ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে উশো-কারাতে ক্লাবের উদ্বোধন প্রফেসর আখতার বাদী: কক্সবাজারের দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মামলা জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি টেকনাফের গহীন পাহাড়ে তিন যুবক খু*ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে জরুরি ব্রিফিং ডেকেছেন শিক্ষামন্ত্রী কক্সবাজারে ৫৪ কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, অংশ নিচ্ছে ২৬ হাজার ৭৪৭ শিক্ষার্থী “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” কুতুবদিয়া উপজেলা কমিটির প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন বাঁচাতে হবে ছাত্র রাজনীতি মানব পাচার প্রতিরোধে অঙ্গীকারবদ্ধ কক্সবাজারের সাংবাদিকেরা খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যুবকের লাশ উদ্ধার টেকনাফে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদায় সংবর্ধনায় কৃতি শিক্ষার্থীদের জন্য নগদ বৃত্তির ঘোষণা উখিয়ায় চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার প্রধান আসামি আবু সিদ্দিক টেকনাফে গ্রেফতার আশারতলী তাফহীমুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসায় বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান জোয়ারের পানিতে স্লুইসগেট ভেঙে তলিয়ে গেছে লবণের মাঠ- হাজারো চাষী ক্ষতিগ্রস্ত

নাহিদের গতির ঝড় আর তানজিদের ব্যাটিং তাণ্ডবে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটে খুব বেশি ঘাসের ছোঁয়া না থাকলেও আজ যেন তীব্র ঝড় বইয়ে দিলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। গতি, শর্ট ডেলিভারি আর মাঝে মাঝে সুইং—এই তিন অস্ত্রেই একের পর এক বিপাকে ফেললেন পাকিস্তানের ব্যাটারদের। সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান—কেউই তার সামনে খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং উপহার দেন নাহিদ। তার এই বিধ্বংসী স্পেলের সঙ্গে স্পিনে সহায়তা করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি তুলে নেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাদের যৌথ আঘাতে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১১৪ রানে।

এরপর সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব বড় হয়নি বাংলাদেশের। দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে শাহীন শাহ আফ্রিদির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে শামিল হুসাইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ হাসান। ১০ বলে তিনি করেন ৪ রান।

তবে সাইফের বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। পাওয়ার প্লের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তারা। মাত্র ৩৮ বলে জুটির পঞ্চাশ পূর্ণ করেন দুজন। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই বাংলাদেশ তোলে ১ উইকেটে ৮১ রান।

বিশেষ করে তানজিদ ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। মাত্র ৩২ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। ইফতারের আগে ম্যাচ শেষ করার লক্ষ্যেই যেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে ৪২ বলে অপরাজিত ৬২ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

অন্যদিকে শান্তও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। যখন দলের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৬ রান, তখন ৩৩ বলে ২৭ রান করে আউট হন তিনি।

এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করছিলেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। তারা প্রায় বিনা উইকেটেই পাওয়ার প্লে পার করে দিতে যাচ্ছিলেন। তবে দশম ওভারে এসে সেই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। শর্ট ডেলিভারিতে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন ফারহান, যিনি অভিষেক ম্যাচে ৩৮ বলে করেন ২৭ রান।

এরপর দ্রুতই আউট হন তিন নম্বরে নামা শামিল হুসাইন। নাহিদের শর্ট বল খেলতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি; করেন ৭ বলে ৪ রান।

নিজের তৃতীয় ওভারে আবার আঘাত হানেন নাহিদ। তার গতিময় ডেলিভারিতে ফাইন লেগে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন মাজ সাদাকাত। টানা তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেন এই তরুণ পেসার।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শিকার হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অফ স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে এজ হয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ২০ বলে করেন ১০ রান।

এরপরও থামেননি নাহিদ। শর্ট ডেলিভারিতে সালমান আলী আঘাকে শর্ট লেগে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। কয়েকবারের চেষ্টায় দুর্দান্ত ক্যাচ নেন তানজিদ। এই উইকেটের মধ্য দিয়েই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন নাহিদ রানা।

মুস্তাফিজুর রহমানের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি। মুস্তাফিজ এই কীর্তি গড়েছিলেন ২০১৯ বিশ্বকাপে।

