ঢাকা ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারের মানুষের ৩ দাবি প্রধানমন্ত্রীকে বরনে প্রস্তুত পেকুয়া কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চাই -কক্সবাজারে ক্রীড়ামন্ত্রী কুতুবদিয়ায় উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে দিনব্যাপী কর্মসূচি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আগুন, ক্ষতি প্রায় ১২ লাখ টাকা কক্সবাজারে ১২ ঘন্টার সফরে ১১ কর্মসূচীতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজের দোকানে ফাঁসিতে ঝুলেছে মুজিব: পরকিয়া ও টাকার লেনদেন বলছে স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভা করার দাবি জানালেন ছাত্রনেতা বাসেত মির্জা বৃহত্তর মনোহরখালী ঐক্য পরিষদের জার্সি উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সফর, ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজারে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আলোর মূখ দেখেনি উখিয়ারঘোনা-গর্জনিয়া সড়ক : লাখো মানুষের ভোগান্তি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান জসিম বিশ্বকাপে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ দাপট দেখিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল মেক্সিকো

“ওয়ার্ল্ড স্টপস ফর গাজা” কর্মসূচি থেকে কেএফসি সহ কক্সবাজারের ৫ রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর

ফিলিস্তিনে বর্বর হামলার প্রতিবাদে “ওয়ার্ল্ড স্টপস ফর গাজা” কর্মসূচির সাথে সংহতি জানিয়ে কক্সবাজার শহর জুড়ে সাধারণ জনতার বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিল থেকে কক্সবাজার পর্যটন জোনের অন্তত ৫ টি রেস্টুরেন্টে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (০৭ এপ্রিল) বেলা ১২ টার দিকে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে সেটি হলিডে মোড় হয়ে ঘুরে লাবণী হয়ে কলাতলী যায়। এসময় ভাঙচুর চালানো হয়।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল টিটিএন-কে জানান, ইজরায়েলি পণ্য রাখার অজুহাতে কেএফসি, পিৎজা হাটের পাশাপাশি কাঁচা লংকা, পানসি রেস্টুরেন্ট এবং মেরিন ফুড রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানো হয়। এসময় কাঁচ লেগে কয়েকজন পর্যটক আহত হয়েছে।

“আমাদের ফিলিস্তিনের প্রতি সবসময় সংহতি রয়েছে। আজকের বিক্ষোভ মিছিলেও আমাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে। তবে কিছু উশৃংখল লোকজন দ্বারা এমন ঘটনা কক্সবাজারের পর্যটনের জন্য অশনি সংকেত। আমরা ইসরায়েলের পণ্য যত সম্ভব বর্জন করছি। তারা যদি সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলতে বলতো তাহলে সুন্দর একটা সমাধান হতো। ভাঙচুর করে পর্যটকদের কেন আহত করা হল! আমরা প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।” জানান জাবেদ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখ গেছে, কক্সবাজার শহরের পর্যটন জোনের সুগন্ধা এলাকায় টফ ফ্লোরে কেএফসি এবং এর নিচে পিৎজা হাটের অবস্থান। সেখানে বেশকিছু কাঁচ ভেঙে পড়ে আছে। ভাঙচুরের পর বন্ধ করা হয়েছে পিৎজা হাট। তবে খোলা রয়েছে কেএফসি।

কক্সবাজার পিৎজা হাটের ইনচার্জ পারভেজ মিয়া বলেন, মূলত কেএফসির ওপর মানুষের ক্ষোভ বেশি। তারা হঠাৎ মিছিল থেকে ইট পাটকেল মারা শুরু করে কেএফসি লক্ষ্য করে। তবে কেএফসি ওপরের ফ্লোরে হওয়ার এগুলো এসে পড়ে পিৎজা হাটে। আমাদের বেশকিছু কাঁচ এবং যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা আপাতত রেস্টুরেন্ট বন্ধ রেখেছি।

কাঁচা লংকা রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার ফিরোজ আহমেদ বলেন, রেস্তোরাঁর সাইনবোর্ডে সেভেন আপের বিজ্ঞাপন ছিলো। এই অজুহাতে আমাদের রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানো হয়। আমরাও তো ফিলিস্তিনকে সাপোর্ট করি। আমাদের বললে আমরা সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলতাম। কেন রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানো হলো!

