ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: সন্ত্রাসী জিয়াউর রহমানসহ আটক ১৭, অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ার মানুষ পুলিশ বান্ধব- রামুর ওসি মুনিরুল জেলা শিল্পকলা একাডেমির “বর্ষায় নজরুল” স্মরণ অনুষ্ঠান ‘প্রশ্নটা বিব্রতকর’, পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ​রাজু ভাস্কর্যে এমপি শাহজাহান চৌধুরীর আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন সাইফুল ইসলাম জিহাদী খুনিয়া পালংয়ে কলেজ ছাত্রকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা ও প্রতিবাদ উখিয়ায় বিএসটিআইয়ের লোগো লাগিয়ে চলছিলো বেকারি পণ্য, এসিল্যান্ডের অভিযানে জরিমানা পেকুয়ায় অবৈধ বাঁধ অপসারণ: স্বস্তিতে ১০ হাজার মানুষ হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে বৈঠকে হামলা, পরিষদে ভাঙচুর : আহত কয়েকজন কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব গড়তে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন জাবির সিনেট সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় অধ্যক্ষ আক্তার চৌধুরীকে সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সমাজ কমিটির সংবর্ধনা নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী 
মৎস্য ঘেরে যুবক নিহত: ময়নাতদন্ত শেষ

আহত হ্যাচারির পরিচালককে পুলিশি তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম প্রেরণ

কক্সবাজারের খুরুশকুল মাঝির ঘাট এলাকায় মৎস্য ঘেরে যুবক নিহতের ঘটনায় মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত আলী আকবরের দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

সোমবার দুপুরে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান জানান, এঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবার দাফন সম্পন্ন করে থানায় আসার কথা তাকে জানিয়েছেন।

ওসি বলেন, “মো. হোসেন ও মিজান নামের দুজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং হ্যাচারির পরিচালক রাইয়ান কাশেমকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিলো।”

রাইয়ান কাসেমের বড় ভাই তাজওয়ার কাসেম মুঠোফোনে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, রাইয়ানের মাথায় আঘাত হয়েছে। এছাড়া শরীরেও আঘাত করা হয়েছে তাকে।

তবে কোনো আইনী পদক্ষেপ নেবেন কিনা জানতে চাইলে তাজওয়ার বলেন, “আপাতত ভাইয়ের চিকিৎসা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।”

এদিকে ময়নাতদন্তের বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শাবুক্তগীন মাহমুদ শহেল জানান, নিহত যুবকের মাথায় ও চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাত পেছনে বাঁধা ছিলো। কিভাবে কি কারণে মৃত্যু হয়েছে তা বিস্তারিত ময়না প্রতিবেদনে উঠে আসবে।

রোববার দিবাগত রাত (৫ মে) ১২ টার দিকে খুরুশকুলের মাঝির ঘাটের একটি মৎস্য ঘেরে আলি আকবর নামের ওই যুবক নিহতের ঘটনা ঘটে বলে জানান কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান।

ওসি ইলিয়াস খান বলেন, নিহত আলি আকবর (৩৫) খুরুশকুলের কুলিয়াপাড়ার মৃত দানু মিয়ার পুত্র।

ঘটনার পর হ্যাচারির পরিচালক রাইয়ান কাশেম গণমাধ্যমের কাছে দাবী করেছিলেন, নিহত যুবক তাদের ঘেরে মাছ চুরি করতে এসে ধরা পড়ে। এসময় ওই যুবক নৈশ প্রহরীকে দা দিয়ে আঘাত করলে আত্মরক্ষার্থে সেও লাঠির আঘাত করে৷ এতে আকবর নামের ওই যুবক নিহত হয়।

তবে এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আকবর’কে চুরির অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল জানান, যুবকের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার স্থান ‘আল্লাহওয়ালা হ্যাচারি’তে এলাকাবাসী ভাঙচুর চালিয়েছেন। একপর্যায়ে তারা হ্যাচারির পরিচালক রাইয়ান কাসেমের উপরও হামলা করে। এতে রাইয়ান আহত হন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

তিনি এলাকাবাসীকে নিবৃত করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান।

হ্যাচারির পরিচালক রাইয়ান কাসেম কক্সবাজারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক। তিনি নবগঠিত এনসিপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। তার সহযোদ্ধারা যুবক হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি রাইয়ানের উপর হামলার বিচার দাবী করেছেন।

ছাত্র সংগঠক এসএস সাগর বলেন, “যুবক নিহতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করছি। কিন্তু নিহত ব্যক্তির এলাকার কিছু উশৃঙ্খল, উগ্র ও উত্তেজিত লোকজন জড়ো হয়ে রাইয়ানের উপর বর্বরভাবে হামলা চালায়। সম্পূর্ণ নিরপরাধ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকাকালীন সর্বোচ্চ সহযোগিতার মনোভাব পোষণ করা সত্ত্বেও রাইয়ান নির্মমভাবে মারধরের শিকার হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের সামনেই তাকে নোংরাভাবে হামলা করা হয়। আমরা এরও বিচার চাই।”

