ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
“গানে গানে জুলাই” স্মরণ অনুষ্ঠান মাতারবাড়ি আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান! পাহাড়ধসে লাইট হাউজ এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, প্রাণহানির আশঙ্কা স্থানীয়দের ধেছুয়াপালংয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সব প্যারাসেইলিং বন্ধ ঘোষণা যে কারণে রামুতে চালকের আসনেই টমটম চালকের মৃত্যু পেকুয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি স্লুইসগেটের পাইপ (নাসি) কেটে বিক্রির অভিযোগ উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পালংখালী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার উখিয়ায় র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান: অস্ত্র-গুলিসহ রোহিঙ্গা যুবক গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ এপিবিএনের অভিযান, ১৪ মাসে আটক ১৬৬ জন সরকারি গণগ্রন্থাগারে প্রথমবারের মতো প্রীতি বিতর্ক প্রতিযোগিতা রামুতে ১০ হাজার মানুষের একমাত্র সড়ক জলাবদ্ধতায় অচল ট্রাক্টরের ধাক্কায় লোহাগাড়ায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের পেকুয়ায় পাইপ বসাতে কাটা হয়েছিলো বেড়িবাঁধ, স্কেভেটর জব্দ লামায় রাবার শ্রমিক অপহরণ, স্বামীকে জীবিত ফেরত চেয়ে স্ত্রীর আকুতি

বাবরি মসজিদ বানাতে যাওয়া সেই হুমায়ুন কবির জিতলেন দুই আসনে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নওদা ও রেজিনগর—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা আসনে সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নজিরবিহীন জয় পেয়েছেন বিতর্কিত কিন্তু জনপ্রিয় নেতা হুমায়ুন কবীর।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর যিনি একপ্রকার একাই লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই তিনিই আজ রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

নিজস্ব দল “আম জনতা উন্নয়ন পার্টি” গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হুমায়ুন কবীর যেন প্রমাণ করে দিলেন—রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই।

প্রতিকূলতা, বিতর্ক আর রাজনৈতিক একঘরে হয়ে যাওয়ার পরও তিনি যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন, তা অনেকের কাছেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, রেজিনগর আসনে তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির বাপন ঘোষ পান ৬৪ হাজার ৬৬০ ভোট। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আতাউর রহমান পান ৪১ হাজার ৭১৮ ভোট। অন্যদিকে নওদা আসনেও একই চিত্র—হুমায়ুন কবীর ৮৬ হাজার ৪৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে বিজেপির রানা মণ্ডল পান ৫৮ হাজার ৫২০ ভোট এবং তৃণমূলের সাহিনা মমতাজ খান পান ৫১ হাজার ৮৬৭ ভোট।

এই জয়ের পেছনে রয়েছে নানা নাটকীয়তা ও বিতর্ক। নির্বাচনের আগে বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেন হুমায়ুন কবীর। সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত তাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর একাই পথচলা শুরু করেন তিনি।

এরপরও থেমে থাকেনি বিতর্ক। একটি ভিডিও ঘিরে অভিযোগ ওঠে—তিনি নাকি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং অর্থের বিনিময়ে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর তার সঙ্গে থাকা অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর জোটও ভেঙে যায়। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তখন মনে করেছিলেন, এসব ঘটনার প্রভাব তার ভোটে পড়বে।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সব সমীকরণ উল্টে দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোটেই তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের বিজয়ের গল্প। তার এই জয় শুধু দুটি আসনের ফল নয়—এটি একটি বার্তা, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রচলিত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

এদিকে নির্বাচনী জয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনাও সামনে এনেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রায় ৮ একর জমির ওপর বাবরি মসজিদের আদলে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৮৬ কোটি টাকা।

২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে কাজ বন্ধ থাকলেও খুব শিগগিরই তা আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এই প্রকল্পকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ নির্মাণস্থল দেখতে আসছেন। কেউ দেখছেন ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন হিসেবে, কেউবা দেখছেন রাজনৈতিক বার্তার অংশ হিসেবে।

সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী ফল নয়—এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। বিশেষ করে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

“গানে গানে জুলাই” স্মরণ অনুষ্ঠান

বাবরি মসজিদ বানাতে যাওয়া সেই হুমায়ুন কবির জিতলেন দুই আসনে

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নওদা ও রেজিনগর—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা আসনে সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নজিরবিহীন জয় পেয়েছেন বিতর্কিত কিন্তু জনপ্রিয় নেতা হুমায়ুন কবীর।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর যিনি একপ্রকার একাই লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই তিনিই আজ রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

নিজস্ব দল “আম জনতা উন্নয়ন পার্টি” গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হুমায়ুন কবীর যেন প্রমাণ করে দিলেন—রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই।

প্রতিকূলতা, বিতর্ক আর রাজনৈতিক একঘরে হয়ে যাওয়ার পরও তিনি যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন, তা অনেকের কাছেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, রেজিনগর আসনে তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির বাপন ঘোষ পান ৬৪ হাজার ৬৬০ ভোট। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আতাউর রহমান পান ৪১ হাজার ৭১৮ ভোট। অন্যদিকে নওদা আসনেও একই চিত্র—হুমায়ুন কবীর ৮৬ হাজার ৪৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে বিজেপির রানা মণ্ডল পান ৫৮ হাজার ৫২০ ভোট এবং তৃণমূলের সাহিনা মমতাজ খান পান ৫১ হাজার ৮৬৭ ভোট।

এই জয়ের পেছনে রয়েছে নানা নাটকীয়তা ও বিতর্ক। নির্বাচনের আগে বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেন হুমায়ুন কবীর। সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত তাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর একাই পথচলা শুরু করেন তিনি।

এরপরও থেমে থাকেনি বিতর্ক। একটি ভিডিও ঘিরে অভিযোগ ওঠে—তিনি নাকি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং অর্থের বিনিময়ে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর তার সঙ্গে থাকা অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর জোটও ভেঙে যায়। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তখন মনে করেছিলেন, এসব ঘটনার প্রভাব তার ভোটে পড়বে।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সব সমীকরণ উল্টে দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোটেই তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের বিজয়ের গল্প। তার এই জয় শুধু দুটি আসনের ফল নয়—এটি একটি বার্তা, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রচলিত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

এদিকে নির্বাচনী জয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনাও সামনে এনেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রায় ৮ একর জমির ওপর বাবরি মসজিদের আদলে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৮৬ কোটি টাকা।

২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে কাজ বন্ধ থাকলেও খুব শিগগিরই তা আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এই প্রকল্পকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ নির্মাণস্থল দেখতে আসছেন। কেউ দেখছেন ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন হিসেবে, কেউবা দেখছেন রাজনৈতিক বার্তার অংশ হিসেবে।

সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী ফল নয়—এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। বিশেষ করে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা।