ঢাকা ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশাসনের নির্দেশনা মানেন না বিএনপি নেতা, ইজারার নামে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ কুতুবদিয়ায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালনে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা আবারো সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের পর উখিয়ায় ক্যাম্পে আশ্রয় নিল ৫ রোহিঙ্গা বনকর্মীরদের হামলার ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবকের পা বিচ্ছিন্ন টেকনাফে অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে : চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক শামীম কক্সবাজারে অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি আবু সিদ্দিক গ্রেপ্তার পেকুয়ায় এবার ব্যবসায়ীর বাড়িতে দূর্ধর্ষ চুরি : স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট রামুতে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন: ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা মেসির ৩ ছেলের মধ্যে কে সবচেয়ে ভালো ফুটবলার হতে পারে? হোয়াইক্যং চেকপোস্টে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক চালক মৃত্যুকে ভয় পাই না, আমি নিজেই একজন জুলাই যোদ্ধা: হিরো আলম উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সংকেত বহাল

নাহিদের গতির ঝড় আর তানজিদের ব্যাটিং তাণ্ডবে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটে খুব বেশি ঘাসের ছোঁয়া না থাকলেও আজ যেন তীব্র ঝড় বইয়ে দিলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। গতি, শর্ট ডেলিভারি আর মাঝে মাঝে সুইং—এই তিন অস্ত্রেই একের পর এক বিপাকে ফেললেন পাকিস্তানের ব্যাটারদের। সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান—কেউই তার সামনে খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং উপহার দেন নাহিদ। তার এই বিধ্বংসী স্পেলের সঙ্গে স্পিনে সহায়তা করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি তুলে নেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাদের যৌথ আঘাতে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১১৪ রানে।

এরপর সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব বড় হয়নি বাংলাদেশের। দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে শাহীন শাহ আফ্রিদির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে শামিল হুসাইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ হাসান। ১০ বলে তিনি করেন ৪ রান।

তবে সাইফের বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। পাওয়ার প্লের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তারা। মাত্র ৩৮ বলে জুটির পঞ্চাশ পূর্ণ করেন দুজন। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই বাংলাদেশ তোলে ১ উইকেটে ৮১ রান।

বিশেষ করে তানজিদ ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। মাত্র ৩২ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। ইফতারের আগে ম্যাচ শেষ করার লক্ষ্যেই যেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে ৪২ বলে অপরাজিত ৬২ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

অন্যদিকে শান্তও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। যখন দলের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৬ রান, তখন ৩৩ বলে ২৭ রান করে আউট হন তিনি।

এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করছিলেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। তারা প্রায় বিনা উইকেটেই পাওয়ার প্লে পার করে দিতে যাচ্ছিলেন। তবে দশম ওভারে এসে সেই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। শর্ট ডেলিভারিতে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন ফারহান, যিনি অভিষেক ম্যাচে ৩৮ বলে করেন ২৭ রান।

এরপর দ্রুতই আউট হন তিন নম্বরে নামা শামিল হুসাইন। নাহিদের শর্ট বল খেলতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি; করেন ৭ বলে ৪ রান।

নিজের তৃতীয় ওভারে আবার আঘাত হানেন নাহিদ। তার গতিময় ডেলিভারিতে ফাইন লেগে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন মাজ সাদাকাত। টানা তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেন এই তরুণ পেসার।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শিকার হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অফ স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে এজ হয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ২০ বলে করেন ১০ রান।

এরপরও থামেননি নাহিদ। শর্ট ডেলিভারিতে সালমান আলী আঘাকে শর্ট লেগে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। কয়েকবারের চেষ্টায় দুর্দান্ত ক্যাচ নেন তানজিদ। এই উইকেটের মধ্য দিয়েই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন নাহিদ রানা।

মুস্তাফিজুর রহমানের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি। মুস্তাফিজ এই কীর্তি গড়েছিলেন ২০১৯ বিশ্বকাপে।

