ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুজামন্ডপ পরিদর্শন করবেন : দুই দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার কক্সবাজার আসছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘন্টায় জেলায় তিন অগ্নিকাণ্ড হিমঘরে ১০ মরদেহ, ডিএনএ টেস্টের পর হস্তান্তর, ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি, মামলায় কারাগারে রিসোর্ট ম্যানেজার ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি আলোচিত ইয়াবা মামলার আসামী সলিম উল্লাহ গ্রেফতার সাত খু’ন, মেজর সিনহা ও আবরার হ’ত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির বিশেষ উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মালিক তানভীরের পোষা কুকুর সহ পালায় টুপটুপের কর্মীরা সাজেকে চাঁদের গাড়ি উল্টে ৭ পর্যটক আহত জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বছরে কয়েকবার উচ্ছেদ, তবুও যানজটের কারণ সেই বিদ্যুতের খুঁটি ‘জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব’ কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: মালিককে প্রধান আসামি করে পুলিশের মামলা টুপটুপ রিসোর্ট ট্র্যাজেডি : খোঁজ নেই নাহিদসহ পরিবারের ৪ জনের

চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে যুদ্ধবিরতি

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) যুদ্ধবিরতির একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এ যুদ্ধবিরতির ফলে চীন ও মিয়ানমামের মধ্যবর্তী সীমান্তের কাছে লড়াই বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

চীনা মন্ত্রণালয়টির মুখপাত্র মাও নিং সোমবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, পক্ষ দু’টি চীনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুনমিংয়ে বৈঠকে বসে আলোচনা করেছিলেন, সেখানে তারা বেইজিংকে তাদের শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মাও বলেন, “মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করা এবং চীন ও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে অবদান রাখা মিয়ানমারের সকল পক্ষ ও এই অঞ্চলের সবগুলো দেশের এক সাধারণ স্বার্থ।”

চীন মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা ও সমর্থন দিয়ে যাবে এবং সক্রিয়ভাবে শান্তি ও সংলাপের প্রচার চালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মাও।

রয়টার্স জানায়, মিয়ানমারের যে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজেদের বলে বিবেচিত অঞ্চলগুলো থেকে সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে দিতে লড়াই করছে, এমএনডিএএ তাদের অন্যতম।

এমএনডিএএ তথাকথিত ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সে’ এর অংশ। এই বিদ্রোহী জোটের অপর দুই সদস্য হল আরাকান আর্মি (এএ) ও তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) । এই জোট ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের শাসক জান্তার বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে চীনে সীমান্তের কাছে বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

মিয়ানমারের জাতিগত চীনাদের নিয়ে গঠিত এমএনডিএএ গত জুলাইয়ে জানায়, তারা চীনের সীমান্তের কাছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর একটি হেডকোয়ার্টারের দখল নিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী বাহিনীগুলো সামরিক বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলগুলো থেকে হটিয়ে দিয়ে মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ের দিকে দিকে এগিয়ে যাচ্ছে; তাদের এ অগ্রগতিতে চীন উদ্বিগ্ন।

মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে দেশটির সামরিক বাহিনী ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে দেশটিতে গভীর সঙ্কট চলছে।

চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের ২০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। এই সীমান্ত বরাবর বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন চীন। এই বিশৃঙ্খলা বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে ঝুকিতে ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত তারা।

এর আগেও চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস পরই ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ে।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুজামন্ডপ পরিদর্শন করবেন : দুই দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু

চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি

আপডেট সময় : ০১:১৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৫

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) যুদ্ধবিরতির একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এ যুদ্ধবিরতির ফলে চীন ও মিয়ানমামের মধ্যবর্তী সীমান্তের কাছে লড়াই বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

চীনা মন্ত্রণালয়টির মুখপাত্র মাও নিং সোমবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, পক্ষ দু’টি চীনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুনমিংয়ে বৈঠকে বসে আলোচনা করেছিলেন, সেখানে তারা বেইজিংকে তাদের শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মাও বলেন, “মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করা এবং চীন ও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে অবদান রাখা মিয়ানমারের সকল পক্ষ ও এই অঞ্চলের সবগুলো দেশের এক সাধারণ স্বার্থ।”

চীন মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা ও সমর্থন দিয়ে যাবে এবং সক্রিয়ভাবে শান্তি ও সংলাপের প্রচার চালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মাও।

রয়টার্স জানায়, মিয়ানমারের যে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজেদের বলে বিবেচিত অঞ্চলগুলো থেকে সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে দিতে লড়াই করছে, এমএনডিএএ তাদের অন্যতম।

এমএনডিএএ তথাকথিত ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সে’ এর অংশ। এই বিদ্রোহী জোটের অপর দুই সদস্য হল আরাকান আর্মি (এএ) ও তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) । এই জোট ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের শাসক জান্তার বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে চীনে সীমান্তের কাছে বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

মিয়ানমারের জাতিগত চীনাদের নিয়ে গঠিত এমএনডিএএ গত জুলাইয়ে জানায়, তারা চীনের সীমান্তের কাছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর একটি হেডকোয়ার্টারের দখল নিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী বাহিনীগুলো সামরিক বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলগুলো থেকে হটিয়ে দিয়ে মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ের দিকে দিকে এগিয়ে যাচ্ছে; তাদের এ অগ্রগতিতে চীন উদ্বিগ্ন।

মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে দেশটির সামরিক বাহিনী ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে দেশটিতে গভীর সঙ্কট চলছে।

চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের ২০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। এই সীমান্ত বরাবর বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন চীন। এই বিশৃঙ্খলা বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে ঝুকিতে ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত তারা।

এর আগেও চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস পরই ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ে।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম