ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি পেকুয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী মহোৎসব সম্পন্ন বাফুফের একাডেমিক স্বীকৃতি পেয়েছে কালারমারছড়া ফুটবল একাডেমি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা বাইকের জন্য প্রাণ দিতে হলো সাইফুলকে! কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযান : ২৪ ঘন্টায় আটক ২১ সাবরাং থেকে মিঠাছড়ির ৫ অপহৃত উদ্ধার : গ্রেপ্তার ১ কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের ছাত্রী গ্রেপ্তার কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের ছাত্রী গ্রেপ্তার ভারতে পরলোকগত আ ফ্রু রাখাইনের শেষকৃত্য সম্পন্ন এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম মরদেহ উদ্ধার মহেশখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের ৫৩ জনের নামে মামলা প্রাইভেট কারে তল্লাশি: ৮৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১, পলাতক ৩ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
সম্পাদকীয়

খা’মে’নির মৃ’ত্যু’তে ই’রা’ন কি থেমে যাবে?

যুদ্ধের ইতিহাসে শত্রু নেতৃত্বকে হত্যা করা অনেক সময় “বড় সাফল্য” হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন রাষ্ট্রপ্রধান বা ধর্মীয় নেতাকে হত্যা কখনোই যুদ্ধজয়ের সমার্থক নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এর মতো ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করে না।

খামেনি একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতীক। ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয়; এটি আদর্শ, নিরাপত্তা কাঠামো ও বহুস্তরীয় ক্ষমতার ওপর দাঁড়ানো। ফলে একজন নেতার মৃত্যু মানেই রাষ্ট্রের পতন, এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বরং এমন ঘটনা রাষ্ট্রকে আরও কড়া, আরও প্রতিরোধী করে তোলে।

ইতিহাস বলে, নেতৃত্ব হত্যার ফল প্রায়শই উল্টো হয়। এতে; জনসমর্থন একত্রিত হয়, প্রতিশোধের নৈতিক বৈধতা তৈরি হয়, এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও নির্মম হয়ে ওঠে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এর পর কী? খামেনী নিহত হলে ইরানের ভেতরে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে না; বরং উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হবে, নিরাপত্তা বাহিনী আরও প্রভাবশালী হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি শক্তিগুলো আরও স্বাধীনভাবে আঘাত হানবে। অর্থাৎ যুদ্ধ “জয়” নয়, বরং নতুন ও অনিয়ন্ত্রিত অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও নেতৃত্ব হত্যা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। এটি রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে সংঘাতকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় নামিয়ে আনে, যেখানে কূটনীতির জায়গা সংকুচিত হয়। যুদ্ধ তখন লক্ষ্যহীন প্রতিহিংসায় পরিণত হয়, যার শেষ নেই।

অতএব সত্যটি কঠিন হলেও স্পষ্ট: খামেনী হত্যা, তা কোনো পক্ষের জন্যই যুদ্ধজয় নয়।
এটি হবে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার, আরও রক্তপাতকে বৈধতা দেওয়ার এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিরতার গভীরে ঠেলে দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

যুদ্ধ জয় হয় ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে, একজন মানুষ হত্যার মাধ্যমে নয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি

সম্পাদকীয়

খা’মে’নির মৃ’ত্যু’তে ই’রা’ন কি থেমে যাবে?

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধের ইতিহাসে শত্রু নেতৃত্বকে হত্যা করা অনেক সময় “বড় সাফল্য” হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন রাষ্ট্রপ্রধান বা ধর্মীয় নেতাকে হত্যা কখনোই যুদ্ধজয়ের সমার্থক নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এর মতো ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করে না।

খামেনি একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতীক। ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয়; এটি আদর্শ, নিরাপত্তা কাঠামো ও বহুস্তরীয় ক্ষমতার ওপর দাঁড়ানো। ফলে একজন নেতার মৃত্যু মানেই রাষ্ট্রের পতন, এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বরং এমন ঘটনা রাষ্ট্রকে আরও কড়া, আরও প্রতিরোধী করে তোলে।

ইতিহাস বলে, নেতৃত্ব হত্যার ফল প্রায়শই উল্টো হয়। এতে; জনসমর্থন একত্রিত হয়, প্রতিশোধের নৈতিক বৈধতা তৈরি হয়, এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও নির্মম হয়ে ওঠে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এর পর কী? খামেনী নিহত হলে ইরানের ভেতরে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে না; বরং উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হবে, নিরাপত্তা বাহিনী আরও প্রভাবশালী হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি শক্তিগুলো আরও স্বাধীনভাবে আঘাত হানবে। অর্থাৎ যুদ্ধ “জয়” নয়, বরং নতুন ও অনিয়ন্ত্রিত অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও নেতৃত্ব হত্যা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। এটি রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে সংঘাতকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় নামিয়ে আনে, যেখানে কূটনীতির জায়গা সংকুচিত হয়। যুদ্ধ তখন লক্ষ্যহীন প্রতিহিংসায় পরিণত হয়, যার শেষ নেই।

অতএব সত্যটি কঠিন হলেও স্পষ্ট: খামেনী হত্যা, তা কোনো পক্ষের জন্যই যুদ্ধজয় নয়।
এটি হবে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার, আরও রক্তপাতকে বৈধতা দেওয়ার এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিরতার গভীরে ঠেলে দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

যুদ্ধ জয় হয় ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে, একজন মানুষ হত্যার মাধ্যমে নয়।