার শারীরিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল সামলে ইংল্যান্ড কেবল এগিয়েই ছিল না, রক্ষণেও ছিল বেশ জমাট। এর বিপরীতে আর্জেন্টিনাকে দেখাচ্ছিল বড্ড সাধারণ।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ‘হাইড্রেশন ব্রেকে’র পর ইংল্যান্ড কৌশল বদলে রক্ষণাত্মক ৫-৪-১ ফরমেশনে খেলতে শুরু করে। এতে তারা আর্জেন্টিনাকে উল্টো আক্রমণের আমন্ত্রণ জানায়, আর আর্জেন্টিনা সুযোগটা লুফে নেয় একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে। ফলে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি ঘুরে যায় আর্জেন্টিনার দিকে।

ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনএএফপি

হারের পর টুখেলের অতিরক্ষণাত্মক কৌশল যে সমালোচিত হবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ইংল্যান্ড তারকা হ্যারি কেইনের কথায় তেমন ইঙ্গিতই মেলে। হারের পর বিবিসিকে কেইন বলেন, ‘ম্যাচের সিংহভাগ সময় আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হয়েছে আমরা শুধু লিডটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। এই পর্যায়ের ফুটবলে শুধু এতটুকু দিয়ে পার পাওয়া যায় না। তাই খুব কষ্ট হচ্ছে কারণ, এই পর্যায়ে আসতে আমরা প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছি।’

কেইন আরও বলেন, ‘গোল করে তারা আক্রমণভাগে খেলোয়াড় বাড়িয়েছে, নাকি আমরাই তাদের ম্যান-মার্কিংয়ে টেক্কা দিতে পারিনি—সেটা জানি না। তবে একের পর এক আক্রমণের ঢেউ ঠেকিয়ে আমরা কেবল লিড ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট ছিল না।’

সূত্র: প্রথম আলো