ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’ পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফে দুই বোটসহ ৭ জেলে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি পেকুয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষ: দুই যাত্রীর মৃত্যু কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মনোনীত হলেন সাংবাদিক আবুল কাশেম রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে ইইউর সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী মনছুর আটক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি কাজল -রোহিঙ্গা ক্যাম্প মাদক ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির হেড কোয়ার্টার শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫’র পেছনে না ছুটে, সৃজনশীল হোক: শিক্ষামন্ত্রী গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্তে ১১ স্কাইডাইভার ও পাইলট নিহত

চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে যুদ্ধবিরতি

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) যুদ্ধবিরতির একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এ যুদ্ধবিরতির ফলে চীন ও মিয়ানমামের মধ্যবর্তী সীমান্তের কাছে লড়াই বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

চীনা মন্ত্রণালয়টির মুখপাত্র মাও নিং সোমবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, পক্ষ দু’টি চীনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুনমিংয়ে বৈঠকে বসে আলোচনা করেছিলেন, সেখানে তারা বেইজিংকে তাদের শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মাও বলেন, “মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করা এবং চীন ও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে অবদান রাখা মিয়ানমারের সকল পক্ষ ও এই অঞ্চলের সবগুলো দেশের এক সাধারণ স্বার্থ।”

চীন মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা ও সমর্থন দিয়ে যাবে এবং সক্রিয়ভাবে শান্তি ও সংলাপের প্রচার চালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মাও।

রয়টার্স জানায়, মিয়ানমারের যে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজেদের বলে বিবেচিত অঞ্চলগুলো থেকে সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে দিতে লড়াই করছে, এমএনডিএএ তাদের অন্যতম।

এমএনডিএএ তথাকথিত ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সে’ এর অংশ। এই বিদ্রোহী জোটের অপর দুই সদস্য হল আরাকান আর্মি (এএ) ও তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) । এই জোট ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের শাসক জান্তার বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে চীনে সীমান্তের কাছে বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

মিয়ানমারের জাতিগত চীনাদের নিয়ে গঠিত এমএনডিএএ গত জুলাইয়ে জানায়, তারা চীনের সীমান্তের কাছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর একটি হেডকোয়ার্টারের দখল নিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী বাহিনীগুলো সামরিক বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলগুলো থেকে হটিয়ে দিয়ে মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ের দিকে দিকে এগিয়ে যাচ্ছে; তাদের এ অগ্রগতিতে চীন উদ্বিগ্ন।

মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে দেশটির সামরিক বাহিনী ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে দেশটিতে গভীর সঙ্কট চলছে।

চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের ২০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। এই সীমান্ত বরাবর বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন চীন। এই বিশৃঙ্খলা বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে ঝুকিতে ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত তারা।

এর আগেও চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস পরই ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ে।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী

চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি

আপডেট সময় : ০১:১৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৫

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) যুদ্ধবিরতির একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এ যুদ্ধবিরতির ফলে চীন ও মিয়ানমামের মধ্যবর্তী সীমান্তের কাছে লড়াই বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

চীনা মন্ত্রণালয়টির মুখপাত্র মাও নিং সোমবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, পক্ষ দু’টি চীনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুনমিংয়ে বৈঠকে বসে আলোচনা করেছিলেন, সেখানে তারা বেইজিংকে তাদের শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মাও বলেন, “মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করা এবং চীন ও মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে অবদান রাখা মিয়ানমারের সকল পক্ষ ও এই অঞ্চলের সবগুলো দেশের এক সাধারণ স্বার্থ।”

চীন মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা ও সমর্থন দিয়ে যাবে এবং সক্রিয়ভাবে শান্তি ও সংলাপের প্রচার চালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মাও।

রয়টার্স জানায়, মিয়ানমারের যে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজেদের বলে বিবেচিত অঞ্চলগুলো থেকে সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে দিতে লড়াই করছে, এমএনডিএএ তাদের অন্যতম।

এমএনডিএএ তথাকথিত ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সে’ এর অংশ। এই বিদ্রোহী জোটের অপর দুই সদস্য হল আরাকান আর্মি (এএ) ও তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) । এই জোট ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের শাসক জান্তার বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে চীনে সীমান্তের কাছে বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

মিয়ানমারের জাতিগত চীনাদের নিয়ে গঠিত এমএনডিএএ গত জুলাইয়ে জানায়, তারা চীনের সীমান্তের কাছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর একটি হেডকোয়ার্টারের দখল নিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী বাহিনীগুলো সামরিক বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলগুলো থেকে হটিয়ে দিয়ে মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ের দিকে দিকে এগিয়ে যাচ্ছে; তাদের এ অগ্রগতিতে চীন উদ্বিগ্ন।

মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে দেশটির সামরিক বাহিনী ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে দেশটিতে গভীর সঙ্কট চলছে।

চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের ২০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। এই সীমান্ত বরাবর বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন চীন। এই বিশৃঙ্খলা বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে ঝুকিতে ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত তারা।

এর আগেও চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস পরই ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ে।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম