ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ব গণ্ডার দিবস আজ বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

প্রথম চালানে ভারতে গেল সাড়ে ৩৭ টন ইলিশ

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রথম চালানে ৩৭ দশমিক ৪৬ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১টার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আটটি ট্রাকে করে এসব ইলিশ পাঠানো হয়েছে বলে বেনাপোল বন্দর মৎস্য কোয়ারেন্টিন কর্মকর্তা সজীব সাহা জানান।

এসব ইলিশ ভারতে রপ্তানি করেছে সততা ফিশ, স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজ, তানিশা এন্টারপ্রাইজ, বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ ও লাকী ট্রেডিং। আর আমদানিকারক হচ্ছে ভারতের ন্যাশনাল ট্রেডিং, এফএনএস ফিশ, জয় শান্তসী, মা ইন্টারন্যাশনাল ও আরজে ইন্টারন্যাশনাল।

এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ২০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এজন্য ন্যূনতম দর প্রতি কেজি সাড়ে ১২ ডলার নির্ধারণ করে দিলেও সর্বোচ্চ সীমা ঠিক করেনি সরকার।

মোট ৩৭টি প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ টন, ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ টন করে, ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ টন করে এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ টন করে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ইলিশ রপ্তানি শেষ করতে হবে। অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি রপ্তানি করা যাবে না এবং এ অনুমতি কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়। অর্থাৎ অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিকেই রপ্তানি করতে হবে। কোনোভাবেই অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া যাবে না।

রপ্তানির অনুমোদনের চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকার মৎস্য আহরণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো রকম বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানির এ অনুমতির মেয়াদ শেষ হবে।

আবার সরকার প্রয়োজন মনে করলে রপ্তানির এ আদেশ যেকোনো সময় বন্ধও করতে পারবে বলে অনুমোদনের শর্তে বলা হয়েছে।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা যায়, পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে প্রিয় হলেও ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০১২ সালের পর রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার।

তবে দুর্গোৎসবে ভারতের বাঙালিদের এই মাছের স্বাদ দিতে বিশেষ বিবেচনায় রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। যার বেশির ভাগই বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে ভারতে যায়।

এর মধ্যে গতবছর ইলিশ রপ্তানির অনুমতি ছিল ২ হাজার ৪২০ টন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৫৩২ মেট্রিক টন।

২০২৩ সালে ৭৯ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদনের অনুকূলে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৬৩১ দশমিক ২৪ টন।

২০২২ সালে ৫৯ প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিলেও রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৩০০ টন।

২০২১ সালে ১১৫ প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দেয় সরকার। তবে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৬৯৯ টন।

করোনা মহামারীর মধ্যে ২০২০ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক হাজার ৪৫০ টন রপ্তানির অনুমতি দিলেও তার সব পাঠাতে পারেনি ব্যবসায়ীরা।

২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার।ওই বছর রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৬ টন ইলিশ।

ইলিশ রপ্তানিকারক ও স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজের সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার পাঠানো ইলিশগুলোর ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির মধ্যে। সরকারের নির্ধারিত দামেই সেগুলো পাঠানো হয়েছে।

ইলিশ রপ্তানি সামনের দিনে দুই দেশের বাণিজ্য ও সৌহার্দ্য সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে আশা করেন এ রপ্তানিকারক।

সূত্র: বিডিনিউজ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব গণ্ডার দিবস আজ

প্রথম চালানে ভারতে গেল সাড়ে ৩৭ টন ইলিশ

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রথম চালানে ৩৭ দশমিক ৪৬ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১টার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আটটি ট্রাকে করে এসব ইলিশ পাঠানো হয়েছে বলে বেনাপোল বন্দর মৎস্য কোয়ারেন্টিন কর্মকর্তা সজীব সাহা জানান।

এসব ইলিশ ভারতে রপ্তানি করেছে সততা ফিশ, স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজ, তানিশা এন্টারপ্রাইজ, বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ ও লাকী ট্রেডিং। আর আমদানিকারক হচ্ছে ভারতের ন্যাশনাল ট্রেডিং, এফএনএস ফিশ, জয় শান্তসী, মা ইন্টারন্যাশনাল ও আরজে ইন্টারন্যাশনাল।

এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ২০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এজন্য ন্যূনতম দর প্রতি কেজি সাড়ে ১২ ডলার নির্ধারণ করে দিলেও সর্বোচ্চ সীমা ঠিক করেনি সরকার।

মোট ৩৭টি প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ টন, ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ টন করে, ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ টন করে এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ টন করে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ইলিশ রপ্তানি শেষ করতে হবে। অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি রপ্তানি করা যাবে না এবং এ অনুমতি কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়। অর্থাৎ অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিকেই রপ্তানি করতে হবে। কোনোভাবেই অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া যাবে না।

রপ্তানির অনুমোদনের চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকার মৎস্য আহরণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো রকম বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানির এ অনুমতির মেয়াদ শেষ হবে।

আবার সরকার প্রয়োজন মনে করলে রপ্তানির এ আদেশ যেকোনো সময় বন্ধও করতে পারবে বলে অনুমোদনের শর্তে বলা হয়েছে।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা যায়, পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে প্রিয় হলেও ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০১২ সালের পর রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার।

তবে দুর্গোৎসবে ভারতের বাঙালিদের এই মাছের স্বাদ দিতে বিশেষ বিবেচনায় রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। যার বেশির ভাগই বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে ভারতে যায়।

এর মধ্যে গতবছর ইলিশ রপ্তানির অনুমতি ছিল ২ হাজার ৪২০ টন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৫৩২ মেট্রিক টন।

২০২৩ সালে ৭৯ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদনের অনুকূলে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৬৩১ দশমিক ২৪ টন।

২০২২ সালে ৫৯ প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিলেও রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৩০০ টন।

২০২১ সালে ১১৫ প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দেয় সরকার। তবে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৬৯৯ টন।

করোনা মহামারীর মধ্যে ২০২০ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক হাজার ৪৫০ টন রপ্তানির অনুমতি দিলেও তার সব পাঠাতে পারেনি ব্যবসায়ীরা।

২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার।ওই বছর রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৬ টন ইলিশ।

ইলিশ রপ্তানিকারক ও স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজের সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার পাঠানো ইলিশগুলোর ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির মধ্যে। সরকারের নির্ধারিত দামেই সেগুলো পাঠানো হয়েছে।

ইলিশ রপ্তানি সামনের দিনে দুই দেশের বাণিজ্য ও সৌহার্দ্য সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে আশা করেন এ রপ্তানিকারক।

সূত্র: বিডিনিউজ