ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খামেনির জানাজা : বাংলাদেশের পক্ষে শ্রদ্ধা জানালেন স্পিকার মেসির ৭, মেসির ৮, মেসির ১২- আরও কতশত রেকর্ড মিয়ানমারে সিমেন্ট সহ নানান পণ্য পাচারে সক্রিয় আবুল কালাম সিন্ডিকেট পেকুয়ায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা রামুতে মিনিবাস-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৫ চুয়েটের কক্সবাজার স্টুডেন্টস ফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন : কামরুল সভাপতি, আশরাফুল সম্পাদক চকরিয়ায় পৈত্রিক ভিটে নিয়ে দ্বন্দ্ব: বড় ভাইকে হত্যা করল ছোট ভাই অপতথ্য ও গুজবকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে সত্য সাংবাদিকতা দিয়ে- প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ বাহারছড়া উত্তর শাখা যুবদলের সম্মেলনে শাহজাহান চৌধুরী-ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে কক্সবাজার শহর ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে কারা? সভাপতি-সম্পাদক পদে যাদের নিয়ে আলোচনা ​রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে হত্যা মামলার পলাতক আসামি মাস্টার শুক্কুর গ্রেফতার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম কমল ৩৫৭ টাকা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়া হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প: বাড়ছে নিহতের সংখ্যা, এখনো নিখোঁজ ৫০ হাজার সাভারে ফ্ল্যাটে নারীর লাশ: পুলিশের ধারণা, ‘ধর্ষণের পর হত্যা’

দ্বৈত বার্তা: বাংলাদেশের নির্বাচনে জাতিসংঘের কূটনৈতিক রহস্য

জাতিসংঘের বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস ৪ জুন বলেছেন, “আওয়ামী লীগ না থাকলেও নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে।” কিন্তু ৫ অক্টোবর তিনি বলেন, “সব দল নির্বাচনে যুক্ত হবে, আশা করি।” একই ব্যক্তির এই বিপরীতমুখী বার্তা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে। এটি কি কেবল কূটনৈতিক ভদ্রতা, নাকি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দ্বিধার সৃষ্টি করার এক নিখুঁত উদাহরণ?

জাতিসংঘ চাইছে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে, যাতে তাদের মানবিক কার্যক্রমে বাধা না আসে। বড় দাতা দেশগুলোর চাপও এখানে কাজ করছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য তারা মাঝে মাঝে ‘আশা করি সব দল অংশ নেবে’ ধরনের নরম বার্তা দেয়। কিন্তু এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলো mixed signal নিয়ে বিভ্রান্ত হয়, সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যায়, এবং সংলাপের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ঘটনা দেখা গেছে। লিবিয়ায় ২০১১ সালে কঠোর নীতি এবং পরে সমন্বয়মূলক বার্তা দেশকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে গণহত্যা প্রতিরোধে বিলম্বিত পদক্ষেপ এবং দ্বৈত বার্তা ফাটল তৈরি করেছে। সিরিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো এবং রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে। এই উদাহরণ গুলো স্পষ্ট করে দেখায়, দ্বৈত নীতি শুধু কথার সীমায় নেই, এটি দেশের স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলতে পারে।

গোয়েন লুইসের দুটি বক্তব্য প্রমাণ করে, জাতিসংঘের দ্বৈত নীতি কেবল নৈতিক দৃষ্টিকোণ নয়, এটি বাস্তব ও কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন। তবে বারবার mixed messaging দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, জনগণের আস্থা এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে পারে। প্রশ্ন হলো; আমরা কি কেবল কথায় বিশ্বাস রাখব, নাকি বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করব? স্বচ্ছ পদক্ষেপ, সর্বদলীয় সংলাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিই শেষ পর্যন্ত দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে। মন্তব্য নয়, বাস্তব কাজই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়, এটি কি আমরা উপলব্ধি করছি?

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, চিন্তক ও গবেষক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির জানাজা : বাংলাদেশের পক্ষে শ্রদ্ধা জানালেন স্পিকার

দ্বৈত বার্তা: বাংলাদেশের নির্বাচনে জাতিসংঘের কূটনৈতিক রহস্য

আপডেট সময় : ০২:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

জাতিসংঘের বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস ৪ জুন বলেছেন, “আওয়ামী লীগ না থাকলেও নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে।” কিন্তু ৫ অক্টোবর তিনি বলেন, “সব দল নির্বাচনে যুক্ত হবে, আশা করি।” একই ব্যক্তির এই বিপরীতমুখী বার্তা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে। এটি কি কেবল কূটনৈতিক ভদ্রতা, নাকি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দ্বিধার সৃষ্টি করার এক নিখুঁত উদাহরণ?

জাতিসংঘ চাইছে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে, যাতে তাদের মানবিক কার্যক্রমে বাধা না আসে। বড় দাতা দেশগুলোর চাপও এখানে কাজ করছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য তারা মাঝে মাঝে ‘আশা করি সব দল অংশ নেবে’ ধরনের নরম বার্তা দেয়। কিন্তু এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলো mixed signal নিয়ে বিভ্রান্ত হয়, সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যায়, এবং সংলাপের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ঘটনা দেখা গেছে। লিবিয়ায় ২০১১ সালে কঠোর নীতি এবং পরে সমন্বয়মূলক বার্তা দেশকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে গণহত্যা প্রতিরোধে বিলম্বিত পদক্ষেপ এবং দ্বৈত বার্তা ফাটল তৈরি করেছে। সিরিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো এবং রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে। এই উদাহরণ গুলো স্পষ্ট করে দেখায়, দ্বৈত নীতি শুধু কথার সীমায় নেই, এটি দেশের স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলতে পারে।

গোয়েন লুইসের দুটি বক্তব্য প্রমাণ করে, জাতিসংঘের দ্বৈত নীতি কেবল নৈতিক দৃষ্টিকোণ নয়, এটি বাস্তব ও কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন। তবে বারবার mixed messaging দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, জনগণের আস্থা এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে পারে। প্রশ্ন হলো; আমরা কি কেবল কথায় বিশ্বাস রাখব, নাকি বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করব? স্বচ্ছ পদক্ষেপ, সর্বদলীয় সংলাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিই শেষ পর্যন্ত দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে। মন্তব্য নয়, বাস্তব কাজই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়, এটি কি আমরা উপলব্ধি করছি?

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, চিন্তক ও গবেষক।