ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে সংঘাত-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন ৬ বছর পর নিষিদ্ধ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের ৮৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি লোহাগাড়ায় পুকুরে গোসলে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার সদর থানার বিশেষ অভিযান : গ্রেফতার ১৫ রামুতে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও ডাকাত আটক, ৩ জনের কারাদণ্ড মা ইলিশ সংরক্ষণে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনী পেকুয়ায় নিজ বিদ্যালয়ে সংবর্ধিত কউক চেয়ারম্যান ও কমেক অধ্যক্ষ উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযান : বালিভর্তি দুই অবৈধ ডাম্পার জব্দ কক্সবাজারে ২ প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা জাতীয় পর্যায়ে “সেরা গুণী শিক্ষক” সম্মাননা পেলেন রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুলের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আব্দুর রহিম টেকনাফে এসআরবি ও বিজিবির যৌথ অভিযান : ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার বাস টার্মিনালের স্ট্যান্ড পার্ক হোটেলে আলোচিত কুলসুমা হত্যার প্রধান আসামী ইরফান গ্রেফতার সাগরে মাছ শিকারে বন্ধ : দুঃশ্চিন্তায় জেলেরা পেকুয়ায় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা
অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া গমন

‘স্বেচ্ছায় পাচার’ হতে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে

স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয় রহমত উল্লাহ। উদ্দেশ্য মালয়েশিয়া গমন। সাথে ছিলো তার আরেক মামাতো ভাইও। রহমত উল্লাহ (৪৫) রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির চরপাড়া এলাকার মো: কাশেমের পুত্র।

টেকনাফ থেকে অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর। সহযাত্রী ছিল তারই এলাকার আরও ৯ জন।

তবে মালয়েশিয়া আর যাওয়া হলোনা রহমতের। ফিরলেন লাশ হয়ে। টেকনাফের ডেইলপাড়া এলাকার মানবপাচারের ডেরা থেকে পালানোর সময় ডাকাতের হাতে মৃত্যু হয় রহমত উল্লাহর। নিখোঁজ আছেন তার সাথে যাওয়া মামাতো ভাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ডেরা থেকে পালিয়ে আসা একজনের স্বজন জানান, শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা থেকে জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে রহমত উল্লাহসহ ৬ জনকে নিয়ে যাওয়া হয় টেকনাফ ডেইলপাড়া এলাকায়। পরদিন মনির, তারেক, অলি উল্লাহ ও মনু নামের আরও ৪ জনকে কৌশলে নিয়ে যায় ওই জাহাঙ্গীর। গাড়ীর ড্রাইভারসহ মোট ১১ জনকে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখায় জাহাঙ্গীর।

এই স্বজন আরো জানান, মূলত পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে এমন প্রলোভনে পড়ে যায় তারা। তবে টেকনাফ নিয়ে পাঁচদিন বন্দী করে রাখে ওই ১১ জনকে। পরে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তারা জানালা দিয়ে পালিয়ে আসার সময় মারধরের শিকার হন। পরে দালালদের হাত থেকে নয় জন বেঁচে ফিরতে পারলেও ফিরতে পারেনি রহমত উল্লাহ।

এক স্বজন বলেন, “এরমধ্যে ২ জন ফিরেছেন এক লক্ষ টাকা মুক্তিপন দিয়ে।”

নিহত রহমত উল্লাহর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সফুরা খাতুন জানান, দালালচক্রের গোপন আস্তানা থেকে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার স্বামী। তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে আনেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

সফুরা জানান, এমন খবর পেয়ে তার বোন জামাইসহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসার ১০ মিনিট পর মৃত্যু হয় তার স্বামীর।

সফুরার বোন জামাই মো: রাসেল জানান, শুক্রবার থেকে খোঁজ না পাওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েন তারা। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ তিনি খবর পান টেকনাফে যাওয়া সেই ১১ জনকে মারধর করেছে দালাল চক্র। তবে সেখানে রহমত উল্লাহর নাম খুঁজে পাননি তিনি। পরে তার কাছে খবর আসে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রহমত উল্লাহ নামের একজন ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে।

রাসেল বলেন, “হাসপাতালে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাদেরকে জানান ছুরিকাঘাতের ফলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু হয়েছে রহমত উল্লাহর। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন পাওয়া গেছে।”

রাসেল জানান, এ ঘটনায় রহমত উল্লাহর মামাতো ভাই এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে দালালরা।

