ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫’র পেছনে না ছুটে, সৃজনশীল হোক: শিক্ষামন্ত্রী গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্তে ১১ স্কাইডাইভার ও পাইলট নিহত চকরিয়ার দুই মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ, ‎সন্ধান চায় পরিবার বেনজীর আহমদকে দেশে ফেরানো হবে কোন প্রক্রিয়ায়? ইসলামী ব্যাংকের পুরো বোর্ড ভেঙে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার নাম করে আনছিলো ইয়াবা : আটক  যুবদল নেতা, দল থেকে বহিস্কার কক্সবাজারে দুইশ কিলোমিটার ড্রাইভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ১৫ বছর পরও স্মৃতিতে অমলিন নেতা শাহ আলম সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবান্ধব শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে- এমপি কাজল সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার আত্মসমর্পণ করতে আদালতে আসছেন এমপি আমির হামজা একই পরিবারের ৪ সদস্যের আত্মহত্যা ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার নিজ বাড়ি থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

সোনাদিয়ায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশ

মহেশখালীর সোনাদিয়ায় অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা রিসোর্ট ও বিভিন্ন স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নিতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রচারনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।

এই বিষয় জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম টিটিএন-কে জানান, “মহেশখালীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি কিছুদিন হচ্ছে, তবে আমার কাছে তথ্য রয়েছে সোনাদিয়ায় সরকারি জমি দখল করে কটেজ নির্মাণ এবং প্যারাবন কাটা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এইসব স্থাপনা সরিয়ে না নিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া প্যারাবন কাটার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।”

সোনাদিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ায় ঝাউবন কেটে ইতোমধ্যে কয়েকটি রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও চার-পাঁচটি নির্মাণ কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঝাউবন কেটেই এসব রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

এই সোনাদিয়া দ্বীপে রয়েছে প্রায় নয় হাজার একর উপকূলীয় ও প্যারাবন (ম্যানগ্রোভ)। চিংড়িঘের সম্প্রসারণ এবং লবণমাঠে পরিণত করতে বনের জমি দ্রুত দখল হয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি রয়েছে দূষণ। এসব বন্ধে প্রশাসন কার্যকরী উদ্যোগ না নিলে জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকির আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা। তারা জানান, সাগরের তীরবর্তী সোনাদিয়ার উপকূলীয় এই বন এলাকা পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

কিন্তু সৈকতে রাত কাটাতে এসব রিসোর্ট থেকে পর্যটকদের তাঁবু ভাড়াও দেওয়া হয়। রাতে লাল-নীল আলো জ্বালিয়ে রাখতে তারা জেনারেটর ও সোলার প্যানেল ব্যবহার করেন। সংরক্ষণবিদদের মতে, ডিম পাড়তে আসা সামুদ্রিক কচ্ছপ ও পাখিদের জীবনযাত্রাকে এসব ব্যাহত করছে।

এসব রিসোর্ট নির্মাণ, উচ্চ শব্দ ও উজ্জ্বল আলো সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থানগুলোকে হুমকির মুখে ফেলছে। কচ্ছপের ডিম পাড়ার মৌসুম ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব না হলে তারা সৈকতে আসা বন্ধও করে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, শীতে সোনাদিয়া দ্বীপে আসা হাজার প্রজাতির অতিথি পাখির জন্যও এইসব উচ্চ শব্দ এবং বৈদ্যুতিক আলো ঝুঁকিপূর্ণ।

পরিবেশবিদদের মতে, প্রায় ১৭০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি সোনাদিয়াকে পথ হিসেবে ব্যবহার করে এবং দ্বীপটিতে প্রায় ২৫০ প্রজাতির মাছ ও ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে। অবৈধ পর্যটন কার্যক্রমের কারণে এই জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

