ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে- ববি হাজ্জাজ  খুরুশকুলের শিশু উর্মি হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা : আসামী ৩ জন কক্সবাজার: স্বপ্নের পথে মৃত্যু, আর কত? জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি স্বপ্না-নিরাপত্তা জোরদার, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে উখিয়ায় জামায়াত-এনসিপির প্রার্থী চূড়ান্ত, বিএনপির কে? ইনানী সী পার্ল রিসোর্ট – চাকচিক্যের আড়ালে রাষ্ট্রের ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ!  স্থানীয় সরকার নির্বাচন – কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার সদর ও উখিয়ায় প্রার্থী দিল এনসিপি মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের কর্মশালায় ফারুক ওয়াসিফ-প্রযুক্তির এই যুগে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করলেন ববি হাজ্জাজ মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে গিয়ে ৫ জামায়াত-বিএনপি নেতা আটক কক্সবাজারে শুরু হলো ৩ দিনব্যাপী মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম প্রশিক্ষণ মালয়েশিয়ার প্রলোভনে নিখোঁজ হয়ে মিয়ানমার কারাগারে ছেলে, পথে ঘুরছেন অসহায় মা চকরিয়ায় ১৯ মামলার আসামী গ্রেপ্তার! বঙ্গোসাগরের ওপর সেই আলো ছিল ভারতীয় অত্যাধুনিক মিসাইল বঙ্গবন্ধুর সহচর বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম মোজাম্মেল হকের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

উচ্চ আদালতের ‘নিষেধাজ্ঞা’ অমান্য করে সৈকতে স্থাপনা!

উচ্চ আদালাতের নিষেধাজ্ঞা না মেনেই সমুদ্র সৈকতে বসছে উড়োজাহাজের প্রতিকৃতি।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো স্থায়ী ও ক্ষতিকারক অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এছাড়াও সৈকতে জেলা প্রশাসনের দেওয়া একটি নির্দেশিকা বোর্ডে লেখা আছে, ‘ সৈকতের বালিয়াড়িতে কোন ধরণের ভ্রাম্যমান দোকান ও স্থাপনা বসানো সম্পূর্ণ নিষেধ, আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ৮ টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা যায়, বালিয়াড়িতে উড়োজাহাজ আকৃতির একটি অস্থায়ী স্থাপনার নির্মাণযজ্ঞ চলছে যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট এবং প্রস্থে ১৫ ফুট।

নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও কিভাবে বালিয়াড়ির বুকে এমন কাজ চলছে? সেই উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রতিবেদকের হাতে আসে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী কমিশনার) আজিম খান স্বাক্ষরিত একটি অনুমতি পত্র।

পত্র অনুযায়ী, গত ১৭ ডিসেম্বর ব্র‍্যান্ড সলিউশন লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২১ ডিসেম্বর থেকে ০১ জানুয়ারি পর্যন্ত সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের উত্তর পার্শ্বে অনুষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়।

পত্রে ‘অনুষ্ঠান পরিচালনা/পয়েন্ট’ নামে একটি কলামের ২নং ক্রমিকে লেখা হয়েছে ক্ষুদ্র আকারে এলইডি প্রদর্শনী (৫ ফুট বাই ৬ ফুট), ১নং ক্রমিকে ফটোবুথ এবং ব্র‍্যাকেটে বিমান লেখা হলেও দৈর্ঘ্য বা প্রস্থ লেখা হয়নি।

এছাড়াও একই পত্রে উল্লেখিত ১৬ টি শর্তের মধ্যে ১নং শর্তে লেখা হয়েছে, ‘ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র‍্য ও সৌন্দর্য্য বিনষ্ট হয় এরূপ কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে হবে।’

পরিবেশ সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘ ইসিএ এলাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর, সৈকতের বালিয়াড়িতে অস্থায়ী বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞাও আছে। এমন অবস্থায় কি করে সেটি হলো তা সংশ্লিষ্টদের খতিয়ে দেখা উচিত।’ অনুমতিপত্রের ৮ নং শর্তে বলা হয়েছে, ‘জনসাধারণের চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।’

সৈকতে ঘুরতে আসা মোস্তফা নামে এক পর্যটক বলেন, ‘ এমনিতেই সৈকতে মানুষের ভীড়, তার উপর একদম বিচের মাঝখানেই বিমানের মত কি একটা বানানো হচ্ছে। সৈকত উন্মুক্ত হওয়া উচিত এই দৃশ্য বিব্রতকর। ‘