এ ঘটনা টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: গিয়াস উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, এধরণের কোনো ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন তিনি। তবে বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে তদন্ত করা হবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছেন। মানবপাচার বিষয়টি নিয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উন্নত জীবনের আশায় ‘স্বেচ্ছায় পাচার’ হন। সাগরে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে জেনেও তারা এ পন্থায় বিদেশে যেতে চান দালালদের মাধ্যেম।”

এই ‘স্বেচ্ছায় পাচার’ বিষয়টির কারবে মানবপাচার ঠেকানো অনেকাংশে কঠিন বলে মনে করেন মিজানুর রহমান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে সংঘাত-সংবেদনশীল সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন

অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া গমন

‘স্বেচ্ছায় পাচার’ হতে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে

আপডেট সময় : ০১:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫

স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয় রহমত উল্লাহ। উদ্দেশ্য মালয়েশিয়া গমন। সাথে ছিলো তার আরেক মামাতো ভাইও। রহমত উল্লাহ (৪৫) রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির চরপাড়া এলাকার মো: কাশেমের পুত্র।

টেকনাফ থেকে অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর। সহযাত্রী ছিল তারই এলাকার আরও ৯ জন।

তবে মালয়েশিয়া আর যাওয়া হলোনা রহমতের। ফিরলেন লাশ হয়ে। টেকনাফের ডেইলপাড়া এলাকার মানবপাচারের ডেরা থেকে পালানোর সময় ডাকাতের হাতে মৃত্যু হয় রহমত উল্লাহর। নিখোঁজ আছেন তার সাথে যাওয়া মামাতো ভাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ডেরা থেকে পালিয়ে আসা একজনের স্বজন জানান, শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা থেকে জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে রহমত উল্লাহসহ ৬ জনকে নিয়ে যাওয়া হয় টেকনাফ ডেইলপাড়া এলাকায়। পরদিন মনির, তারেক, অলি উল্লাহ ও মনু নামের আরও ৪ জনকে কৌশলে নিয়ে যায় ওই জাহাঙ্গীর। গাড়ীর ড্রাইভারসহ মোট ১১ জনকে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখায় জাহাঙ্গীর।

এই স্বজন আরো জানান, মূলত পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে এমন প্রলোভনে পড়ে যায় তারা। তবে টেকনাফ নিয়ে পাঁচদিন বন্দী করে রাখে ওই ১১ জনকে। পরে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তারা জানালা দিয়ে পালিয়ে আসার সময় মারধরের শিকার হন। পরে দালালদের হাত থেকে নয় জন বেঁচে ফিরতে পারলেও ফিরতে পারেনি রহমত উল্লাহ।

এক স্বজন বলেন, “এরমধ্যে ২ জন ফিরেছেন এক লক্ষ টাকা মুক্তিপন দিয়ে।”

নিহত রহমত উল্লাহর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সফুরা খাতুন জানান, দালালচক্রের গোপন আস্তানা থেকে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার স্বামী। তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে আনেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

সফুরা জানান, এমন খবর পেয়ে তার বোন জামাইসহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসার ১০ মিনিট পর মৃত্যু হয় তার স্বামীর।

সফুরার বোন জামাই মো: রাসেল জানান, শুক্রবার থেকে খোঁজ না পাওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েন তারা। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ তিনি খবর পান টেকনাফে যাওয়া সেই ১১ জনকে মারধর করেছে দালাল চক্র। তবে সেখানে রহমত উল্লাহর নাম খুঁজে পাননি তিনি। পরে তার কাছে খবর আসে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রহমত উল্লাহ নামের একজন ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে।

রাসেল বলেন, “হাসপাতালে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাদেরকে জানান ছুরিকাঘাতের ফলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু হয়েছে রহমত উল্লাহর। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন পাওয়া গেছে।”

রাসেল জানান, এ ঘটনায় রহমত উল্লাহর মামাতো ভাই এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে দালালরা।

এ ঘটনা টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: গিয়াস উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, এধরণের কোনো ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন তিনি। তবে বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে তদন্ত করা হবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছেন। মানবপাচার বিষয়টি নিয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উন্নত জীবনের আশায় ‘স্বেচ্ছায় পাচার’ হন। সাগরে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে জেনেও তারা এ পন্থায় বিদেশে যেতে চান দালালদের মাধ্যেম।”

এই ‘স্বেচ্ছায় পাচার’ বিষয়টির কারবে মানবপাচার ঠেকানো অনেকাংশে কঠিন বলে মনে করেন মিজানুর রহমান।