পরে পাকিস্তানের বাকি তিন উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ—হুসাইন তালাত, আব্দুল সামাদ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি। তাসকিন আহমেদ আউট করেন ওয়াসিম জুনিয়রকে, আর শেষ উইকেটে দ্রুত রান করা ফাহিমকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই ব্যাটার করেন ৩৭ রান।

সব মিলিয়ে পাকিস্তান অলআউট হয় ১১৪ রানে। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা নেন ৫ উইকেট, মিরাজের ঝুলিতে যায় তিনটি।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আর ২০১৮ সালের পর ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে উশো-কারাতে ক্লাবের উদ্বোধন

নাহিদের গতির ঝড় আর তানজিদের ব্যাটিং তাণ্ডবে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটে খুব বেশি ঘাসের ছোঁয়া না থাকলেও আজ যেন তীব্র ঝড় বইয়ে দিলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। গতি, শর্ট ডেলিভারি আর মাঝে মাঝে সুইং—এই তিন অস্ত্রেই একের পর এক বিপাকে ফেললেন পাকিস্তানের ব্যাটারদের। সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান—কেউই তার সামনে খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং উপহার দেন নাহিদ। তার এই বিধ্বংসী স্পেলের সঙ্গে স্পিনে সহায়তা করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি তুলে নেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাদের যৌথ আঘাতে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১১৪ রানে।

এরপর সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব বড় হয়নি বাংলাদেশের। দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে শাহীন শাহ আফ্রিদির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে শামিল হুসাইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ হাসান। ১০ বলে তিনি করেন ৪ রান।

তবে সাইফের বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। পাওয়ার প্লের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তারা। মাত্র ৩৮ বলে জুটির পঞ্চাশ পূর্ণ করেন দুজন। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই বাংলাদেশ তোলে ১ উইকেটে ৮১ রান।

বিশেষ করে তানজিদ ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। মাত্র ৩২ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। ইফতারের আগে ম্যাচ শেষ করার লক্ষ্যেই যেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে ৪২ বলে অপরাজিত ৬২ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

অন্যদিকে শান্তও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। যখন দলের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৬ রান, তখন ৩৩ বলে ২৭ রান করে আউট হন তিনি।

এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করছিলেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। তারা প্রায় বিনা উইকেটেই পাওয়ার প্লে পার করে দিতে যাচ্ছিলেন। তবে দশম ওভারে এসে সেই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। শর্ট ডেলিভারিতে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন ফারহান, যিনি অভিষেক ম্যাচে ৩৮ বলে করেন ২৭ রান।

এরপর দ্রুতই আউট হন তিন নম্বরে নামা শামিল হুসাইন। নাহিদের শর্ট বল খেলতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি; করেন ৭ বলে ৪ রান।

নিজের তৃতীয় ওভারে আবার আঘাত হানেন নাহিদ। তার গতিময় ডেলিভারিতে ফাইন লেগে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন মাজ সাদাকাত। টানা তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেন এই তরুণ পেসার।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শিকার হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অফ স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে এজ হয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ২০ বলে করেন ১০ রান।

এরপরও থামেননি নাহিদ। শর্ট ডেলিভারিতে সালমান আলী আঘাকে শর্ট লেগে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। কয়েকবারের চেষ্টায় দুর্দান্ত ক্যাচ নেন তানজিদ। এই উইকেটের মধ্য দিয়েই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন নাহিদ রানা।

মুস্তাফিজুর রহমানের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি। মুস্তাফিজ এই কীর্তি গড়েছিলেন ২০১৯ বিশ্বকাপে।

পরে পাকিস্তানের বাকি তিন উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ—হুসাইন তালাত, আব্দুল সামাদ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি। তাসকিন আহমেদ আউট করেন ওয়াসিম জুনিয়রকে, আর শেষ উইকেটে দ্রুত রান করা ফাহিমকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই ব্যাটার করেন ৩৭ রান।

সব মিলিয়ে পাকিস্তান অলআউট হয় ১১৪ রানে। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা নেন ৫ উইকেট, মিরাজের ঝুলিতে যায় তিনটি।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আর ২০১৮ সালের পর ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়।