ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানির বোতল ভেবে এসিড পান, রামুতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু পেকুয়ায় মাছের প্রজেক্ট দখলের চেষ্টা : অস্ত্রসহ দুজন আটক প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের আগেই দ্বিতীয় বিয়ে, সরকারি অফিসকে আবাস বানানোর অভিযোগ শাহাদাতের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তাহসান- রোহিঙ্গা তরুণদের পাশে থাকা ও বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান কক্সবাজারে এসে ১০ পদের রাখাইন-বার্মিজ খাবার খেলেন তাহসান খান কক্সবাজারে বিজিবি’র অভিযানে ২ জন আটক, ৭২ হাজার ইয়াবা ও ১৫ লিটার মদ উদ্ধার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জার্মানির সমর্থক: জানালেন ছেলে বিসিবি পরিচালক সাঈদ ইব্রাহীম ​ উন্মাদনারও বাস্তবতা আছে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোর চায় চীন হেরোইন ম্যানেজ হয়ে আটা-ময়দা হয়ে যায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালী, মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক হিন্দুরা মন্দিরে মূর্তি বানাবে, মুসলমানরা মসজিদ বানাবে—সমস্যা কোথায়?’ সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান কারা উঠল শেষ বত্রিশে, বাদ পড়ল কারা

রামুতে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামীর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার সখ্যতার অভিযোগ

কক্সবাজারের রামুতে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই ‘ভুয়া’ চাঁদাবাজি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ভুক্তভোগী জিটু বড়ুয়া এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ জুন রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাজারীকুল গ্রামের খোকন বড়ুয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী জিটু বড়ুয়া ও তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। দুই দিন পর জিটু রামু থানায় খোকন বড়ুয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তবে সাড়ে তিন মাস পার হলেও পরোয়ানাভুক্ত প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। বরং তিনি উল্টো ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জিটু বড়ুয়াদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলারই তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই কামাল হোসেন।

জিটু বড়ুয়ার অভিযোগ, চাঁদাবাজি মামলায় অনুকূল প্রতিবেদন দিতে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এসআই কামাল। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি তড়িঘড়ি করে খোকন বড়ুয়ার মামলায় ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

জিটুর বাবা শিবু বড়ুয়া বলেন, “যে খোকন বড়ুয়া আমাদের উপর হামলা করে পরোয়ানাভুক্ত আসামি হয়েছেন, তাকে আটক না করে এসআই কামাল উল্টো ঘুষ খেয়ে তার পক্ষেই প্রতিবেদন দিয়েছেন।”

ঘটনার প্রতিবাদে গত ১১ জুলাই রামু থানার সামনে মানববন্ধন করে হাজারীকুল, সিপাহীপাড়া ও নাথপাড়ার বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, হামলার পেছনে ছিল জমি বিরোধ; চাঁদা দাবি বা চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল ‘পুরোপুরি সাজানো নাটক’।

অভিযুক্ত এসআই কামাল হোসেন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দুটি মামলারই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।” তবে কেন প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়াকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই মামলায় পরোয়ানা জারি আছে, তবে বিষয়টি আগে জানতাম না।”

রামু থানার ওসি আরিফ হোসাইন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, “ঘটনাটি আসলেই দুঃখজনক। এসআই কামাল চাইলে এমন প্রতিবেদন না দিলেও পারতেন।”

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

এর আগে একই থানার সাবেক এসআই চিরঞ্জীব বড়ুয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ দাবি সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানির বোতল ভেবে এসিড পান, রামুতে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

রামুতে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামীর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার সখ্যতার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের রামুতে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই ‘ভুয়া’ চাঁদাবাজি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ভুক্তভোগী জিটু বড়ুয়া এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ জুন রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাজারীকুল গ্রামের খোকন বড়ুয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী জিটু বড়ুয়া ও তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। দুই দিন পর জিটু রামু থানায় খোকন বড়ুয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তবে সাড়ে তিন মাস পার হলেও পরোয়ানাভুক্ত প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। বরং তিনি উল্টো ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জিটু বড়ুয়াদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলারই তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই কামাল হোসেন।

জিটু বড়ুয়ার অভিযোগ, চাঁদাবাজি মামলায় অনুকূল প্রতিবেদন দিতে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এসআই কামাল। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি তড়িঘড়ি করে খোকন বড়ুয়ার মামলায় ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

জিটুর বাবা শিবু বড়ুয়া বলেন, “যে খোকন বড়ুয়া আমাদের উপর হামলা করে পরোয়ানাভুক্ত আসামি হয়েছেন, তাকে আটক না করে এসআই কামাল উল্টো ঘুষ খেয়ে তার পক্ষেই প্রতিবেদন দিয়েছেন।”

ঘটনার প্রতিবাদে গত ১১ জুলাই রামু থানার সামনে মানববন্ধন করে হাজারীকুল, সিপাহীপাড়া ও নাথপাড়ার বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, হামলার পেছনে ছিল জমি বিরোধ; চাঁদা দাবি বা চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল ‘পুরোপুরি সাজানো নাটক’।

অভিযুক্ত এসআই কামাল হোসেন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দুটি মামলারই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।” তবে কেন প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়াকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই মামলায় পরোয়ানা জারি আছে, তবে বিষয়টি আগে জানতাম না।”

রামু থানার ওসি আরিফ হোসাইন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, “ঘটনাটি আসলেই দুঃখজনক। এসআই কামাল চাইলে এমন প্রতিবেদন না দিলেও পারতেন।”

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

এর আগে একই থানার সাবেক এসআই চিরঞ্জীব বড়ুয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ দাবি সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়।