ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘শুধু মুখে বললে প্রত্যাবাসন হয় না, দরকার স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান’ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন চারজন, রাতে শপথ পুলিশের অভিযানে পেকুয়ায় ইয়াবাসহ নারী কারবারি আটক বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ, আজ বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক ​টেকনাফের সাবরাংয়ে অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান: ড্রেজার ও ৩টি ড্রাম ট্রাক জব্দ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বান্দরবান জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান মাম্যাচিং লামায় জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী ৪৫ ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা টেকনাফে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ১০ ভিকটিম উদ্ধার, গ্রেফতার ১ লোহাগাড়ায় মাদক সেবন করতে গিয়ে ধরা, সাবেক পুলিশ কনস্টেবলসহ দুজনের কারাদণ্ড দুদকের মামলায় টেকনাফ ইউপির সাবেক মেম্বার আব্দুল্লাহ ও তার বাবা আবুল বশরের কারাদন্ড সুখী-সমৃদ্ধ কল্যাণমুখী নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে: মির্জা ফখরুল সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে না: নাহিদ ইসলাম নতুন রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন, মতামত দিল আইন মন্ত্রণালয়

বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমানায় মাসব্যাপী জরিপ করবে নরওয়ে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহযোগিতায় নরওয়ের অত্যাধুনিক সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ ‘আর ভি ড. ফ্রিডজোফ নানসেন’ বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম জরিপ পরিচালনা করবে। আগামী ২১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে এ জরিপ কার্যক্রম চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

ফরিদা আখতার বলেন, গবেষণা জাহাজ ফ্রিডজোফ নানসেন সর্বপ্রথম ১৯৭৯ সালে এবং দ্বিতীয়বার ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় জরিপ পরিচালনা করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এফএও ও নরওয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন রিসার্চ (আইএমআর)-এর সহযোগিতায় জাহাজটি বঙ্গোপসাগরে মাছের মজুদ ও ইকোসিস্টেম গবেষণা চালায়।

তিনি বলেন, এবারের জরিপ বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জরিপ থেকে পাওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্য বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, টেকসই আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় জাতীয় নীতি প্রণয়নে সরাসরি সহায়তা করবে। এছাড়া এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করবে। সমুদ্রের বিভিন্ন গভীরতা ও পরিবেশ অনুযায়ী আবাসস্থলের মানচিত্র তৈরি করা হবে, যা প্রজাতি সংরক্ষণ ও মৎস্য ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।

উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এ জরিপের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদের মজুদ নিরূপণ, ইকোসিস্টেম পর্যবেক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। যা ভবিষ্যতে টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, এবারের জরিপে বাংলাদেশের ১৩ জন জাতীয় গবেষকসহ বিশ্বের মোট ২৬ জন গবেষক অংশ নিচ্ছেন। গবেষকরা উপকূলীয় এবং গভীর সমুদ্রে বিদ্যমান ছোট আকারের পেলাজিক ও মেসোপেলাজিক মাছের আপেক্ষিক প্রাচুর্যতা ও মজুদ নির্ধারণসহ ইকোসিস্টেমের সার্বিক অবস্থা নিরুপণ করবেন। যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে টেকসই আহরণের সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি গভীর ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র অঞ্চলে বাণিজ্যিক মৎস্যসম্পদের অনুসন্ধান ও আহরণে বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। জরিপের সময় সমুদ্রের পানি স্তর ও কলামের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, পুষ্টি উপাদান, ঘোলাভাব, উৎপাদনশীলতা, স্রোতের দিক ও গতি ইত্যাদি পরিমাপ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মেসোপেলাজিক মাছ এবং প্ল্যাঙ্কটন সমুদ্রের খাদ্য শৃঙ্খলের মূল ভিত্তি। গভীর সমুদ্র অঞ্চলে এদের জৈবভর, প্রজাতিগত বৈচিত্র ও বিতরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এটি সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের সুস্থতা এবং বাণিজ্যিক মাছের উৎপাদনশীলতা বোঝার জন্য জরুরি।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘শুধু মুখে বললে প্রত্যাবাসন হয় না, দরকার স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান’

বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমানায় মাসব্যাপী জরিপ করবে নরওয়ে

আপডেট সময় : ১০:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহযোগিতায় নরওয়ের অত্যাধুনিক সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ ‘আর ভি ড. ফ্রিডজোফ নানসেন’ বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম জরিপ পরিচালনা করবে। আগামী ২১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে এ জরিপ কার্যক্রম চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

ফরিদা আখতার বলেন, গবেষণা জাহাজ ফ্রিডজোফ নানসেন সর্বপ্রথম ১৯৭৯ সালে এবং দ্বিতীয়বার ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় জরিপ পরিচালনা করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এফএও ও নরওয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন রিসার্চ (আইএমআর)-এর সহযোগিতায় জাহাজটি বঙ্গোপসাগরে মাছের মজুদ ও ইকোসিস্টেম গবেষণা চালায়।

তিনি বলেন, এবারের জরিপ বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জরিপ থেকে পাওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্য বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, টেকসই আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় জাতীয় নীতি প্রণয়নে সরাসরি সহায়তা করবে। এছাড়া এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করবে। সমুদ্রের বিভিন্ন গভীরতা ও পরিবেশ অনুযায়ী আবাসস্থলের মানচিত্র তৈরি করা হবে, যা প্রজাতি সংরক্ষণ ও মৎস্য ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।

উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এ জরিপের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদের মজুদ নিরূপণ, ইকোসিস্টেম পর্যবেক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। যা ভবিষ্যতে টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, এবারের জরিপে বাংলাদেশের ১৩ জন জাতীয় গবেষকসহ বিশ্বের মোট ২৬ জন গবেষক অংশ নিচ্ছেন। গবেষকরা উপকূলীয় এবং গভীর সমুদ্রে বিদ্যমান ছোট আকারের পেলাজিক ও মেসোপেলাজিক মাছের আপেক্ষিক প্রাচুর্যতা ও মজুদ নির্ধারণসহ ইকোসিস্টেমের সার্বিক অবস্থা নিরুপণ করবেন। যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে টেকসই আহরণের সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি গভীর ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র অঞ্চলে বাণিজ্যিক মৎস্যসম্পদের অনুসন্ধান ও আহরণে বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। জরিপের সময় সমুদ্রের পানি স্তর ও কলামের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, পুষ্টি উপাদান, ঘোলাভাব, উৎপাদনশীলতা, স্রোতের দিক ও গতি ইত্যাদি পরিমাপ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মেসোপেলাজিক মাছ এবং প্ল্যাঙ্কটন সমুদ্রের খাদ্য শৃঙ্খলের মূল ভিত্তি। গভীর সমুদ্র অঞ্চলে এদের জৈবভর, প্রজাতিগত বৈচিত্র ও বিতরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এটি সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের সুস্থতা এবং বাণিজ্যিক মাছের উৎপাদনশীলতা বোঝার জন্য জরুরি।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন