ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত ২৬ মামলার আসামি চকরিয়ার নবী হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার রামু উপজেলা বিআরডিবির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল বশর বাবু  জেদ্দা থেকে মদিনার পথে দুর্ঘটনা, সড়কে নিভে গেল লোহাগাড়ার শওকতের প্রাণ কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল চালু, অক্টোবরে উড়বে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, ২ লাখ পিস উদ্ধার ছাত্রদল নেতা জিসানসহ ২৪ ঘণ্টায় তিন মরদেহ, দুই ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কক্সবাজারে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ কবি অমিত চৌধুরী পরলোকে : রাতে শেষকৃত্য কক্সবাজার মহাশশ্মানে বাংলাদেশকে আকাশ ব্যবহার করতে দিল না পাকিস্তান

৪০ বছর পর নকআউট ‘অভিশাপ’ কাটাতে পারল মেক্সিকো

সময়ের ব্যবধানটা ৪০ বছরের। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে অনেক তরুণেরই সেই জয় অদেখা। মেক্সিকোর বয়স্ক সমর্থকদের কথা আলাদা। তাঁদের অনেকের মনেই বুলগেরিয়ার বিপক্ষে চার দশক আগের সে জয়ের স্মৃতি টাটকা। বিশ্বকাপের নকআউটে এত দিন সেটাই ছিল মেক্সিকোর সর্বশেষ জয়।

এত দিন—কথাটি বলার কারণ, আজ সেই একই স্টেডিয়ামে (আজতেকা) ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেক্সিকোর ২–০ গোলের জয়। শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে নকআউট ম্যাচটি জিতে শেষ ষোলোয় উঠেছে স্বাগতিকেরা। এবারের বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকো সর্বশেষ স্বাগতিক ছিল ১৯৮৬ আসরে। সেবার শেষ ষোলোয় বুলগেরিয়ার বিপক্ষে একই ব্যবধানে (২–০) জিতেছিল মেক্সিকো।

মাঝের ৪০ বছরে বিশ্বকাপে কখনো নকআউট ম্যাচ জিততে না পারার ‘অভিশাপ’ এবার কাটালেন রাউল হিমিনেজ–হুলিয়ান কিনিয়োনেসরা।

বিশ্বকাপের নকআউটে প্রথম জয়ের খোঁজে ছিল ইকুয়েডরও। কিন্তু মেক্সিকো প্রথমার্ধে ২ গোল করে ইকুয়েডরকে প্রায় ‘নকআউট’ করে দেয়। পরের অর্ধে সম্পন্ন হয় দক্ষিণ আমেরিকান দলটিকে বিদায় দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা। তবে অবাক করার বিষয় হলো, ম্যাচে ৫৫.৭ শতাংশ বল ইকুয়েডরের দখলেই ছিল। কিন্তু শট নিতে পেরেছে মাত্র ৫টি, এর মধ্যে ১টি পোস্টে। মেক্সিকো সে তুলনায় বেশি কার্যকর ফুটবল খেলেছে। ১৪টি শটের ৩টি পোস্টে রাখতে পেরেছে, এর মধ্য থেকে গোল এসেছে ২টি।

হিমিনেজের গোলের পর তাঁর সঙ্গে কিনিয়োনেসের উদ্‌যাপনএএফপি

প্রথমটি কিনিয়োনেসের। ২২ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ডান পায়ের জোরালো শটের দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন মেক্সিকো উইঙ্গার। ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি মেক্সিকোর বহু যুদ্ধের সেনানী রাউল হিমিনেজের। বক্সের ভেতর ঢুকে কিনিয়োনেসের ফিরতি পাস পেয়ে দারুণ শটে গোল করেন এই স্ট্রাইকার। ইকুয়েডর সমর্থকদের কষ্ট আরও বেড়েছে যোগ করা (৯৫ মিনিট) সময়ে। মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সময় মুখ ঢেকে কথা বলেন ইকুয়েডরের সেন্টারব্যাক পিয়েরো হেনকাপিয়ে। ভিএআরের হস্তক্ষেপে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।

বজ্রঝড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয় এই ম্যাচ। তাতে দারুণ জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় মেক্সিকো।
এ জয়ে আজতেকায় বিশ্বকাপে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত রইল মেক্সিকো। এবারের আসরে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার পাশাপাশি গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচই জেতা তিনটি দলের একটি ছিল মেক্সিকো। গ্রুপ পর্বে তারা কোনো গোলও হজম করেনি। সেই দাপট ধরে রেখেই শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ম্যাচটি জিতল স্বাগতিকেরা।

ম্যাচে প্রথম গোলের পর কিনিয়োনেসের উদ্‌যাপন। পাশে গিলবার্তো মোরা (১৯ নম্বর জার্সি)এএফপি