২০১৭ সালে সোনাদিয়ায় ইকোট্যুরিজম পার্ক নির্মাণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এক হাজার এক টাকার বিনিময়ে দ্বীপের নয় হাজার ৪৬৭ একর জমি নেয়। এরপর চিংড়িঘের স্থাপন ও ব্যাপক হারে প্যারাবনের গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কয়েকটি মামলাও করে।

চলতি বছরের ৫ মে ভূমি মন্ত্রণালয় বেজার ওই বরাদ্দ বাতিল করে বন বিভাগকে এই জমি ফিরিয়ে দেয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫’র পেছনে না ছুটে, সৃজনশীল হোক: শিক্ষামন্ত্রী

সোনাদিয়ায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

মহেশখালীর সোনাদিয়ায় অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা রিসোর্ট ও বিভিন্ন স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নিতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রচারনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।

এই বিষয় জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম টিটিএন-কে জানান, “মহেশখালীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি কিছুদিন হচ্ছে, তবে আমার কাছে তথ্য রয়েছে সোনাদিয়ায় সরকারি জমি দখল করে কটেজ নির্মাণ এবং প্যারাবন কাটা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এইসব স্থাপনা সরিয়ে না নিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া প্যারাবন কাটার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।”

সোনাদিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ায় ঝাউবন কেটে ইতোমধ্যে কয়েকটি রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও চার-পাঁচটি নির্মাণ কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঝাউবন কেটেই এসব রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

এই সোনাদিয়া দ্বীপে রয়েছে প্রায় নয় হাজার একর উপকূলীয় ও প্যারাবন (ম্যানগ্রোভ)। চিংড়িঘের সম্প্রসারণ এবং লবণমাঠে পরিণত করতে বনের জমি দ্রুত দখল হয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি রয়েছে দূষণ। এসব বন্ধে প্রশাসন কার্যকরী উদ্যোগ না নিলে জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকির আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা। তারা জানান, সাগরের তীরবর্তী সোনাদিয়ার উপকূলীয় এই বন এলাকা পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

কিন্তু সৈকতে রাত কাটাতে এসব রিসোর্ট থেকে পর্যটকদের তাঁবু ভাড়াও দেওয়া হয়। রাতে লাল-নীল আলো জ্বালিয়ে রাখতে তারা জেনারেটর ও সোলার প্যানেল ব্যবহার করেন। সংরক্ষণবিদদের মতে, ডিম পাড়তে আসা সামুদ্রিক কচ্ছপ ও পাখিদের জীবনযাত্রাকে এসব ব্যাহত করছে।

এসব রিসোর্ট নির্মাণ, উচ্চ শব্দ ও উজ্জ্বল আলো সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থানগুলোকে হুমকির মুখে ফেলছে। কচ্ছপের ডিম পাড়ার মৌসুম ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব না হলে তারা সৈকতে আসা বন্ধও করে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, শীতে সোনাদিয়া দ্বীপে আসা হাজার প্রজাতির অতিথি পাখির জন্যও এইসব উচ্চ শব্দ এবং বৈদ্যুতিক আলো ঝুঁকিপূর্ণ।

পরিবেশবিদদের মতে, প্রায় ১৭০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি সোনাদিয়াকে পথ হিসেবে ব্যবহার করে এবং দ্বীপটিতে প্রায় ২৫০ প্রজাতির মাছ ও ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে। অবৈধ পর্যটন কার্যক্রমের কারণে এই জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

২০১৭ সালে সোনাদিয়ায় ইকোট্যুরিজম পার্ক নির্মাণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এক হাজার এক টাকার বিনিময়ে দ্বীপের নয় হাজার ৪৬৭ একর জমি নেয়। এরপর চিংড়িঘের স্থাপন ও ব্যাপক হারে প্যারাবনের গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কয়েকটি মামলাও করে।

চলতি বছরের ৫ মে ভূমি মন্ত্রণালয় বেজার ওই বরাদ্দ বাতিল করে বন বিভাগকে এই জমি ফিরিয়ে দেয়।