ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ার আলোচিত ‘মা’ হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচার চাওয়া স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে অব্যাহতি প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর: চকরিয়া-পেকুয়ায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও জনসভায় ভাষণ দেবেন পিকআপভর্তি চোলাই মদ জব্দ, আটক ৫ ৩৬ বছরে পদার্পণ করলো দৈনিক কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি ফারুক, সা: সম্পাদক- আজিজ বড় বাজারে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা,ফেনসিডিলসহ কয়েক প্রকার মাদক:নেপথ্যে “কিং”! কক্সবাজারে হারানো আইফোনসহ উদ্ধার করা ৫০ টি মোবাইল মালিকের কাছে হস্তান্তর বিজিবি-আরএসও গোলাগুলি, অস্ত্র-ইয়াবা উদ্ধার শুক্রবার কক্সবাজারে আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যাবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কক্সবাজারে সামাজিক সম্প্রীতি ও দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবহার বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কক্সবাজারে নির্মাণাধীন কালভার্টে মাটি ধসে নিহত ২ শ্রমিক দূষিত খাবারে বিশ্বজুড়ে বছরে প্রাণহানি ১৫ লাখ, সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা পেকুয়ায় বন্দুক, গুলি-কার্তুজসহ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার ঈদুল আজহার ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১ জন ২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের স্মৃতির খোঁজে কক্সবাজারে জাপানি প্রতিনিধি দল

নিষেধাজ্ঞা শেষ : বৈরী আবহাওয়ায় হতাশ জেলেরা

দীর্ঘ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছেন না উপকূলের জেলেরা। বুকভরা আশা নিয়ে ১১ জুন মধ্যরাতে সাগরে পাড়ি জমালেও সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ ও প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের পথের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (১৬ জুন) সরেজমিনে কক্সবাজার ফিশারী ঘাট ঘুরে দেখা যায়, এখনো অধিকাংশ গভীর সমুদ্রগামী ট্রলার ফিরে আসেনি। তবে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া কিছু ট্রলার ইতোমধ্যে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। এসব ট্রলারে ইলিশ বা বড় আকারের মাছ খুব একটা দেখা না মিললেও চিংড়ি, লইট্টা, ছুরি, শাপলা, কালো চাঁদা ও রূপচাঁদা মাছ কিছুটা পরিমাণে পাওয়া গেছে।

জেলেরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গভীর সমুদ্রে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক ট্রলার নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসছে। মাছ ধরতে না পারায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

ফিশারীঘাটের ব্যবসায়ী মাহবুব আলম বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় আবহাওয়া খুবই ভালো ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর থেকেই সাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। এ কারণে জেলেরা ইলিশ ধরতে পারছে না। তবে কিছু ট্রলারে চিংড়ি ও লইট্টা মাছ ধরা পড়ছে।”

জেলে রহিম উদ্দিন বলেন, “বড় ঢেউ আর বাতাসের কারণে সাগরে দীর্ঘ সময় থাকা যাচ্ছে না। অনেক ট্রলার ফিরে আসছে খালি হাতে। অনেকেই এখনো মাছ ধরতে যেতেও পারেননি।”

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক আশীষ কুমার বৈদ্য টিটিএন-কে জানান, নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সময়ে ১১ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত প্রায় ৪ টন ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৪৮ টন মাছ অবতরণ হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৪২ লাখ টাকা। এ সময়ে রাজস্ব খাতে আয় হয়েছে ৪৬ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, “সাগরে আবহাওয়া স্বাভাবিক না থাকায় মাছ ধরা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলে মাছের পরিমাণ বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।”

উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল গভীর সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে সব ধরনের মাছ ধরায়। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা মাছ শিকারে গেলেও প্রকৃতির রুদ্ররূপ তাদের স্বপ্নভঙ্গ করছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ার আলোচিত ‘মা’ হত্যাকান্ডে ন্যায়বিচার চাওয়া স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে অব্যাহতি

নিষেধাজ্ঞা শেষ : বৈরী আবহাওয়ায় হতাশ জেলেরা

আপডেট সময় : ০৪:২১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

দীর্ঘ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছেন না উপকূলের জেলেরা। বুকভরা আশা নিয়ে ১১ জুন মধ্যরাতে সাগরে পাড়ি জমালেও সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ ও প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের পথের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (১৬ জুন) সরেজমিনে কক্সবাজার ফিশারী ঘাট ঘুরে দেখা যায়, এখনো অধিকাংশ গভীর সমুদ্রগামী ট্রলার ফিরে আসেনি। তবে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া কিছু ট্রলার ইতোমধ্যে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। এসব ট্রলারে ইলিশ বা বড় আকারের মাছ খুব একটা দেখা না মিললেও চিংড়ি, লইট্টা, ছুরি, শাপলা, কালো চাঁদা ও রূপচাঁদা মাছ কিছুটা পরিমাণে পাওয়া গেছে।

জেলেরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গভীর সমুদ্রে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক ট্রলার নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসছে। মাছ ধরতে না পারায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

ফিশারীঘাটের ব্যবসায়ী মাহবুব আলম বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় আবহাওয়া খুবই ভালো ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর থেকেই সাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। এ কারণে জেলেরা ইলিশ ধরতে পারছে না। তবে কিছু ট্রলারে চিংড়ি ও লইট্টা মাছ ধরা পড়ছে।”

জেলে রহিম উদ্দিন বলেন, “বড় ঢেউ আর বাতাসের কারণে সাগরে দীর্ঘ সময় থাকা যাচ্ছে না। অনেক ট্রলার ফিরে আসছে খালি হাতে। অনেকেই এখনো মাছ ধরতে যেতেও পারেননি।”

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক আশীষ কুমার বৈদ্য টিটিএন-কে জানান, নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সময়ে ১১ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত প্রায় ৪ টন ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৪৮ টন মাছ অবতরণ হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৪২ লাখ টাকা। এ সময়ে রাজস্ব খাতে আয় হয়েছে ৪৬ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, “সাগরে আবহাওয়া স্বাভাবিক না থাকায় মাছ ধরা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলে মাছের পরিমাণ বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।”

উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল গভীর সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে সব ধরনের মাছ ধরায়। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা মাছ শিকারে গেলেও প্রকৃতির রুদ্ররূপ তাদের স্বপ্নভঙ্গ করছে।