ঢাকা ০৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস: জামিন পেলেন গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করল বিএফআইইউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ছাড়াল ১০৩ ডলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেকোন অভিযানের জন্য প্রস্তুত পুলিশ উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, দুই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত উখিয়ার পালংখালী থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার উখিয়ায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযান: ৫ প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমনে বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে! কলাতলীতে বাতিল প্লটে মার্কেট নির্মাণ, কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য কুতুবদিয়ায় বজ্রপাতে বৃদ্ধের মৃত্যু রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ টেকনাফে বজ্রপাতে কৃষক আহত সদর থানার অভিযান অব্যাহত: ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ১৫

মাতামুহুরী হচ্ছে কক্সবাজার জেলার দশম উপজেলা

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে প্রস্তাবিত ‘মাতামুহুরী’ উপজেলার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রশাসনিক এলাকা নির্ধারণ ও সার্বিক নিরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রথম সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন এই উপজেলা গঠনকল্পে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘মাতামুহুরী’ উপজেলা গঠন দীর্ঘদিনের জনদাবি। প্রশাসনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি চকরিয়া উপজেলায় নতুন তিনটি ইউনিয়ন সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলা জানান তিনি।

প্রস্তাবিত ইউনিয়নগুলো হলো— হারবাং ইউনিয়ন থেকে পৃথক করে ‘উত্তর হারবাং ইউনিয়ন’ বরইতলী ইউনিয়ন থেকে পৃথক করে ‘পহরচাঁদা ইউনিয়ন’ ডুলহাজারা ইউনিয়ন থেকে পৃথক করে ‘মালুমঘাট ইউনিয়ন’ গঠিত হবে।

অন্যদিকে প্রস্তাবিত মাতামুহুরী উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। যে ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন এই উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে সেগুলো হলো— ইউনিয়ন সাহারবিল, ভেওলা মানিকচর, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া ও বদরখালী। ইউনিয়নগুলোতে ২৮৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ‘মাতামুহুরী নদী’ প্রবাহিত হয়েছে। মূলত এই নদীর নামেই নতুন উপজেলাটির নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

সভায় অংশ নেওয়া কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই মাতামুহুরী উপজেলা তৈরির প্রক্রিয়া বেগবান হয়েছে। আশা করা যায়, সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার বা NICAR) এর প্রথম সভাতেই মাতামুহুরী উপজেলা অনুমোদিত হবে।

২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তৎকালীন বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা থেকে পৃথক করে পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছাফওয়ানুল করিম বলেন, আজ থেকে ২৫ বছর আগে মাতামুহুরী উপজেলা গঠনের লক্ষ্যে সেটিকে সাংগঠনিক উপজেলা ঘোষণা দিয়ে কমিটি ঘোষণা করে জেলা বিএনপি। অবশেষে এটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে রূপ পেতে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। জনগণের দোয়ায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির চেয়েও বেশি উন্নয়ন চকরিয়া-পেকুয়ায় হবে, ইনশাআল্লাহ।

প্রস্তাবিত উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন দেখে আসছি একদিন মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠা পাবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে এখানকার প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।

প্রসঙ্গত, দেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে ৯টি উপজেলা রয়েছে। মাতামুহুরী আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলে এটি হবে পর্যটন সমৃদ্ধ জেলার দশম উপজেলা।

সূত্র:ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস: জামিন পেলেন গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী

মাতামুহুরী হচ্ছে কক্সবাজার জেলার দশম উপজেলা

আপডেট সময় : ০৪:২১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে প্রস্তাবিত ‘মাতামুহুরী’ উপজেলার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রশাসনিক এলাকা নির্ধারণ ও সার্বিক নিরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রথম সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন এই উপজেলা গঠনকল্পে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘মাতামুহুরী’ উপজেলা গঠন দীর্ঘদিনের জনদাবি। প্রশাসনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি চকরিয়া উপজেলায় নতুন তিনটি ইউনিয়ন সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলা জানান তিনি।

প্রস্তাবিত ইউনিয়নগুলো হলো— হারবাং ইউনিয়ন থেকে পৃথক করে ‘উত্তর হারবাং ইউনিয়ন’ বরইতলী ইউনিয়ন থেকে পৃথক করে ‘পহরচাঁদা ইউনিয়ন’ ডুলহাজারা ইউনিয়ন থেকে পৃথক করে ‘মালুমঘাট ইউনিয়ন’ গঠিত হবে।

অন্যদিকে প্রস্তাবিত মাতামুহুরী উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। যে ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন এই উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে সেগুলো হলো— ইউনিয়ন সাহারবিল, ভেওলা মানিকচর, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া ও বদরখালী। ইউনিয়নগুলোতে ২৮৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ‘মাতামুহুরী নদী’ প্রবাহিত হয়েছে। মূলত এই নদীর নামেই নতুন উপজেলাটির নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

সভায় অংশ নেওয়া কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই মাতামুহুরী উপজেলা তৈরির প্রক্রিয়া বেগবান হয়েছে। আশা করা যায়, সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার বা NICAR) এর প্রথম সভাতেই মাতামুহুরী উপজেলা অনুমোদিত হবে।

২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তৎকালীন বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা থেকে পৃথক করে পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছাফওয়ানুল করিম বলেন, আজ থেকে ২৫ বছর আগে মাতামুহুরী উপজেলা গঠনের লক্ষ্যে সেটিকে সাংগঠনিক উপজেলা ঘোষণা দিয়ে কমিটি ঘোষণা করে জেলা বিএনপি। অবশেষে এটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে রূপ পেতে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। জনগণের দোয়ায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির চেয়েও বেশি উন্নয়ন চকরিয়া-পেকুয়ায় হবে, ইনশাআল্লাহ।

প্রস্তাবিত উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন দেখে আসছি একদিন মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠা পাবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে এখানকার প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।

প্রসঙ্গত, দেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে ৯টি উপজেলা রয়েছে। মাতামুহুরী আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলে এটি হবে পর্যটন সমৃদ্ধ জেলার দশম উপজেলা।

সূত্র:ঢাকা পোস্ট