ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শক্তিশালী টেকনাফকে হারিয়ে ফাইনালে রামু : ম্যান অব দ্যা ম্যাচ কৌশিক বড়ুয়া প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভা: দিনব্যাপী কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি চকরিয়ায় বাসে তল্লাশি : ইয়াবাসহ ২ রোহিঙ্গা যুবক আটক আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি উজানটিয়া বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে বসানো হচ্ছে জিও ব্যাগ, এলাকাজুড়ে স্বস্তি সভাপতির ‘না’,সেক্রেটারির ‘হ্যাঁ’ : মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা:) মাহফিল আয়োজন নিয়ে আইনজীবী সমিতির বিতর্ক কক্সবাজার সৈকতে স্থাপনা নির্মাণ: ডিসিসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা কক্সবাজারে জমি রেজিস্ট্রেশনে ডিসির অনুমতি বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমপি শাহজাহান চৌধুরীর চিঠি উখিয়ার বরেণ্য আলেম আলিম উদ্দিন পীরের জানাযা সম্পন্ন চিরকুট পাঠালেই পুলিশ পৌঁছাবে ঠিকানায়: উখিয়ায় অপরাধ দমনে নতুন উদ্যোগ পুলিশী হেফাজতে থাকা সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরী অসুস্থ : চমেকে প্রেরণ টেকনাফের বাহারছড়ায় ৫০ লিটার দেশীয় মদসহ আটক ১ পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত নারী এশিয়া কাপ : রাতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

রামুতে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামীর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার সখ্যতার অভিযোগ

কক্সবাজারের রামুতে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই ‘ভুয়া’ চাঁদাবাজি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ভুক্তভোগী জিটু বড়ুয়া এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ জুন রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাজারীকুল গ্রামের খোকন বড়ুয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী জিটু বড়ুয়া ও তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। দুই দিন পর জিটু রামু থানায় খোকন বড়ুয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তবে সাড়ে তিন মাস পার হলেও পরোয়ানাভুক্ত প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। বরং তিনি উল্টো ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জিটু বড়ুয়াদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলারই তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই কামাল হোসেন।

জিটু বড়ুয়ার অভিযোগ, চাঁদাবাজি মামলায় অনুকূল প্রতিবেদন দিতে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এসআই কামাল। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি তড়িঘড়ি করে খোকন বড়ুয়ার মামলায় ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

জিটুর বাবা শিবু বড়ুয়া বলেন, “যে খোকন বড়ুয়া আমাদের উপর হামলা করে পরোয়ানাভুক্ত আসামি হয়েছেন, তাকে আটক না করে এসআই কামাল উল্টো ঘুষ খেয়ে তার পক্ষেই প্রতিবেদন দিয়েছেন।”

ঘটনার প্রতিবাদে গত ১১ জুলাই রামু থানার সামনে মানববন্ধন করে হাজারীকুল, সিপাহীপাড়া ও নাথপাড়ার বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, হামলার পেছনে ছিল জমি বিরোধ; চাঁদা দাবি বা চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল ‘পুরোপুরি সাজানো নাটক’।

অভিযুক্ত এসআই কামাল হোসেন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দুটি মামলারই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।” তবে কেন প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়াকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই মামলায় পরোয়ানা জারি আছে, তবে বিষয়টি আগে জানতাম না।”

রামু থানার ওসি আরিফ হোসাইন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, “ঘটনাটি আসলেই দুঃখজনক। এসআই কামাল চাইলে এমন প্রতিবেদন না দিলেও পারতেন।”

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

এর আগে একই থানার সাবেক এসআই চিরঞ্জীব বড়ুয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ দাবি সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শক্তিশালী টেকনাফকে হারিয়ে ফাইনালে রামু : ম্যান অব দ্যা ম্যাচ কৌশিক বড়ুয়া

রামুতে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামীর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার সখ্যতার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের রামুতে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই ‘ভুয়া’ চাঁদাবাজি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ভুক্তভোগী জিটু বড়ুয়া এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ জুন রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাজারীকুল গ্রামের খোকন বড়ুয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী জিটু বড়ুয়া ও তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। দুই দিন পর জিটু রামু থানায় খোকন বড়ুয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তবে সাড়ে তিন মাস পার হলেও পরোয়ানাভুক্ত প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। বরং তিনি উল্টো ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জিটু বড়ুয়াদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলারই তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই কামাল হোসেন।

জিটু বড়ুয়ার অভিযোগ, চাঁদাবাজি মামলায় অনুকূল প্রতিবেদন দিতে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এসআই কামাল। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি তড়িঘড়ি করে খোকন বড়ুয়ার মামলায় ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

জিটুর বাবা শিবু বড়ুয়া বলেন, “যে খোকন বড়ুয়া আমাদের উপর হামলা করে পরোয়ানাভুক্ত আসামি হয়েছেন, তাকে আটক না করে এসআই কামাল উল্টো ঘুষ খেয়ে তার পক্ষেই প্রতিবেদন দিয়েছেন।”

ঘটনার প্রতিবাদে গত ১১ জুলাই রামু থানার সামনে মানববন্ধন করে হাজারীকুল, সিপাহীপাড়া ও নাথপাড়ার বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, হামলার পেছনে ছিল জমি বিরোধ; চাঁদা দাবি বা চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল ‘পুরোপুরি সাজানো নাটক’।

অভিযুক্ত এসআই কামাল হোসেন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দুটি মামলারই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।” তবে কেন প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়াকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই মামলায় পরোয়ানা জারি আছে, তবে বিষয়টি আগে জানতাম না।”

রামু থানার ওসি আরিফ হোসাইন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, “ঘটনাটি আসলেই দুঃখজনক। এসআই কামাল চাইলে এমন প্রতিবেদন না দিলেও পারতেন।”

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

এর আগে একই থানার সাবেক এসআই চিরঞ্জীব বড়ুয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ দাবি সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়।