ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৯ বাংলাদেশি ক্ষণস্থায়ী ঝড়ে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে নাজিরার টেক শুঁটকি পল্লীর ব্যবসায়ীরা ‎৭ মাসেও আটক হয়নি লাইট হাউজের মাসুূদ হত্যার প্রধান আসামী জাহেদ : আরেক আসামী সাকিবের শুনানি বুধবার সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ আর নেই উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলেন হালিমা খাতুন মামলার আসামী করা দুবাইয়ে অবস্থান করা মিল্কীর প্রতিবাদ ৩৫ বছর পর ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হারুন গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা শুরু ৪৯০ এআই ক্যামেরা স্থাপন, মহাসড়কে আইন ভাঙলেই ‘অটো ফাইন’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সর্বোচ্চ ১৮৩ মিমি বৃষ্টিপাত টেকনাফে, বৃষ্টিপাত থাকতে পারে আরো ৫দিন : আবহাওয়া অফিস সৎ ও দক্ষ অফিসারদের আরও বেশি কাজের সুযোগ করে দিতে চাই : প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক থেকে পা হারিয়ে ঢাকা বিমানবন্দরে উখিয়ার মরিচ্যার ফরিদ পরিবারকে খুঁজছে অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

হত্যার ৮ ঘন্টার ব্যবধানে তিন সহোদরসহ গ্রেফতার চার

কক্সবাজার শহরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার আট ঘন্টা ব্যবধানে জড়িত তিন সহোদর সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরাসহ বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তাররা সকলেই ইজিবাইক চালক এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা ইজিবাইক চালক পেশার আড়ালে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘটনের সাথে জড়িত।

সোমবার বিকালে র‍্যাব-১৫ এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

এঘটনায় আটকরা হল, কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমা পাড়ার মোহাম্মদ হোসেন ওরফে মাছনের ছেলে মো. মোস্তফা, মো. আনোয়ার ও মো. ইমরান এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. করিম।ঘটনায় নিহত মুজিবুর রহমান (৩৫) কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমা পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে।

লে. কর্নেল কামরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে কিস্তিতে নেওয়া মো. আনোয়ারের মালিকানাধীন একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনা ঘটে। আর সেই ইজিবাইকটি মুজিবুর রহমান চোর চক্রের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে আনে। পরে গাড়ীটি ওই টাকাগুলো পরিশোধের শর্তে আনোয়ার কাছে হস্তান্তর করে। টাকাগুলো পরিশোধ না করায় আনোয়ারকে মুজিবুর রহমান চাপ প্রয়োগ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বউবাজার এলাকায় জনৈক ইয়াছিন আরাফাতের ইজিবাইকের গ্যারেজে পূর্ব শত্রুতার জেরে মুজিবুর রহমানকে অতর্কিত অবস্থায় মোস্তফা, আনোয়ার ও ইমরানসহ আরও কয়েকজন মিলে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে হামলাকারিদের উপর্যুপরি কয়েকটি ছুরিকাঘাতে মুজিবুর রহমান আহত হয়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, রাতে ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর র্যাব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে মধ্যরাতে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় মো. আনোয়ারকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার হেফাজত থেকে দেশিয় তৈরী একটি বন্দুক ও ৭ টি গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামির স্বীকারোক্তি মতে, সোমবার ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর থেকে আত্মগোপন অবস্থায় মো.  মোস্তফা ও তার ভাই ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় মোস্তফার হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত ছোরাটিও উদ্ধার হয়।

