ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ : সারাদেশে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা, কমবে তাপদাহ বিশ্ব গণ্ডার দিবস আজ বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত

দ্বৈত বার্তা: বাংলাদেশের নির্বাচনে জাতিসংঘের কূটনৈতিক রহস্য

জাতিসংঘের বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস ৪ জুন বলেছেন, “আওয়ামী লীগ না থাকলেও নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে।” কিন্তু ৫ অক্টোবর তিনি বলেন, “সব দল নির্বাচনে যুক্ত হবে, আশা করি।” একই ব্যক্তির এই বিপরীতমুখী বার্তা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে। এটি কি কেবল কূটনৈতিক ভদ্রতা, নাকি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দ্বিধার সৃষ্টি করার এক নিখুঁত উদাহরণ?

জাতিসংঘ চাইছে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে, যাতে তাদের মানবিক কার্যক্রমে বাধা না আসে। বড় দাতা দেশগুলোর চাপও এখানে কাজ করছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য তারা মাঝে মাঝে ‘আশা করি সব দল অংশ নেবে’ ধরনের নরম বার্তা দেয়। কিন্তু এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলো mixed signal নিয়ে বিভ্রান্ত হয়, সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যায়, এবং সংলাপের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ঘটনা দেখা গেছে। লিবিয়ায় ২০১১ সালে কঠোর নীতি এবং পরে সমন্বয়মূলক বার্তা দেশকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে গণহত্যা প্রতিরোধে বিলম্বিত পদক্ষেপ এবং দ্বৈত বার্তা ফাটল তৈরি করেছে। সিরিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো এবং রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে। এই উদাহরণ গুলো স্পষ্ট করে দেখায়, দ্বৈত নীতি শুধু কথার সীমায় নেই, এটি দেশের স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলতে পারে।

গোয়েন লুইসের দুটি বক্তব্য প্রমাণ করে, জাতিসংঘের দ্বৈত নীতি কেবল নৈতিক দৃষ্টিকোণ নয়, এটি বাস্তব ও কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন। তবে বারবার mixed messaging দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, জনগণের আস্থা এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে পারে। প্রশ্ন হলো; আমরা কি কেবল কথায় বিশ্বাস রাখব, নাকি বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করব? স্বচ্ছ পদক্ষেপ, সর্বদলীয় সংলাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিই শেষ পর্যন্ত দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে। মন্তব্য নয়, বাস্তব কাজই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়, এটি কি আমরা উপলব্ধি করছি?

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, চিন্তক ও গবেষক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ : সারাদেশে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা, কমবে তাপদাহ

দ্বৈত বার্তা: বাংলাদেশের নির্বাচনে জাতিসংঘের কূটনৈতিক রহস্য

আপডেট সময় : ০২:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

জাতিসংঘের বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস ৪ জুন বলেছেন, “আওয়ামী লীগ না থাকলেও নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে।” কিন্তু ৫ অক্টোবর তিনি বলেন, “সব দল নির্বাচনে যুক্ত হবে, আশা করি।” একই ব্যক্তির এই বিপরীতমুখী বার্তা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে। এটি কি কেবল কূটনৈতিক ভদ্রতা, নাকি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দ্বিধার সৃষ্টি করার এক নিখুঁত উদাহরণ?

জাতিসংঘ চাইছে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে, যাতে তাদের মানবিক কার্যক্রমে বাধা না আসে। বড় দাতা দেশগুলোর চাপও এখানে কাজ করছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য তারা মাঝে মাঝে ‘আশা করি সব দল অংশ নেবে’ ধরনের নরম বার্তা দেয়। কিন্তু এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলো mixed signal নিয়ে বিভ্রান্ত হয়, সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যায়, এবং সংলাপের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ঘটনা দেখা গেছে। লিবিয়ায় ২০১১ সালে কঠোর নীতি এবং পরে সমন্বয়মূলক বার্তা দেশকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে গণহত্যা প্রতিরোধে বিলম্বিত পদক্ষেপ এবং দ্বৈত বার্তা ফাটল তৈরি করেছে। সিরিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো এবং রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে। এই উদাহরণ গুলো স্পষ্ট করে দেখায়, দ্বৈত নীতি শুধু কথার সীমায় নেই, এটি দেশের স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলতে পারে।

গোয়েন লুইসের দুটি বক্তব্য প্রমাণ করে, জাতিসংঘের দ্বৈত নীতি কেবল নৈতিক দৃষ্টিকোণ নয়, এটি বাস্তব ও কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন। তবে বারবার mixed messaging দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, জনগণের আস্থা এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে পারে। প্রশ্ন হলো; আমরা কি কেবল কথায় বিশ্বাস রাখব, নাকি বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করব? স্বচ্ছ পদক্ষেপ, সর্বদলীয় সংলাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিই শেষ পর্যন্ত দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে। মন্তব্য নয়, বাস্তব কাজই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়, এটি কি আমরা উপলব্ধি করছি?

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, চিন্তক ও গবেষক।