ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্বের ফ্রি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন চলছে নেপাল সফরে গেলেন জেইউসি সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী পেকুয়ায় খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত লোহাগাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে নারীর মৃত্যু লামার ফাইতংয়ে ৫ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা হলদিয়া পালং বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মেম্বারের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজারে রাত ৮টায় শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ গর্জনিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার রামুতে কোমলমতি শিশু নিকেতনের “বর্ষার ভরসায় জীবনের গান গাই” ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সীমান্তে একাধিক আধুনিক স্থলবন্দর করবে ভারত

বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচল আরও সহজ করতে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ৭ থেকে ৮টি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে ভারত। দেশটির ভূমি বন্দর কর্তৃপক্ষ (এলপিএআই) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ভূমি বন্দর কর্তৃপক্ষ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নতুন স্থলবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করছে। বর্তমানে রাজ্যটিতে ভারতের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হলো পেট্রাপোল, যা বনগাঁর কাছে বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত।

নতুন স্থলবন্দরের জন্য যেসব স্থান বিবেচনায় রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি, উত্তর ২৪ পরগনার ঘোজাডাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি এবং আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়া। এসব এলাকায় বর্তমানে স্থল কাস্টমস স্টেশন থাকলেও সেগুলোকে আধুনিক অবকাঠামোসমৃদ্ধ স্থলবন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কয়েক মাস ধরে এসব প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে এলপিএআই। তবে সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি না পাওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমে অগ্রগতি ধীর হয়েছে। সংস্থাটির আশা, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়লে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা দূর হবে।

কলকাতায় সিআইআই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে এলপিএআই চেয়ারম্যান জয়ন্ত সিং বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ৭ থেকে ৮টি নতুন স্থলবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি বন্দরের জন্য গড়ে প্রায় ৫০ একর জমির প্রয়োজন হবে এবং তা সীমান্তবর্তী এলাকাতেই হতে হবে।

একটি আধুনিক স্থলবন্দরে সাধারণত পণ্য পরিবহন ও খালাসের সুবিধা, ট্রাক পার্কিং, গুদাম, শীতল সংরক্ষণাগার, অভিবাসন বিভাগ, কাস্টমস এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সেবা একসঙ্গে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গে এই উদ্যোগটি ভারতের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। দেশজুড়ে আরও ৭৪টি নতুন স্থলবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বর্তমানে ভারতে ১৫টি স্থলবন্দর কার্যক্রম চালালেও নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ২ লাখ ২৭ হাজার ৫২২ কোটি রুপি। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৮৪৪ কোটি রুপির বাণিজ্য সম্পন্ন হয়েছে স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে। তবে স্থলসীমান্ত ব্যবহার করে আরও প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৭ কোটি রুপির অতিরিক্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ভারত সরকার।

সূত্র: দ্য ডেইলি ইত্তেফাক

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার

বাংলাদেশ সীমান্তে একাধিক আধুনিক স্থলবন্দর করবে ভারত

আপডেট সময় : ০১:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচল আরও সহজ করতে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ৭ থেকে ৮টি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে ভারত। দেশটির ভূমি বন্দর কর্তৃপক্ষ (এলপিএআই) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ভূমি বন্দর কর্তৃপক্ষ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নতুন স্থলবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করছে। বর্তমানে রাজ্যটিতে ভারতের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হলো পেট্রাপোল, যা বনগাঁর কাছে বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত।

নতুন স্থলবন্দরের জন্য যেসব স্থান বিবেচনায় রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি, উত্তর ২৪ পরগনার ঘোজাডাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি এবং আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়া। এসব এলাকায় বর্তমানে স্থল কাস্টমস স্টেশন থাকলেও সেগুলোকে আধুনিক অবকাঠামোসমৃদ্ধ স্থলবন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কয়েক মাস ধরে এসব প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে এলপিএআই। তবে সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি না পাওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমে অগ্রগতি ধীর হয়েছে। সংস্থাটির আশা, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়লে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা দূর হবে।

কলকাতায় সিআইআই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে এলপিএআই চেয়ারম্যান জয়ন্ত সিং বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ৭ থেকে ৮টি নতুন স্থলবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি বন্দরের জন্য গড়ে প্রায় ৫০ একর জমির প্রয়োজন হবে এবং তা সীমান্তবর্তী এলাকাতেই হতে হবে।

একটি আধুনিক স্থলবন্দরে সাধারণত পণ্য পরিবহন ও খালাসের সুবিধা, ট্রাক পার্কিং, গুদাম, শীতল সংরক্ষণাগার, অভিবাসন বিভাগ, কাস্টমস এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সেবা একসঙ্গে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গে এই উদ্যোগটি ভারতের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। দেশজুড়ে আরও ৭৪টি নতুন স্থলবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বর্তমানে ভারতে ১৫টি স্থলবন্দর কার্যক্রম চালালেও নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ২ লাখ ২৭ হাজার ৫২২ কোটি রুপি। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৮৪৪ কোটি রুপির বাণিজ্য সম্পন্ন হয়েছে স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে। তবে স্থলসীমান্ত ব্যবহার করে আরও প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৭ কোটি রুপির অতিরিক্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ভারত সরকার।

সূত্র: দ্য ডেইলি ইত্তেফাক