ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবদিয়ায় ‘দ্বীপবর্তিকা’র উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার ও আইকিউ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম বা দ্বিতীয় ম্যাচেই ফিরতে পারেন নেইমার: আনচেলত্তি নেইমারকে ছাড়াই পানামার বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশ ঘোষণা হিজাব পরায় তোপের মুখে বলিউড অভিনেত্রী দিল্লিতে বহুতল ভবন ধস, নিহত অন্তত ৯ দেশজুড়ে আরও বাড়বে গরম, চট্টগ্রামসহ ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধীদের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন নৌকার সমর্থক , উখিয়ার কৃষকদল আহবায়ক দিলেন সাংবাদিকদের হুমকি! নাফ নদীতে রোহিঙ্গা ডাকাতদলের সাথে বিজিবির গোলাগুলি : ২ ডাকাত আটক কোরবানির পশুর নামকরণ ও ভূরাজনৈতিক সংবেদনশীলতা প্রেমিকাকে উদ্ধারে গিয়ে প্রেমিকের ওপর চড়াও পুলিশ, লঙ্কাকাণ্ড ৪০০ জনকে ঔষুধসহ ফ্রি চিকিৎসা দিলো কর্মবীর মোটরসাইকেল চালককে বাঁচাতে গিয়ে অটোরিকশা যাত্রীর মৃত্যু  টেকনাফে মাদক মামলায় ৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি জহির গ্রেফতার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে জেলা বিএনপির খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল

‘শিকারী ও দালাল সাংবাদিকতা দেশের অর্জনকে ম্লান করেছে – কক্সবাজারে পিআইবির মহাপরিচালক

নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।

তিনি বলেন, শিকারী ও দালাল সাংবাদিকতা দেশের অর্জনকে বারবার ম্লান করেছে। এখন আবারও বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ তৈরির অপচেষ্টা শুরু হয়েছে, যা গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে পিআইবি আয়োজিত নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী। বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, পিআইবির প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, কক্সবাজার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক অঞ্চল। বহু সভ্যতার সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—দুটিই এ দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে অর্জিত। এসব অর্জন রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জনের ভেতরে কৌশলে ঢুকে পড়েছে ফ্যাসিবাদের দোসররা। অতীতেও শিকারী সাংবাদিকতা জঙ্গিবাদী ন্যারেটিভ তৈরি করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নির্যাতনের পথ প্রশস্ত করেছে।এখনও একই ধরনের অপতৎপরতা নতুন করে শুরু হয়েছে, যা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

গণমাধ্যমের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ মুজিবের রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের পর বাকশালের মধ্য দিয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি চালিয়ে দেশকে দলীয় রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। এসবই করা হয়েছে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, হাসিনা না ফিরলেও ফ্যাসিবাদ কি আমরা সত্যিই রুখতে পারব? আবার কি দালাল সাংবাদিকতার উত্থান ঘটছে—এই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের সময়েও বাংলায় ব্যাপকভাবে সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো এবং যুগে যুগে সাংবাদিকরাই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তবে কারো পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে ভুল সংবাদ পরিবেশন করা অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বিপ্লব, সংস্কার এবং ফ্যাসিবাদের বিদায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই চেতনাকে দুর্বল ও বিভক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। সারাদেশে নির্বাচনী উৎসবের আবহ থাকলেও জুলাইয়ের শহীদরা আহতরা আজ উপেক্ষিত—এটি লজ্জাজনক। অথচ সেই শহীদ ও আহতরাই ছিল জুলাই আন্দোলনের মূল প্রেরণা।

সবশেষে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনায় সাংবাদিকদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার শতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় নির্বাচনকালীন রিপোর্টিং, নৈতিকতা, ফ্যাক্টচেকিং ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় ‘দ্বীপবর্তিকা’র উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার ও আইকিউ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

‘শিকারী ও দালাল সাংবাদিকতা দেশের অর্জনকে ম্লান করেছে – কক্সবাজারে পিআইবির মহাপরিচালক

আপডেট সময় : ০৬:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।

তিনি বলেন, শিকারী ও দালাল সাংবাদিকতা দেশের অর্জনকে বারবার ম্লান করেছে। এখন আবারও বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ তৈরির অপচেষ্টা শুরু হয়েছে, যা গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে পিআইবি আয়োজিত নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী। বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, পিআইবির প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, কক্সবাজার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক অঞ্চল। বহু সভ্যতার সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—দুটিই এ দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে অর্জিত। এসব অর্জন রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জনের ভেতরে কৌশলে ঢুকে পড়েছে ফ্যাসিবাদের দোসররা। অতীতেও শিকারী সাংবাদিকতা জঙ্গিবাদী ন্যারেটিভ তৈরি করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নির্যাতনের পথ প্রশস্ত করেছে।এখনও একই ধরনের অপতৎপরতা নতুন করে শুরু হয়েছে, যা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

গণমাধ্যমের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ মুজিবের রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের পর বাকশালের মধ্য দিয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা প্রতিশোধের রাজনীতি চালিয়ে দেশকে দলীয় রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। এসবই করা হয়েছে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, হাসিনা না ফিরলেও ফ্যাসিবাদ কি আমরা সত্যিই রুখতে পারব? আবার কি দালাল সাংবাদিকতার উত্থান ঘটছে—এই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের সময়েও বাংলায় ব্যাপকভাবে সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো এবং যুগে যুগে সাংবাদিকরাই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তবে কারো পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে ভুল সংবাদ পরিবেশন করা অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বিপ্লব, সংস্কার এবং ফ্যাসিবাদের বিদায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই চেতনাকে দুর্বল ও বিভক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। সারাদেশে নির্বাচনী উৎসবের আবহ থাকলেও জুলাইয়ের শহীদরা আহতরা আজ উপেক্ষিত—এটি লজ্জাজনক। অথচ সেই শহীদ ও আহতরাই ছিল জুলাই আন্দোলনের মূল প্রেরণা।

সবশেষে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনায় সাংবাদিকদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার শতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় নির্বাচনকালীন রিপোর্টিং, নৈতিকতা, ফ্যাক্টচেকিং ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হবে।