ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে খোলাবাজারে নিত্যপণ্য বিক্রির পরিকল্পনা করছে টিসিবি দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী আজ, বিএনপির নানা কর্মসূচি আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিবিদ্ধ স্থানীয় যুবককে চট্টগ্রামে প্রেরণ পেকুয়ায় মৎস্য প্রজেক্ট দখলে নিতে গুলিবর্ষণ, আহত ২ কুতুবদিয়ায় আন্তঃস্কুল বিতর্কে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক শারিকা নুর তাহেরা তুবা কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল পুলিশ সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরএসও সদস্যের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি মাদ্রাসার তালাবদ্ধ কক্ষে কৃষকের বীজ! লোহাগাড়ায় ইউএনওর অভিযানে উদ্ধার ১৩ বস্তা

দ্বৈত বার্তা: বাংলাদেশের নির্বাচনে জাতিসংঘের কূটনৈতিক রহস্য

জাতিসংঘের বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস ৪ জুন বলেছেন, “আওয়ামী লীগ না থাকলেও নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে।” কিন্তু ৫ অক্টোবর তিনি বলেন, “সব দল নির্বাচনে যুক্ত হবে, আশা করি।” একই ব্যক্তির এই বিপরীতমুখী বার্তা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে। এটি কি কেবল কূটনৈতিক ভদ্রতা, নাকি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দ্বিধার সৃষ্টি করার এক নিখুঁত উদাহরণ?

জাতিসংঘ চাইছে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে, যাতে তাদের মানবিক কার্যক্রমে বাধা না আসে। বড় দাতা দেশগুলোর চাপও এখানে কাজ করছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য তারা মাঝে মাঝে ‘আশা করি সব দল অংশ নেবে’ ধরনের নরম বার্তা দেয়। কিন্তু এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলো mixed signal নিয়ে বিভ্রান্ত হয়, সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যায়, এবং সংলাপের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ঘটনা দেখা গেছে। লিবিয়ায় ২০১১ সালে কঠোর নীতি এবং পরে সমন্বয়মূলক বার্তা দেশকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে গণহত্যা প্রতিরোধে বিলম্বিত পদক্ষেপ এবং দ্বৈত বার্তা ফাটল তৈরি করেছে। সিরিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো এবং রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে। এই উদাহরণ গুলো স্পষ্ট করে দেখায়, দ্বৈত নীতি শুধু কথার সীমায় নেই, এটি দেশের স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলতে পারে।

গোয়েন লুইসের দুটি বক্তব্য প্রমাণ করে, জাতিসংঘের দ্বৈত নীতি কেবল নৈতিক দৃষ্টিকোণ নয়, এটি বাস্তব ও কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন। তবে বারবার mixed messaging দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, জনগণের আস্থা এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে পারে। প্রশ্ন হলো; আমরা কি কেবল কথায় বিশ্বাস রাখব, নাকি বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করব? স্বচ্ছ পদক্ষেপ, সর্বদলীয় সংলাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিই শেষ পর্যন্ত দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে। মন্তব্য নয়, বাস্তব কাজই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়, এটি কি আমরা উপলব্ধি করছি?

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, চিন্তক ও গবেষক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী

দ্বৈত বার্তা: বাংলাদেশের নির্বাচনে জাতিসংঘের কূটনৈতিক রহস্য

আপডেট সময় : ০২:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

জাতিসংঘের বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস ৪ জুন বলেছেন, “আওয়ামী লীগ না থাকলেও নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে।” কিন্তু ৫ অক্টোবর তিনি বলেন, “সব দল নির্বাচনে যুক্ত হবে, আশা করি।” একই ব্যক্তির এই বিপরীতমুখী বার্তা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে। এটি কি কেবল কূটনৈতিক ভদ্রতা, নাকি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দ্বিধার সৃষ্টি করার এক নিখুঁত উদাহরণ?

জাতিসংঘ চাইছে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে, যাতে তাদের মানবিক কার্যক্রমে বাধা না আসে। বড় দাতা দেশগুলোর চাপও এখানে কাজ করছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য তারা মাঝে মাঝে ‘আশা করি সব দল অংশ নেবে’ ধরনের নরম বার্তা দেয়। কিন্তু এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলো mixed signal নিয়ে বিভ্রান্ত হয়, সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যায়, এবং সংলাপের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ঘটনা দেখা গেছে। লিবিয়ায় ২০১১ সালে কঠোর নীতি এবং পরে সমন্বয়মূলক বার্তা দেশকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে গণহত্যা প্রতিরোধে বিলম্বিত পদক্ষেপ এবং দ্বৈত বার্তা ফাটল তৈরি করেছে। সিরিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো এবং রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে। এই উদাহরণ গুলো স্পষ্ট করে দেখায়, দ্বৈত নীতি শুধু কথার সীমায় নেই, এটি দেশের স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলতে পারে।

গোয়েন লুইসের দুটি বক্তব্য প্রমাণ করে, জাতিসংঘের দ্বৈত নীতি কেবল নৈতিক দৃষ্টিকোণ নয়, এটি বাস্তব ও কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন। তবে বারবার mixed messaging দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, জনগণের আস্থা এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে পারে। প্রশ্ন হলো; আমরা কি কেবল কথায় বিশ্বাস রাখব, নাকি বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করব? স্বচ্ছ পদক্ষেপ, সর্বদলীয় সংলাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিই শেষ পর্যন্ত দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে। মন্তব্য নয়, বাস্তব কাজই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়, এটি কি আমরা উপলব্ধি করছি?

লেখক: শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক, চিন্তক ও গবেষক।