চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণাঞ্চল- বাঁশখালী , সাতকানিয়া, লোহাগড়া, কক্সবাজার জেলার তিনটি উপজেলা সহ পার্বত্য বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
টানা ৬ দিন ধরে চলা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের অন্যতম বড় বিভাগ খ্যাত চট্টগ্রামের দক্ষিণাংশে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, এতে সীমাহীন দুভোর্গ পোহাচ্ছেন ঐ অঞ্চলের অন্তত ৭ লক্ষাধিক মানুষ।
জনপ্রিয় কমেডি শো মিরাক্কেলখ্যাত কমর উদ্দিন আরমান নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘প্রিয় উত্তরাঞ্চল ও সিলেট বিভাগ ও ফেনীবাসী। আশা করি ভাল আছেন। আমরা দক্ষিন চট্টগ্রাম কক্সবাজার বন্যায় কষ্টে আছি। আশা করি নিজেরাই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠবো।এরপর আপনাদের যদি বন্যা হয় ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রাম কক্সবাজারের মানুষ আবারো আপনাদের বিপদে ঝাপিয়ে পড়বে।ইনশাআল্লাহ।’
শুক্রবার (১০ জুলাই) দেওয়া আরমানের এমন মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফেসবুকে দেওয়া আরমানের সেই স্ট্যাটাসে বাপ্পু বড়ুয়া নামে একজন মন্তব্যঘরে লিখেছেন – ‘ চট্টগ্রাম- কক্সবাজারের বন্যার সময় পুরে দেশবাসীর তাকিয়ে আছে। অথচ ফেনী ও সিলেটের বন্যার সময় পুরো চট্টগ্রামের মানুষ ঝাপিয়ে পড়েছিল। খুবই দুঃখ জনক।’
কমর উদ্দিন আরমান কক্সবাজারের চকরিয়ার বাসিন্দা, তিনি ভারতের জনপ্রিয় টিভি কমেডি শো মিরাক্কেলে অংশ নিয়ে পরিচিত লাভ করেছিলেন।
আরমানের নিজ উপজেলা চকরিয়াসহ পার্শ্ববর্তী পেকুয়া এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার অন্তত ২০ টি ইউনিয়ন বন্যা আক্রান্ত হয়েছে, এছাড়াও মানবেতর জীবনযাপন করছেন
এই অঞ্চলসংলগ্ন চট্টগ্রামের বাঁশখালী,সাতকানিয়া, লোহাগড়ার অসংখ্য মানুষ।
এমন পরিস্থিতিতে আরমানের স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ ২০২৪ সালে ফেনী- নোয়াখালীতে যখন বন্যা হয় চট্টগ্রামের দক্ষিণের মানুষ তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছিল৷ গত ৫ দিন ধরে আমরা তথা কক্সবাজার-চট্টগ্রাম এর দক্ষিণাঞ্চের মানুষ মানবেতর জীবন পার করছি। কারো কোন মাথাব্যথা নাই, মিডিয়ায় আওয়াজ নাই। আমরাও তো মানুষ আমাদের বাঁচার অধিকার আছে।’
প্রসঙ্গত, চকরিয়া ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ বন্যাআক্রান্ত হয়েছে। চকরিয়া উপজেলার অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বর্তমানে বন্যার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন, গত দুইদিনে বন্যার পানিতে ডুবে ৩ জন ও পাহাড় ধসে ২ জন সহ ৫ জন এই উপজেলা ও নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, ‘ উদ্ধুদ্ধ বন্যা পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণকে সহযোগিতায় প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে, সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সাথে বন্যা আক্রান্তদের ত্রাণ সহায়তা প্রদান সহ অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ৩ নং সতর্কতা সংকেত বলবৎ রয়েছে এবং ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