মেক্সিকোর নকআউট ‘অভিশাপ’ কাটানোর এ ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়েন ১৭ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। ১৯৫৮ আসরে পেলের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে শুরুর একাদশের হয়ে মাঠে নামার কীর্তি গড়েন মোরা।
সূত্র: প্রথম আলো
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র

৪০ বছর পর নকআউট ‘অভিশাপ’ কাটাতে পারল মেক্সিকো

আপডেট সময় : ১২:৩১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সময়ের ব্যবধানটা ৪০ বছরের। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে অনেক তরুণেরই সেই জয় অদেখা। মেক্সিকোর বয়স্ক সমর্থকদের কথা আলাদা। তাঁদের অনেকের মনেই বুলগেরিয়ার বিপক্ষে চার দশক আগের সে জয়ের স্মৃতি টাটকা। বিশ্বকাপের নকআউটে এত দিন সেটাই ছিল মেক্সিকোর সর্বশেষ জয়।

এত দিন—কথাটি বলার কারণ, আজ সেই একই স্টেডিয়ামে (আজতেকা) ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেক্সিকোর ২–০ গোলের জয়। শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে নকআউট ম্যাচটি জিতে শেষ ষোলোয় উঠেছে স্বাগতিকেরা। এবারের বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকো সর্বশেষ স্বাগতিক ছিল ১৯৮৬ আসরে। সেবার শেষ ষোলোয় বুলগেরিয়ার বিপক্ষে একই ব্যবধানে (২–০) জিতেছিল মেক্সিকো।

মাঝের ৪০ বছরে বিশ্বকাপে কখনো নকআউট ম্যাচ জিততে না পারার ‘অভিশাপ’ এবার কাটালেন রাউল হিমিনেজ–হুলিয়ান কিনিয়োনেসরা।

বিশ্বকাপের নকআউটে প্রথম জয়ের খোঁজে ছিল ইকুয়েডরও। কিন্তু মেক্সিকো প্রথমার্ধে ২ গোল করে ইকুয়েডরকে প্রায় ‘নকআউট’ করে দেয়। পরের অর্ধে সম্পন্ন হয় দক্ষিণ আমেরিকান দলটিকে বিদায় দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা। তবে অবাক করার বিষয় হলো, ম্যাচে ৫৫.৭ শতাংশ বল ইকুয়েডরের দখলেই ছিল। কিন্তু শট নিতে পেরেছে মাত্র ৫টি, এর মধ্যে ১টি পোস্টে। মেক্সিকো সে তুলনায় বেশি কার্যকর ফুটবল খেলেছে। ১৪টি শটের ৩টি পোস্টে রাখতে পেরেছে, এর মধ্য থেকে গোল এসেছে ২টি।

হিমিনেজের গোলের পর তাঁর সঙ্গে কিনিয়োনেসের উদ্‌যাপনএএফপি

প্রথমটি কিনিয়োনেসের। ২২ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ডান পায়ের জোরালো শটের দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন মেক্সিকো উইঙ্গার। ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি মেক্সিকোর বহু যুদ্ধের সেনানী রাউল হিমিনেজের। বক্সের ভেতর ঢুকে কিনিয়োনেসের ফিরতি পাস পেয়ে দারুণ শটে গোল করেন এই স্ট্রাইকার। ইকুয়েডর সমর্থকদের কষ্ট আরও বেড়েছে যোগ করা (৯৫ মিনিট) সময়ে। মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সময় মুখ ঢেকে কথা বলেন ইকুয়েডরের সেন্টারব্যাক পিয়েরো হেনকাপিয়ে। ভিএআরের হস্তক্ষেপে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।

বজ্রঝড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয় এই ম্যাচ। তাতে দারুণ জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় মেক্সিকো।
এ জয়ে আজতেকায় বিশ্বকাপে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত রইল মেক্সিকো। এবারের আসরে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার পাশাপাশি গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচই জেতা তিনটি দলের একটি ছিল মেক্সিকো। গ্রুপ পর্বে তারা কোনো গোলও হজম করেনি। সেই দাপট ধরে রেখেই শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ম্যাচটি জিতল স্বাগতিকেরা।

ম্যাচে প্রথম গোলের পর কিনিয়োনেসের উদ্‌যাপন। পাশে গিলবার্তো মোরা (১৯ নম্বর জার্সি)এএফপি

মেক্সিকোর নকআউট ‘অভিশাপ’ কাটানোর এ ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়েন ১৭ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। ১৯৫৮ আসরে পেলের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে শুরুর একাদশের হয়ে মাঠে নামার কীর্তি গড়েন মোরা।
সূত্র: প্রথম আলো