কামরুল ইসলাম আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর র্যাবের আরেকটি দল সোমবার ভোর রাতে কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়া পাড়ায় পৃথক একটি অভিযান চালায়। এসময় তাদের সহযোগী মো. করিম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে তার কাছ থেকে দেশিয় তৈরী একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তি মতে ভোর রাতে শহরের তারবনিয়ারছড়া এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের গোপন আস্তানা জনৈক সাদ্দাম হোসেনের বাড়ীতে অভিযান চালায় র‍্যাব। এতে র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সাদ্দাম হোসেন পালিয়ে যায়। পরে তার বাসায় তল্লাশী চালিয়ে ৯ টি লম্বা কিরিচ ও ৪ টি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিরা সকলে পেশায় ইজিবাইক চালক এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা ইজিবাইক চালক পেশার আড়ালে পর্যটন শহরে ছিনতাই ও অপহরণসহ নানা অপরাধ সংঘটনের সাথে জড়িত। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এসব অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কক্সবাজার সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

হত্যার ৮ ঘন্টার ব্যবধানে তিন সহোদরসহ গ্রেফতার চার

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫

কক্সবাজার শহরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার আট ঘন্টা ব্যবধানে জড়িত তিন সহোদর সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরাসহ বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তাররা সকলেই ইজিবাইক চালক এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা ইজিবাইক চালক পেশার আড়ালে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘটনের সাথে জড়িত।

সোমবার বিকালে র‍্যাব-১৫ এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

এঘটনায় আটকরা হল, কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমা পাড়ার মোহাম্মদ হোসেন ওরফে মাছনের ছেলে মো. মোস্তফা, মো. আনোয়ার ও মো. ইমরান এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. করিম।ঘটনায় নিহত মুজিবুর রহমান (৩৫) কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমা পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে।

লে. কর্নেল কামরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে কিস্তিতে নেওয়া মো. আনোয়ারের মালিকানাধীন একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনা ঘটে। আর সেই ইজিবাইকটি মুজিবুর রহমান চোর চক্রের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে আনে। পরে গাড়ীটি ওই টাকাগুলো পরিশোধের শর্তে আনোয়ার কাছে হস্তান্তর করে। টাকাগুলো পরিশোধ না করায় আনোয়ারকে মুজিবুর রহমান চাপ প্রয়োগ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বউবাজার এলাকায় জনৈক ইয়াছিন আরাফাতের ইজিবাইকের গ্যারেজে পূর্ব শত্রুতার জেরে মুজিবুর রহমানকে অতর্কিত অবস্থায় মোস্তফা, আনোয়ার ও ইমরানসহ আরও কয়েকজন মিলে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে হামলাকারিদের উপর্যুপরি কয়েকটি ছুরিকাঘাতে মুজিবুর রহমান আহত হয়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, রাতে ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর র্যাব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে মধ্যরাতে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় মো. আনোয়ারকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার হেফাজত থেকে দেশিয় তৈরী একটি বন্দুক ও ৭ টি গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামির স্বীকারোক্তি মতে, সোমবার ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর থেকে আত্মগোপন অবস্থায় মো.  মোস্তফা ও তার ভাই ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় মোস্তফার হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত ছোরাটিও উদ্ধার হয়।

কামরুল ইসলাম আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর র্যাবের আরেকটি দল সোমবার ভোর রাতে কক্সবাজার শহরের কুতুবদিয়া পাড়ায় পৃথক একটি অভিযান চালায়। এসময় তাদের সহযোগী মো. করিম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে তার কাছ থেকে দেশিয় তৈরী একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তি মতে ভোর রাতে শহরের তারবনিয়ারছড়া এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের গোপন আস্তানা জনৈক সাদ্দাম হোসেনের বাড়ীতে অভিযান চালায় র‍্যাব। এতে র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সাদ্দাম হোসেন পালিয়ে যায়। পরে তার বাসায় তল্লাশী চালিয়ে ৯ টি লম্বা কিরিচ ও ৪ টি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিরা সকলে পেশায় ইজিবাইক চালক এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা ইজিবাইক চালক পেশার আড়ালে পর্যটন শহরে ছিনতাই ও অপহরণসহ নানা অপরাধ সংঘটনের সাথে জড়িত। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এসব অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কক্সবাজার সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।