ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আ.লীগ সরকারের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কক্সবাজার উপকূলে শত পরিবারে কান্না আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি,নিখোঁজ পেকুয়ার ১২জন চকরিয়ার সাংবাদিক মিজবাউল হকের স্ত্রী মারা গেছেন, জানাজা বৃহস্পতিবার কচ্ছপিয়ার ৪ যুবক মালয়েশিয়াগামী ট্রলারে প্রাণ হারালো : এলাকায় শোকের ছায়া হাতি তাড়াতে গিয়ে ৩ রোহিঙ্গা অপহৃত স্ত্রীকে হত্যা করে হাত ও মাথা বিচ্ছিন্ন, স্বামী গ্রেপ্তার ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান: তিন প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অটোরিকশার আসনের নিচে ৪০ হাজার ইয়াবা, চালক আটক চকরিয়ার খুটাখালীতে বালু উত্তোলন করতে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু বিদ্যুৎ উদ্বৃত্তের দাবির দেশে লোডশেডিং: আসল সংকট কোথায়? কক্সবাজারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু: প্রথম দিনে উপস্থিতি ৫৬% কক্সবাজারে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করতে সময় লাগবে : মন্ত্রী ফের মাইন বিস্ফোরণ, পাঁচ দিনে পা হারালেন দুই রোহিঙ্গা যুবক বন্য হাতির আক্রমণে ধান পাহারায় থাকা কৃষকের মৃত্যু
সম্পাদকীয়

খা’মে’নির মৃ’ত্যু’তে ই’রা’ন কি থেমে যাবে?

যুদ্ধের ইতিহাসে শত্রু নেতৃত্বকে হত্যা করা অনেক সময় “বড় সাফল্য” হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন রাষ্ট্রপ্রধান বা ধর্মীয় নেতাকে হত্যা কখনোই যুদ্ধজয়ের সমার্থক নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এর মতো ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করে না।

খামেনি একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতীক। ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয়; এটি আদর্শ, নিরাপত্তা কাঠামো ও বহুস্তরীয় ক্ষমতার ওপর দাঁড়ানো। ফলে একজন নেতার মৃত্যু মানেই রাষ্ট্রের পতন, এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বরং এমন ঘটনা রাষ্ট্রকে আরও কড়া, আরও প্রতিরোধী করে তোলে।

ইতিহাস বলে, নেতৃত্ব হত্যার ফল প্রায়শই উল্টো হয়। এতে; জনসমর্থন একত্রিত হয়, প্রতিশোধের নৈতিক বৈধতা তৈরি হয়, এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও নির্মম হয়ে ওঠে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এর পর কী? খামেনী নিহত হলে ইরানের ভেতরে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে না; বরং উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হবে, নিরাপত্তা বাহিনী আরও প্রভাবশালী হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি শক্তিগুলো আরও স্বাধীনভাবে আঘাত হানবে। অর্থাৎ যুদ্ধ “জয়” নয়, বরং নতুন ও অনিয়ন্ত্রিত অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও নেতৃত্ব হত্যা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। এটি রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে সংঘাতকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় নামিয়ে আনে, যেখানে কূটনীতির জায়গা সংকুচিত হয়। যুদ্ধ তখন লক্ষ্যহীন প্রতিহিংসায় পরিণত হয়, যার শেষ নেই।

অতএব সত্যটি কঠিন হলেও স্পষ্ট: খামেনী হত্যা, তা কোনো পক্ষের জন্যই যুদ্ধজয় নয়।
এটি হবে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার, আরও রক্তপাতকে বৈধতা দেওয়ার এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিরতার গভীরে ঠেলে দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

যুদ্ধ জয় হয় ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে, একজন মানুষ হত্যার মাধ্যমে নয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আ.লীগ সরকারের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

সম্পাদকীয়

খা’মে’নির মৃ’ত্যু’তে ই’রা’ন কি থেমে যাবে?

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধের ইতিহাসে শত্রু নেতৃত্বকে হত্যা করা অনেক সময় “বড় সাফল্য” হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন রাষ্ট্রপ্রধান বা ধর্মীয় নেতাকে হত্যা কখনোই যুদ্ধজয়ের সমার্থক নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এর মতো ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করে না।

খামেনি একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতীক। ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয়; এটি আদর্শ, নিরাপত্তা কাঠামো ও বহুস্তরীয় ক্ষমতার ওপর দাঁড়ানো। ফলে একজন নেতার মৃত্যু মানেই রাষ্ট্রের পতন, এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বরং এমন ঘটনা রাষ্ট্রকে আরও কড়া, আরও প্রতিরোধী করে তোলে।

ইতিহাস বলে, নেতৃত্ব হত্যার ফল প্রায়শই উল্টো হয়। এতে; জনসমর্থন একত্রিত হয়, প্রতিশোধের নৈতিক বৈধতা তৈরি হয়, এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও নির্মম হয়ে ওঠে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এর পর কী? খামেনী নিহত হলে ইরানের ভেতরে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে না; বরং উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হবে, নিরাপত্তা বাহিনী আরও প্রভাবশালী হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি শক্তিগুলো আরও স্বাধীনভাবে আঘাত হানবে। অর্থাৎ যুদ্ধ “জয়” নয়, বরং নতুন ও অনিয়ন্ত্রিত অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও নেতৃত্ব হত্যা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। এটি রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে সংঘাতকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় নামিয়ে আনে, যেখানে কূটনীতির জায়গা সংকুচিত হয়। যুদ্ধ তখন লক্ষ্যহীন প্রতিহিংসায় পরিণত হয়, যার শেষ নেই।

অতএব সত্যটি কঠিন হলেও স্পষ্ট: খামেনী হত্যা, তা কোনো পক্ষের জন্যই যুদ্ধজয় নয়।
এটি হবে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার, আরও রক্তপাতকে বৈধতা দেওয়ার এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিরতার গভীরে ঠেলে দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

যুদ্ধ জয় হয় ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে, একজন মানুষ হত্যার মাধ্যমে নয়।