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইলিয়াস খান জানিয়েছেন, পুলিশ মিছিলের আগে পিছে ছিল। মিছিলের দৈর্ঘ্য বেশ বেশি হওয়ায় মাঝখান থেকে কিছু অতি উৎসাহী মানুষ ইসরাইলে পণ্য রাখার অভিযোগে কয়েকটি রেস্টুরেন্টে পেপসির সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলেছে। কিছু দিল ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছে তবে মিছিলে উপস্থিত মুরুব্বিরা তাদেরকে তৎক্ষণাৎ নিয়ন্ত্রণ করে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারের মানুষের ৩ দাবি

“ওয়ার্ল্ড স্টপস ফর গাজা” কর্মসূচি থেকে কেএফসি সহ কক্সবাজারের ৫ রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর

আপডেট সময় : ০৩:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫

ফিলিস্তিনে বর্বর হামলার প্রতিবাদে “ওয়ার্ল্ড স্টপস ফর গাজা” কর্মসূচির সাথে সংহতি জানিয়ে কক্সবাজার শহর জুড়ে সাধারণ জনতার বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিল থেকে কক্সবাজার পর্যটন জোনের অন্তত ৫ টি রেস্টুরেন্টে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (০৭ এপ্রিল) বেলা ১২ টার দিকে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে সেটি হলিডে মোড় হয়ে ঘুরে লাবণী হয়ে কলাতলী যায়। এসময় ভাঙচুর চালানো হয়।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল টিটিএন-কে জানান, ইজরায়েলি পণ্য রাখার অজুহাতে কেএফসি, পিৎজা হাটের পাশাপাশি কাঁচা লংকা, পানসি রেস্টুরেন্ট এবং মেরিন ফুড রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানো হয়। এসময় কাঁচ লেগে কয়েকজন পর্যটক আহত হয়েছে।

“আমাদের ফিলিস্তিনের প্রতি সবসময় সংহতি রয়েছে। আজকের বিক্ষোভ মিছিলেও আমাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে। তবে কিছু উশৃংখল লোকজন দ্বারা এমন ঘটনা কক্সবাজারের পর্যটনের জন্য অশনি সংকেত। আমরা ইসরায়েলের পণ্য যত সম্ভব বর্জন করছি। তারা যদি সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলতে বলতো তাহলে সুন্দর একটা সমাধান হতো। ভাঙচুর করে পর্যটকদের কেন আহত করা হল! আমরা প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।” জানান জাবেদ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখ গেছে, কক্সবাজার শহরের পর্যটন জোনের সুগন্ধা এলাকায় টফ ফ্লোরে কেএফসি এবং এর নিচে পিৎজা হাটের অবস্থান। সেখানে বেশকিছু কাঁচ ভেঙে পড়ে আছে। ভাঙচুরের পর বন্ধ করা হয়েছে পিৎজা হাট। তবে খোলা রয়েছে কেএফসি।

কক্সবাজার পিৎজা হাটের ইনচার্জ পারভেজ মিয়া বলেন, মূলত কেএফসির ওপর মানুষের ক্ষোভ বেশি। তারা হঠাৎ মিছিল থেকে ইট পাটকেল মারা শুরু করে কেএফসি লক্ষ্য করে। তবে কেএফসি ওপরের ফ্লোরে হওয়ার এগুলো এসে পড়ে পিৎজা হাটে। আমাদের বেশকিছু কাঁচ এবং যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা আপাতত রেস্টুরেন্ট বন্ধ রেখেছি।

কাঁচা লংকা রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার ফিরোজ আহমেদ বলেন, রেস্তোরাঁর সাইনবোর্ডে সেভেন আপের বিজ্ঞাপন ছিলো। এই অজুহাতে আমাদের রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানো হয়। আমরাও তো ফিলিস্তিনকে সাপোর্ট করি। আমাদের বললে আমরা সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলতাম। কেন রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানো হলো!

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইলিয়াস খান জানিয়েছেন, পুলিশ মিছিলের আগে পিছে ছিল। মিছিলের দৈর্ঘ্য বেশ বেশি হওয়ায় মাঝখান থেকে কিছু অতি উৎসাহী মানুষ ইসরাইলে পণ্য রাখার অভিযোগে কয়েকটি রেস্টুরেন্টে পেপসির সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলেছে। কিছু দিল ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছে তবে মিছিলে উপস্থিত মুরুব্বিরা তাদেরকে তৎক্ষণাৎ নিয়ন্ত্রণ করে।