ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি পেকুয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী মহোৎসব সম্পন্ন বাফুফের একাডেমিক স্বীকৃতি পেয়েছে কালারমারছড়া ফুটবল একাডেমি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা বাইকের জন্য প্রাণ দিতে হলো সাইফুলকে! কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযান : ২৪ ঘন্টায় আটক ২১ সাবরাং থেকে মিঠাছড়ির ৫ অপহৃত উদ্ধার : গ্রেপ্তার ১ কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের ছাত্রী গ্রেপ্তার কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের ছাত্রী গ্রেপ্তার ভারতে পরলোকগত আ ফ্রু রাখাইনের শেষকৃত্য সম্পন্ন এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম মরদেহ উদ্ধার মহেশখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের ৫৩ জনের নামে মামলা প্রাইভেট কারে তল্লাশি: ৮৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১, পলাতক ৩ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রামুতে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামীর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার সখ্যতার অভিযোগ

কক্সবাজারের রামুতে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই ‘ভুয়া’ চাঁদাবাজি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ভুক্তভোগী জিটু বড়ুয়া এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ জুন রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাজারীকুল গ্রামের খোকন বড়ুয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী জিটু বড়ুয়া ও তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। দুই দিন পর জিটু রামু থানায় খোকন বড়ুয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তবে সাড়ে তিন মাস পার হলেও পরোয়ানাভুক্ত প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। বরং তিনি উল্টো ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জিটু বড়ুয়াদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলারই তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই কামাল হোসেন।

জিটু বড়ুয়ার অভিযোগ, চাঁদাবাজি মামলায় অনুকূল প্রতিবেদন দিতে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এসআই কামাল। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি তড়িঘড়ি করে খোকন বড়ুয়ার মামলায় ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

জিটুর বাবা শিবু বড়ুয়া বলেন, “যে খোকন বড়ুয়া আমাদের উপর হামলা করে পরোয়ানাভুক্ত আসামি হয়েছেন, তাকে আটক না করে এসআই কামাল উল্টো ঘুষ খেয়ে তার পক্ষেই প্রতিবেদন দিয়েছেন।”

ঘটনার প্রতিবাদে গত ১১ জুলাই রামু থানার সামনে মানববন্ধন করে হাজারীকুল, সিপাহীপাড়া ও নাথপাড়ার বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, হামলার পেছনে ছিল জমি বিরোধ; চাঁদা দাবি বা চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল ‘পুরোপুরি সাজানো নাটক’।

অভিযুক্ত এসআই কামাল হোসেন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দুটি মামলারই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।” তবে কেন প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়াকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই মামলায় পরোয়ানা জারি আছে, তবে বিষয়টি আগে জানতাম না।”

রামু থানার ওসি আরিফ হোসাইন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, “ঘটনাটি আসলেই দুঃখজনক। এসআই কামাল চাইলে এমন প্রতিবেদন না দিলেও পারতেন।”

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

এর আগে একই থানার সাবেক এসআই চিরঞ্জীব বড়ুয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ দাবি সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি

রামুতে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামীর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার সখ্যতার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের রামুতে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই ‘ভুয়া’ চাঁদাবাজি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ভুক্তভোগী জিটু বড়ুয়া এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ জুন রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাজারীকুল গ্রামের খোকন বড়ুয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী জিটু বড়ুয়া ও তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। দুই দিন পর জিটু রামু থানায় খোকন বড়ুয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তবে সাড়ে তিন মাস পার হলেও পরোয়ানাভুক্ত প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। বরং তিনি উল্টো ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জিটু বড়ুয়াদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলারই তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই কামাল হোসেন।

জিটু বড়ুয়ার অভিযোগ, চাঁদাবাজি মামলায় অনুকূল প্রতিবেদন দিতে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এসআই কামাল। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি তড়িঘড়ি করে খোকন বড়ুয়ার মামলায় ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

জিটুর বাবা শিবু বড়ুয়া বলেন, “যে খোকন বড়ুয়া আমাদের উপর হামলা করে পরোয়ানাভুক্ত আসামি হয়েছেন, তাকে আটক না করে এসআই কামাল উল্টো ঘুষ খেয়ে তার পক্ষেই প্রতিবেদন দিয়েছেন।”

ঘটনার প্রতিবাদে গত ১১ জুলাই রামু থানার সামনে মানববন্ধন করে হাজারীকুল, সিপাহীপাড়া ও নাথপাড়ার বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, হামলার পেছনে ছিল জমি বিরোধ; চাঁদা দাবি বা চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল ‘পুরোপুরি সাজানো নাটক’।

অভিযুক্ত এসআই কামাল হোসেন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দুটি মামলারই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।” তবে কেন প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়াকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই মামলায় পরোয়ানা জারি আছে, তবে বিষয়টি আগে জানতাম না।”

রামু থানার ওসি আরিফ হোসাইন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, “ঘটনাটি আসলেই দুঃখজনক। এসআই কামাল চাইলে এমন প্রতিবেদন না দিলেও পারতেন।”

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

এর আগে একই থানার সাবেক এসআই চিরঞ্জীব বড়ুয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ দাবি সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়।