রাইয়ান কাসেমের সহযোদ্ধা মীর অনির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, “রাতে আল্লাহওয়ালা হ‍্যাচারিতে ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবি জানাই। তবে রাইয়ান কাসেম এর উপর এতগুলো মিডিয়ার সামনে হামলা করাটা সুপরিকল্পিত এবং সুযোগের সৎ ব‍্যবহার করা। তীব্র নিন্দা জানাই।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: সন্ত্রাসী জিয়াউর রহমানসহ আটক ১৭, অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

মৎস্য ঘেরে যুবক নিহত: ময়নাতদন্ত শেষ

আহত হ্যাচারির পরিচালককে পুলিশি তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম প্রেরণ

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

কক্সবাজারের খুরুশকুল মাঝির ঘাট এলাকায় মৎস্য ঘেরে যুবক নিহতের ঘটনায় মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত আলী আকবরের দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

সোমবার দুপুরে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান জানান, এঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবার দাফন সম্পন্ন করে থানায় আসার কথা তাকে জানিয়েছেন।

ওসি বলেন, “মো. হোসেন ও মিজান নামের দুজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং হ্যাচারির পরিচালক রাইয়ান কাশেমকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিলো।”

রাইয়ান কাসেমের বড় ভাই তাজওয়ার কাসেম মুঠোফোনে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, রাইয়ানের মাথায় আঘাত হয়েছে। এছাড়া শরীরেও আঘাত করা হয়েছে তাকে।

তবে কোনো আইনী পদক্ষেপ নেবেন কিনা জানতে চাইলে তাজওয়ার বলেন, “আপাতত ভাইয়ের চিকিৎসা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।”

এদিকে ময়নাতদন্তের বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শাবুক্তগীন মাহমুদ শহেল জানান, নিহত যুবকের মাথায় ও চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাত পেছনে বাঁধা ছিলো। কিভাবে কি কারণে মৃত্যু হয়েছে তা বিস্তারিত ময়না প্রতিবেদনে উঠে আসবে।

রোববার দিবাগত রাত (৫ মে) ১২ টার দিকে খুরুশকুলের মাঝির ঘাটের একটি মৎস্য ঘেরে আলি আকবর নামের ওই যুবক নিহতের ঘটনা ঘটে বলে জানান কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান।

ওসি ইলিয়াস খান বলেন, নিহত আলি আকবর (৩৫) খুরুশকুলের কুলিয়াপাড়ার মৃত দানু মিয়ার পুত্র।

ঘটনার পর হ্যাচারির পরিচালক রাইয়ান কাশেম গণমাধ্যমের কাছে দাবী করেছিলেন, নিহত যুবক তাদের ঘেরে মাছ চুরি করতে এসে ধরা পড়ে। এসময় ওই যুবক নৈশ প্রহরীকে দা দিয়ে আঘাত করলে আত্মরক্ষার্থে সেও লাঠির আঘাত করে৷ এতে আকবর নামের ওই যুবক নিহত হয়।

তবে এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আকবর’কে চুরির অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোহেল জানান, যুবকের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার স্থান ‘আল্লাহওয়ালা হ্যাচারি’তে এলাকাবাসী ভাঙচুর চালিয়েছেন। একপর্যায়ে তারা হ্যাচারির পরিচালক রাইয়ান কাসেমের উপরও হামলা করে। এতে রাইয়ান আহত হন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

তিনি এলাকাবাসীকে নিবৃত করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান।

হ্যাচারির পরিচালক রাইয়ান কাসেম কক্সবাজারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক। তিনি নবগঠিত এনসিপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। তার সহযোদ্ধারা যুবক হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি রাইয়ানের উপর হামলার বিচার দাবী করেছেন।

ছাত্র সংগঠক এসএস সাগর বলেন, “যুবক নিহতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করছি। কিন্তু নিহত ব্যক্তির এলাকার কিছু উশৃঙ্খল, উগ্র ও উত্তেজিত লোকজন জড়ো হয়ে রাইয়ানের উপর বর্বরভাবে হামলা চালায়। সম্পূর্ণ নিরপরাধ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকাকালীন সর্বোচ্চ সহযোগিতার মনোভাব পোষণ করা সত্ত্বেও রাইয়ান নির্মমভাবে মারধরের শিকার হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের সামনেই তাকে নোংরাভাবে হামলা করা হয়। আমরা এরও বিচার চাই।”

রাইয়ান কাসেমের সহযোদ্ধা মীর অনির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, “রাতে আল্লাহওয়ালা হ‍্যাচারিতে ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবি জানাই। তবে রাইয়ান কাসেম এর উপর এতগুলো মিডিয়ার সামনে হামলা করাটা সুপরিকল্পিত এবং সুযোগের সৎ ব‍্যবহার করা। তীব্র নিন্দা জানাই।”