ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙে রাঙল টেকনাফ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় কক্সবাজারের সন্তান শামীমুর রহমান ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সময়সূচি ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু: এলাকায় শোকের ছায়া কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন মহেশখালীতে মাছ ধরার সময় হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু সেন্টমার্টিনে বিশাল অজগর ! উখিয়া থেকে অপহৃত যুবক টেকনাফে উদ্ধার বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ উখিয়ার আলোচিত ‘মা’ হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচার চাওয়া স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে অব্যাহতি প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর: চকরিয়া-পেকুয়ায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও জনসভায় ভাষণ দেবেন পিকআপভর্তি চোলাই মদ জব্দ, আটক ৫ ৩৬ বছরে পদার্পণ করলো দৈনিক কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি ফারুক, সা: সম্পাদক- আজিজ বড় বাজারে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা,ফেনসিডিলসহ কয়েক প্রকার মাদক:নেপথ্যে “কিং”!

সৈকতে বিজয়ের স্মৃতি আর উৎসবের রং : নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল প্রয়াস

  • আফজারা
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 322

বিজয়ের চেতনায় রাঙা লাল-সবুজের ডিসেম্বর। সমুদ্রের ঢেউয়ের ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে উৎসবের আমেজ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এখানে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা—যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতায় মিলেছে বিজয়ের আনন্দ।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের অংশগ্রহণে মেলায় ২০টিরও বেশি স্টল স্থান পেয়েছে। স্টলগুলোতে রয়েছে বাহারি খাবার, কাপড়, শীতের শাল, হাতে তৈরি কাঁথা ও নানান শৈল্পিক পণ্য। দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বিখ্যাত ‘রাজা মামার চা’-এর স্টল, যেখানে ভিড় চোখে পড়ার মতো।

মেলার স্টলগুলোতে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগই নারী উদ্যোক্তা, যাদের নিজস্ব অনলাইন পেইজ ও উদ্যোগ রয়েছে। ‘বন্ধুতা’ নামের একটি পেইজের উদ্যোক্তা ফাতেমা ইসলাম জানান, তিনি কাপড়, মুক্তার তৈরি জুয়েলারি ও নিজের হাতে তৈরি গুড়া মসলা নিয়ে এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,
“বিজয় মেলায় অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজন আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।”

অন্যদিকে, হোমমেড খাবার নিয়ে কাজ করা ‘ঘরোয়া স্বাদ’ পেইজের উদ্যোক্তা আফরিন সুমিও মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,“ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিজয় মেলায় এসে সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি, তাদের প্রতিক্রিয়া জানছি। আশা করছি এমন আয়োজন আমাদের উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”

বিজয়ের স্মৃতি আর উৎসবের রঙে মোড়ানো এই মেলা শুধু কেনাকাটার আয়োজন নয়—এটি একাত্তরের চেতনায় ফিরে যাওয়ার এক মিলনমেলা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল উদ্যোগ আর দর্শনার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে লাবণী পয়েন্টের বিজয় মেলা পরিণত হয়েছে আনন্দ, ঐতিহ্য আর গৌরবের এক অনন্য উৎসবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সৈকতে বিজয়ের স্মৃতি আর উৎসবের রং : নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল প্রয়াস

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বিজয়ের চেতনায় রাঙা লাল-সবুজের ডিসেম্বর। সমুদ্রের ঢেউয়ের ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে উৎসবের আমেজ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এখানে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা—যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতায় মিলেছে বিজয়ের আনন্দ।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের অংশগ্রহণে মেলায় ২০টিরও বেশি স্টল স্থান পেয়েছে। স্টলগুলোতে রয়েছে বাহারি খাবার, কাপড়, শীতের শাল, হাতে তৈরি কাঁথা ও নানান শৈল্পিক পণ্য। দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বিখ্যাত ‘রাজা মামার চা’-এর স্টল, যেখানে ভিড় চোখে পড়ার মতো।

মেলার স্টলগুলোতে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগই নারী উদ্যোক্তা, যাদের নিজস্ব অনলাইন পেইজ ও উদ্যোগ রয়েছে। ‘বন্ধুতা’ নামের একটি পেইজের উদ্যোক্তা ফাতেমা ইসলাম জানান, তিনি কাপড়, মুক্তার তৈরি জুয়েলারি ও নিজের হাতে তৈরি গুড়া মসলা নিয়ে এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,
“বিজয় মেলায় অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজন আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।”

অন্যদিকে, হোমমেড খাবার নিয়ে কাজ করা ‘ঘরোয়া স্বাদ’ পেইজের উদ্যোক্তা আফরিন সুমিও মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,“ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিজয় মেলায় এসে সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি, তাদের প্রতিক্রিয়া জানছি। আশা করছি এমন আয়োজন আমাদের উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”

বিজয়ের স্মৃতি আর উৎসবের রঙে মোড়ানো এই মেলা শুধু কেনাকাটার আয়োজন নয়—এটি একাত্তরের চেতনায় ফিরে যাওয়ার এক মিলনমেলা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল উদ্যোগ আর দর্শনার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে লাবণী পয়েন্টের বিজয় মেলা পরিণত হয়েছে আনন্দ, ঐতিহ্য আর গৌরবের এক অনন্য উৎসবে।