পরে পাকিস্তানের বাকি তিন উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ—হুসাইন তালাত, আব্দুল সামাদ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি। তাসকিন আহমেদ আউট করেন ওয়াসিম জুনিয়রকে, আর শেষ উইকেটে দ্রুত রান করা ফাহিমকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই ব্যাটার করেন ৩৭ রান।

সব মিলিয়ে পাকিস্তান অলআউট হয় ১১৪ রানে। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা নেন ৫ উইকেট, মিরাজের ঝুলিতে যায় তিনটি।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আর ২০১৮ সালের পর ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশাসনের নির্দেশনা মানেন না বিএনপি নেতা, ইজারার নামে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

নাহিদের গতির ঝড় আর তানজিদের ব্যাটিং তাণ্ডবে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটে খুব বেশি ঘাসের ছোঁয়া না থাকলেও আজ যেন তীব্র ঝড় বইয়ে দিলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। গতি, শর্ট ডেলিভারি আর মাঝে মাঝে সুইং—এই তিন অস্ত্রেই একের পর এক বিপাকে ফেললেন পাকিস্তানের ব্যাটারদের। সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান—কেউই তার সামনে খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং উপহার দেন নাহিদ। তার এই বিধ্বংসী স্পেলের সঙ্গে স্পিনে সহায়তা করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি তুলে নেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাদের যৌথ আঘাতে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১১৪ রানে।

এরপর সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব বড় হয়নি বাংলাদেশের। দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে শাহীন শাহ আফ্রিদির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে শামিল হুসাইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ হাসান। ১০ বলে তিনি করেন ৪ রান।

তবে সাইফের বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। পাওয়ার প্লের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তারা। মাত্র ৩৮ বলে জুটির পঞ্চাশ পূর্ণ করেন দুজন। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই বাংলাদেশ তোলে ১ উইকেটে ৮১ রান।

বিশেষ করে তানজিদ ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। মাত্র ৩২ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। ইফতারের আগে ম্যাচ শেষ করার লক্ষ্যেই যেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে ৪২ বলে অপরাজিত ৬২ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

অন্যদিকে শান্তও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। যখন দলের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৬ রান, তখন ৩৩ বলে ২৭ রান করে আউট হন তিনি।

এর আগে পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করছিলেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। তারা প্রায় বিনা উইকেটেই পাওয়ার প্লে পার করে দিতে যাচ্ছিলেন। তবে দশম ওভারে এসে সেই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। শর্ট ডেলিভারিতে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন ফারহান, যিনি অভিষেক ম্যাচে ৩৮ বলে করেন ২৭ রান।

এরপর দ্রুতই আউট হন তিন নম্বরে নামা শামিল হুসাইন। নাহিদের শর্ট বল খেলতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি; করেন ৭ বলে ৪ রান।

নিজের তৃতীয় ওভারে আবার আঘাত হানেন নাহিদ। তার গতিময় ডেলিভারিতে ফাইন লেগে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন মাজ সাদাকাত। টানা তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেন এই তরুণ পেসার।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শিকার হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অফ স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে এজ হয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ২০ বলে করেন ১০ রান।

এরপরও থামেননি নাহিদ। শর্ট ডেলিভারিতে সালমান আলী আঘাকে শর্ট লেগে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। কয়েকবারের চেষ্টায় দুর্দান্ত ক্যাচ নেন তানজিদ। এই উইকেটের মধ্য দিয়েই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন নাহিদ রানা।

মুস্তাফিজুর রহমানের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি। মুস্তাফিজ এই কীর্তি গড়েছিলেন ২০১৯ বিশ্বকাপে।

পরে পাকিস্তানের বাকি তিন উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ—হুসাইন তালাত, আব্দুল সামাদ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি। তাসকিন আহমেদ আউট করেন ওয়াসিম জুনিয়রকে, আর শেষ উইকেটে দ্রুত রান করা ফাহিমকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই ব্যাটার করেন ৩৭ রান।

সব মিলিয়ে পাকিস্তান অলআউট হয় ১১৪ রানে। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা নেন ৫ উইকেট, মিরাজের ঝুলিতে যায় তিনটি।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আর ২০১৮ সালের পর ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়।