ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ কুতুবদিয়ায় লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সংযোগ সেতু ধসে পড়েছে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও ৩৬৭ কোটি টাকা পাচ্ছে ব্রাজিল ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস আজ ভারীবর্ষণে পাহাড়ধস – একরাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত ৮,শহরে ১ জনের মৃত্যু গেলো ২৪ ঘন্টায় ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি : বাড়ছে পাহাড় ধসের ঝুঁকি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড(পশ্চিম) শাখা যুবদলের সভাপতি মিজান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ‎ ওয়াটার সেইফটি এন্ড ড্রাউনিং প্রিভেনশন: জেসিআই কক্সবাজারের ‘বে গার্ডিয়ানস ইনিশিয়েটিভ’র উদ্বোধন অপহরণের এক সপ্তাহ পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরলেন বাহারছড়ার পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিন টেকনাফে শ্রমিক ফেডারেশনের নেতার হাতে শিবির কর্মী খুন,বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলোনা নিহত শফিউল্লাহর লোহাগাড়ায় ডাম্পার-সিএনজির সংঘর্ষ,আহত-৪

চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে যুদ্ধবিরতি

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) যুদ্ধবিরতির একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এ যুদ্ধবিরতির ফলে চীন ও মিয়ানমামের মধ্যবর্তী সীমান্তের কাছে লড়াই বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

চীনা মন্ত্রণালয়টির মুখপাত্র মাও নিং সোমবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, পক্ষ দু’টি চীনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুনমিংয়ে বৈঠকে বসে আলোচনা করেছিলেন, সেখানে তারা বেইজিংকে তাদের শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মাও বলেন, “মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করা এবং চীন ও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে অবদান রাখা মিয়ানমারের সকল পক্ষ ও এই অঞ্চলের সবগুলো দেশের এক সাধারণ স্বার্থ।”

চীন মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা ও সমর্থন দিয়ে যাবে এবং সক্রিয়ভাবে শান্তি ও সংলাপের প্রচার চালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মাও।

রয়টার্স জানায়, মিয়ানমারের যে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজেদের বলে বিবেচিত অঞ্চলগুলো থেকে সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে দিতে লড়াই করছে, এমএনডিএএ তাদের অন্যতম।

এমএনডিএএ তথাকথিত ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সে’ এর অংশ। এই বিদ্রোহী জোটের অপর দুই সদস্য হল আরাকান আর্মি (এএ) ও তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) । এই জোট ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের শাসক জান্তার বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে চীনে সীমান্তের কাছে বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

মিয়ানমারের জাতিগত চীনাদের নিয়ে গঠিত এমএনডিএএ গত জুলাইয়ে জানায়, তারা চীনের সীমান্তের কাছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর একটি হেডকোয়ার্টারের দখল নিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী বাহিনীগুলো সামরিক বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলগুলো থেকে হটিয়ে দিয়ে মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ের দিকে দিকে এগিয়ে যাচ্ছে; তাদের এ অগ্রগতিতে চীন উদ্বিগ্ন।

মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে দেশটির সামরিক বাহিনী ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে দেশটিতে গভীর সঙ্কট চলছে।

চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের ২০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। এই সীমান্ত বরাবর বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন চীন। এই বিশৃঙ্খলা বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে ঝুকিতে ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত তারা।

এর আগেও চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস পরই ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ে।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি

আপডেট সময় : ০১:১৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৫

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) যুদ্ধবিরতির একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এ যুদ্ধবিরতির ফলে চীন ও মিয়ানমামের মধ্যবর্তী সীমান্তের কাছে লড়াই বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

চীনা মন্ত্রণালয়টির মুখপাত্র মাও নিং সোমবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, পক্ষ দু’টি চীনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুনমিংয়ে বৈঠকে বসে আলোচনা করেছিলেন, সেখানে তারা বেইজিংকে তাদের শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মাও বলেন, “মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করা এবং চীন ও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে অবদান রাখা মিয়ানমারের সকল পক্ষ ও এই অঞ্চলের সবগুলো দেশের এক সাধারণ স্বার্থ।”

চীন মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা ও সমর্থন দিয়ে যাবে এবং সক্রিয়ভাবে শান্তি ও সংলাপের প্রচার চালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মাও।

রয়টার্স জানায়, মিয়ানমারের যে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজেদের বলে বিবেচিত অঞ্চলগুলো থেকে সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে দিতে লড়াই করছে, এমএনডিএএ তাদের অন্যতম।

এমএনডিএএ তথাকথিত ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সে’ এর অংশ। এই বিদ্রোহী জোটের অপর দুই সদস্য হল আরাকান আর্মি (এএ) ও তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) । এই জোট ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের শাসক জান্তার বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে চীনে সীমান্তের কাছে বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

মিয়ানমারের জাতিগত চীনাদের নিয়ে গঠিত এমএনডিএএ গত জুলাইয়ে জানায়, তারা চীনের সীমান্তের কাছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর একটি হেডকোয়ার্টারের দখল নিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী বাহিনীগুলো সামরিক বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলগুলো থেকে হটিয়ে দিয়ে মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ের দিকে দিকে এগিয়ে যাচ্ছে; তাদের এ অগ্রগতিতে চীন উদ্বিগ্ন।

মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে দেশটির সামরিক বাহিনী ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে দেশটিতে গভীর সঙ্কট চলছে।

চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের ২০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। এই সীমান্ত বরাবর বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন চীন। এই বিশৃঙ্খলা বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে ঝুকিতে ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত তারা।

এর আগেও চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস পরই ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ে।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম