ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশেষ অভিযানে কক্সবাজারে ৩৬ জন গ্রেপ্তার, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কক্সবাজারের টুটুল, মাসুসহ ৫ নেতা আটক শহরের বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শনকালে এমপি কাজল- পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সদ্য সাবেক কউক চেয়ারম্যানের বড় ভাই আলাউদ্দিন রাজা মারা গেছেন কক্সবাজার সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রদলের মানবিক উদ্যোগ টেকনাফে ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ পেকুয়ার জাহেদ পেলেন পিপিএম পদক আসছে পুলিশের নতুন ইউনিট হাসপাতাল, হাট-বাজার, সমুদ্র সৈকত : ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাস প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পেকুয়ায় ‘ইউসুফ আলী’ হত্যাকান্ডে জড়িত তিন আসামি গ্রেফতার বিশ্ব পর্যটন দিবস : ১৩ ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার’ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই সিএনজির সংঘর্ষ, নিহত ১; আহত ৮ ফ্যাসিবাদীদেরকে তথ্য দিলে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা: পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২ বছর পর পর্দা উঠলো পর্যটন মেলার, তারকামানের হোটেলে বিশেষ ছাড় কুতুবদিয়া থানা কাবাডি দলের জার্সি উন্মোচন

কক্সবাজার রেল স্টেশনের সিকিউরিটি রাব্বানীর বিরুদ্ধে টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ

রেলওয়ের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনের আরএমবি ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমিনুল হক রাব্বানীর বিরুদ্ধে। যার মূল দায়িত্ব স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তিনি নিজেই টিকিট বিক্রিতে নেমেছেন।

​জানা গেছে, রেলওয়ের সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বুকিং সহকারী বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও টিকিট কাউন্টারের ভেতর প্রবেশ করার এখতিয়ার নেই। কিন্তু সমস্ত নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্টেশনের সিকিউরিটি ইনচার্জ আমিনুল হক রাব্বানী প্রায়শই কোনো অনুমতি ছাড়াই কাউন্টারে প্রবেশ করেন এবং নিজে সরাসরি টিকিট বিক্রি করেন। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার এভাবে কাউন্টারে ঢুকে টিকিট বিক্রির বিষয়টি সাধারণ যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলে চরম ক্ষোভ ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

​​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমিনুল হক রাব্বানী কেবল শখ করে টিকিট বিক্রি করছেন না; বরং তিনি কক্সবাজার রেল স্টেশনের টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে পর্দার আড়াল থেকে কাজ করছেন। সাধারণ যাত্রীরা যখন কাউন্টারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও টিকিট পান না, তখন এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চড়া দামে টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করা হয়।

রেল স্টেশনের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব হওয়ায় তার এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রভাব খাটিয়ে বুকিং কাউন্টারকে তিনি নিজের সুবিধামতো ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
​​দেশের একমাত্র আইকনিক রেল স্টেশন দেখতে এবং ট্রেনে যাতায়াত করতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ এখানে আসেন। কিন্তু এই টিকিট সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত টিকিট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন যার দায়িত্ব নিরাপত্তা দেওয়ার, তিনি কেন টিকিট কাউন্টারে? শর্ষের ভেতরেই যদি ভূত থাকে, তবে কালোবাজারি বন্ধ হবে কীভাবে?”
​উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নীরবতা নিয়েও এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। রেলওয়ের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সাধারণ যাত্রীদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ​কক্সবাজার রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জয়নাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টিকিট কাউন্টারে নির্দিষ্ট লোক ছাড়া অন্য কেও কোন ভাবে প্রবেশ করতে পারে না কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া। আর সিকিউরিটির দায়িত্ব প্রাপ্ত ইন্সপেক্টর আমিনুল হক রাব্বানী কেন কি কারণে কাউন্টারে প্রবেশ করে টিকিট বিক্রি করতেছেন আমার বোধগম্য নয়। তা ওনি নিয়ম ভঙ্গ করছে এবং গুরুতর অপরাধ করেছেন। টিকিট কালোবাজারীর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, কালোবাজারীর বিষয়ে অবগত নয় তবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দিয়ে গুরুত্বের সাথে দেখবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিনুল হক রাব্বানীর সাথে যোগাযোগ করলে জানান, আমাদের সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা নিষেধ আছে কর্তৃপক্ষের। কাউন্টারে টিকিট বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান, কাউন্টারে টিকিট বিক্রির ছবির কথা বললে এটা এ আই দিয়ে বানাইছে বলে এড়িয়ে যান। টিকিট কালোবাজারীর কথা জানতে চাইলে অস্বীকার করেন। এবং পরিচয় দেন যে তিনি কক্সবাজারের ছেলে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশেষ অভিযানে কক্সবাজারে ৩৬ জন গ্রেপ্তার, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার

কক্সবাজার রেল স্টেশনের সিকিউরিটি রাব্বানীর বিরুদ্ধে টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৫৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

রেলওয়ের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনের আরএমবি ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমিনুল হক রাব্বানীর বিরুদ্ধে। যার মূল দায়িত্ব স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তিনি নিজেই টিকিট বিক্রিতে নেমেছেন।

​জানা গেছে, রেলওয়ের সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বুকিং সহকারী বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও টিকিট কাউন্টারের ভেতর প্রবেশ করার এখতিয়ার নেই। কিন্তু সমস্ত নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্টেশনের সিকিউরিটি ইনচার্জ আমিনুল হক রাব্বানী প্রায়শই কোনো অনুমতি ছাড়াই কাউন্টারে প্রবেশ করেন এবং নিজে সরাসরি টিকিট বিক্রি করেন। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার এভাবে কাউন্টারে ঢুকে টিকিট বিক্রির বিষয়টি সাধারণ যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলে চরম ক্ষোভ ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

​​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমিনুল হক রাব্বানী কেবল শখ করে টিকিট বিক্রি করছেন না; বরং তিনি কক্সবাজার রেল স্টেশনের টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে পর্দার আড়াল থেকে কাজ করছেন। সাধারণ যাত্রীরা যখন কাউন্টারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও টিকিট পান না, তখন এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চড়া দামে টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করা হয়।

রেল স্টেশনের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব হওয়ায় তার এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রভাব খাটিয়ে বুকিং কাউন্টারকে তিনি নিজের সুবিধামতো ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
​​দেশের একমাত্র আইকনিক রেল স্টেশন দেখতে এবং ট্রেনে যাতায়াত করতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ এখানে আসেন। কিন্তু এই টিকিট সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত টিকিট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন যার দায়িত্ব নিরাপত্তা দেওয়ার, তিনি কেন টিকিট কাউন্টারে? শর্ষের ভেতরেই যদি ভূত থাকে, তবে কালোবাজারি বন্ধ হবে কীভাবে?”
​উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নীরবতা নিয়েও এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। রেলওয়ের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সাধারণ যাত্রীদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এই দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ​কক্সবাজার রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জয়নাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টিকিট কাউন্টারে নির্দিষ্ট লোক ছাড়া অন্য কেও কোন ভাবে প্রবেশ করতে পারে না কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া। আর সিকিউরিটির দায়িত্ব প্রাপ্ত ইন্সপেক্টর আমিনুল হক রাব্বানী কেন কি কারণে কাউন্টারে প্রবেশ করে টিকিট বিক্রি করতেছেন আমার বোধগম্য নয়। তা ওনি নিয়ম ভঙ্গ করছে এবং গুরুতর অপরাধ করেছেন। টিকিট কালোবাজারীর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, কালোবাজারীর বিষয়ে অবগত নয় তবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দিয়ে গুরুত্বের সাথে দেখবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিনুল হক রাব্বানীর সাথে যোগাযোগ করলে জানান, আমাদের সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা নিষেধ আছে কর্তৃপক্ষের। কাউন্টারে টিকিট বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান, কাউন্টারে টিকিট বিক্রির ছবির কথা বললে এটা এ আই দিয়ে বানাইছে বলে এড়িয়ে যান। টিকিট কালোবাজারীর কথা জানতে চাইলে অস্বীকার করেন। এবং পরিচয় দেন যে তিনি কক্সবাজারের ছেলে।