ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ার হারেসের সুরে মুগ্ধ নেট দুনিয়া,সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবী কক্সবাজারে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের স্বীকৃতি: জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মে ফিচারড SURGE Bangladesh শহরের কুতুবদিয়া পাড়ার আলোচিত রোজিনাকে আটক করেছে পুলিশ বিয়ের অতিথি ১০০ ছাড়ালে জনপ্রতি ১০০০ টাকা ট্যাক্স বসানোর দাবি এমপির বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করতে আইসিসিতে চিঠি সাবেক বিসিবি সভাপতির টেকনাফে সড়কের দুই পাশে কলেমা লেখা সাদা পতাকা আ’র’কা’ন আ’র্মি প্রধানের বাংলাদেশে চিকিৎসা নেওয়ার খবর কতটুকু সত্য? মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রোজিনা গ্রেপ্তার কক্সবাজার জেলা জামায়াত আমীরের উদ্যোগে মুক্ত হলো হাসপাতাল বিলের জন্য আটকে থাকা রিয়াজের মরদেহ মায়ানমারে পাচারকালে সিমেন্ট বোঝাই দুটি বোটসহ ২১ জনকে আটক করেছে নৌবাহিনী সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সবুজ উদ্যোগ -কক্সবাজারে ১ হাজার গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ মহেশখালীতে বাচ্চুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী দুই হত্যা চেষ্টা মামলার পলাতক আসামি অহিদুল গ্রেপ্তার  কক্সবাজার সদর থানায় শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে আগুন ​”ব্লাড ক্যান্সারে মারা যাওয়া টেকনাফের শিক্ষার্থী রিয়াজের মরদেহ আটকে আছে হাসপাতালে, সাহায্যের আবেদন

সৈকতে বিজয়ের স্মৃতি আর উৎসবের রং : নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল প্রয়াস

  • আফজারা
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 324

বিজয়ের চেতনায় রাঙা লাল-সবুজের ডিসেম্বর। সমুদ্রের ঢেউয়ের ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে উৎসবের আমেজ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এখানে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা—যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতায় মিলেছে বিজয়ের আনন্দ।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের অংশগ্রহণে মেলায় ২০টিরও বেশি স্টল স্থান পেয়েছে। স্টলগুলোতে রয়েছে বাহারি খাবার, কাপড়, শীতের শাল, হাতে তৈরি কাঁথা ও নানান শৈল্পিক পণ্য। দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বিখ্যাত ‘রাজা মামার চা’-এর স্টল, যেখানে ভিড় চোখে পড়ার মতো।

মেলার স্টলগুলোতে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগই নারী উদ্যোক্তা, যাদের নিজস্ব অনলাইন পেইজ ও উদ্যোগ রয়েছে। ‘বন্ধুতা’ নামের একটি পেইজের উদ্যোক্তা ফাতেমা ইসলাম জানান, তিনি কাপড়, মুক্তার তৈরি জুয়েলারি ও নিজের হাতে তৈরি গুড়া মসলা নিয়ে এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,
“বিজয় মেলায় অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজন আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।”

অন্যদিকে, হোমমেড খাবার নিয়ে কাজ করা ‘ঘরোয়া স্বাদ’ পেইজের উদ্যোক্তা আফরিন সুমিও মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,“ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিজয় মেলায় এসে সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি, তাদের প্রতিক্রিয়া জানছি। আশা করছি এমন আয়োজন আমাদের উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”

বিজয়ের স্মৃতি আর উৎসবের রঙে মোড়ানো এই মেলা শুধু কেনাকাটার আয়োজন নয়—এটি একাত্তরের চেতনায় ফিরে যাওয়ার এক মিলনমেলা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল উদ্যোগ আর দর্শনার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে লাবণী পয়েন্টের বিজয় মেলা পরিণত হয়েছে আনন্দ, ঐতিহ্য আর গৌরবের এক অনন্য উৎসবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ার হারেসের সুরে মুগ্ধ নেট দুনিয়া,সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবী

সৈকতে বিজয়ের স্মৃতি আর উৎসবের রং : নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল প্রয়াস

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বিজয়ের চেতনায় রাঙা লাল-সবুজের ডিসেম্বর। সমুদ্রের ঢেউয়ের ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে উৎসবের আমেজ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এখানে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা—যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতায় মিলেছে বিজয়ের আনন্দ।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের অংশগ্রহণে মেলায় ২০টিরও বেশি স্টল স্থান পেয়েছে। স্টলগুলোতে রয়েছে বাহারি খাবার, কাপড়, শীতের শাল, হাতে তৈরি কাঁথা ও নানান শৈল্পিক পণ্য। দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বিখ্যাত ‘রাজা মামার চা’-এর স্টল, যেখানে ভিড় চোখে পড়ার মতো।

মেলার স্টলগুলোতে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগই নারী উদ্যোক্তা, যাদের নিজস্ব অনলাইন পেইজ ও উদ্যোগ রয়েছে। ‘বন্ধুতা’ নামের একটি পেইজের উদ্যোক্তা ফাতেমা ইসলাম জানান, তিনি কাপড়, মুক্তার তৈরি জুয়েলারি ও নিজের হাতে তৈরি গুড়া মসলা নিয়ে এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,
“বিজয় মেলায় অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজন আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।”

অন্যদিকে, হোমমেড খাবার নিয়ে কাজ করা ‘ঘরোয়া স্বাদ’ পেইজের উদ্যোক্তা আফরিন সুমিও মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন,“ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিজয় মেলায় এসে সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি, তাদের প্রতিক্রিয়া জানছি। আশা করছি এমন আয়োজন আমাদের উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”

বিজয়ের স্মৃতি আর উৎসবের রঙে মোড়ানো এই মেলা শুধু কেনাকাটার আয়োজন নয়—এটি একাত্তরের চেতনায় ফিরে যাওয়ার এক মিলনমেলা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল উদ্যোগ আর দর্শনার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যে লাবণী পয়েন্টের বিজয় মেলা পরিণত হয়েছে আনন্দ, ঐতিহ্য আর গৌরবের এক অনন্য উৎসবে।