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ইরশাদুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘ এক্টিভেশন বা প্রচারণার জন্য অনুমতি নেয়া হয়েছে, বাকিটা অপারেশন ম্যানেজার রিপন বিশ্বাস বলতে পারবে।’ রিপন বিশ্বাসের সাথে এবিষয়ে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোন নাম্বার চাওয়া হলে ‘ ঠিক আছে আমি দেখছি’ বলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘বিষয়টির খোঁজ নিয়ে’ দেখবেন বলে জানান।

বারবার ফোন করা হলেও অনুমতি প্রদান করা পর্যটন ম্যাজিস্ট্রেট আজিম খান কল ধরেননি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে- ববি হাজ্জাজ 

উচ্চ আদালতের ‘নিষেধাজ্ঞা’ অমান্য করে সৈকতে স্থাপনা!

আপডেট সময় : ১০:১১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

উচ্চ আদালাতের নিষেধাজ্ঞা না মেনেই সমুদ্র সৈকতে বসছে উড়োজাহাজের প্রতিকৃতি।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো স্থায়ী ও ক্ষতিকারক অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এছাড়াও সৈকতে জেলা প্রশাসনের দেওয়া একটি নির্দেশিকা বোর্ডে লেখা আছে, ‘ সৈকতের বালিয়াড়িতে কোন ধরণের ভ্রাম্যমান দোকান ও স্থাপনা বসানো সম্পূর্ণ নিষেধ, আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ৮ টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা যায়, বালিয়াড়িতে উড়োজাহাজ আকৃতির একটি অস্থায়ী স্থাপনার নির্মাণযজ্ঞ চলছে যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট এবং প্রস্থে ১৫ ফুট।

নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও কিভাবে বালিয়াড়ির বুকে এমন কাজ চলছে? সেই উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রতিবেদকের হাতে আসে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী কমিশনার) আজিম খান স্বাক্ষরিত একটি অনুমতি পত্র।

পত্র অনুযায়ী, গত ১৭ ডিসেম্বর ব্র‍্যান্ড সলিউশন লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২১ ডিসেম্বর থেকে ০১ জানুয়ারি পর্যন্ত সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের উত্তর পার্শ্বে অনুষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়।

পত্রে ‘অনুষ্ঠান পরিচালনা/পয়েন্ট’ নামে একটি কলামের ২নং ক্রমিকে লেখা হয়েছে ক্ষুদ্র আকারে এলইডি প্রদর্শনী (৫ ফুট বাই ৬ ফুট), ১নং ক্রমিকে ফটোবুথ এবং ব্র‍্যাকেটে বিমান লেখা হলেও দৈর্ঘ্য বা প্রস্থ লেখা হয়নি।

এছাড়াও একই পত্রে উল্লেখিত ১৬ টি শর্তের মধ্যে ১নং শর্তে লেখা হয়েছে, ‘ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র‍্য ও সৌন্দর্য্য বিনষ্ট হয় এরূপ কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে হবে।’

পরিবেশ সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘ ইসিএ এলাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর, সৈকতের বালিয়াড়িতে অস্থায়ী বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞাও আছে। এমন অবস্থায় কি করে সেটি হলো তা সংশ্লিষ্টদের খতিয়ে দেখা উচিত।’ অনুমতিপত্রের ৮ নং শর্তে বলা হয়েছে, ‘জনসাধারণের চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।’

সৈকতে ঘুরতে আসা মোস্তফা নামে এক পর্যটক বলেন, ‘ এমনিতেই সৈকতে মানুষের ভীড়, তার উপর একদম বিচের মাঝখানেই বিমানের মত কি একটা বানানো হচ্ছে। সৈকত উন্মুক্ত হওয়া উচিত এই দৃশ্য বিব্রতকর। ‘

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ইরশাদুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘ এক্টিভেশন বা প্রচারণার জন্য অনুমতি নেয়া হয়েছে, বাকিটা অপারেশন ম্যানেজার রিপন বিশ্বাস বলতে পারবে।’ রিপন বিশ্বাসের সাথে এবিষয়ে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোন নাম্বার চাওয়া হলে ‘ ঠিক আছে আমি দেখছি’ বলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘বিষয়টির খোঁজ নিয়ে’ দেখবেন বলে জানান।

বারবার ফোন করা হলেও অনুমতি প্রদান করা পর্যটন ম্যাজিস্ট্রেট আজিম খান কল ধরেননি।