ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশেষ অভিযানে কক্সবাজারে ৩৬ জন গ্রেপ্তার, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কক্সবাজারের টুটুল, মাসুসহ ৫ নেতা আটক শহরের বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শনকালে এমপি কাজল- পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সদ্য সাবেক কউক চেয়ারম্যানের বড় ভাই আলাউদ্দিন রাজা মারা গেছেন কক্সবাজার সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রদলের মানবিক উদ্যোগ টেকনাফে ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ পেকুয়ার জাহেদ পেলেন পিপিএম পদক আসছে পুলিশের নতুন ইউনিট হাসপাতাল, হাট-বাজার, সমুদ্র সৈকত : ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাস প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পেকুয়ায় ‘ইউসুফ আলী’ হত্যাকান্ডে জড়িত তিন আসামি গ্রেফতার বিশ্ব পর্যটন দিবস : ১৩ ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার’ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই সিএনজির সংঘর্ষ, নিহত ১; আহত ৮ ফ্যাসিবাদীদেরকে তথ্য দিলে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা: পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২ বছর পর পর্দা উঠলো পর্যটন মেলার, তারকামানের হোটেলে বিশেষ ছাড় কুতুবদিয়া থানা কাবাডি দলের জার্সি উন্মোচন

পর্যটন খাতে জিডিপিতে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ

দেশের পর্যটন শিল্পকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার বহর সম্প্রসারণে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ।অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের বিকাশকে কেন্দ্র করে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক এভিয়েশন ও ট্রানজিট হাবে পরিণত করা, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ যাত্রী ও লজিস্টিকস হাবে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বৈশ্বিক যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হয়।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। পাশাপাশি বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

পর্যটন খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে পর্যটক আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি সমন্বিত বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যোগাযোগ খাতে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা।

সরকারের প্রত্যাশা, বিমান চলাচল, যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে চলমান এবং প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্য, পর্যটন ও পরিবহন ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশেষ অভিযানে কক্সবাজারে ৩৬ জন গ্রেপ্তার, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার

পর্যটন খাতে জিডিপিতে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

দেশের পর্যটন শিল্পকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার বহর সম্প্রসারণে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ।অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের বিকাশকে কেন্দ্র করে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক এভিয়েশন ও ট্রানজিট হাবে পরিণত করা, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ যাত্রী ও লজিস্টিকস হাবে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বৈশ্বিক যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হয়।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। পাশাপাশি বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

পর্যটন খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে পর্যটক আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি সমন্বিত বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যোগাযোগ খাতে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা।

সরকারের প্রত্যাশা, বিমান চলাচল, যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে চলমান এবং প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্য, পর্যটন ও পরিবহন ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন