ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীলঙ্কার দুই জেলে কে নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে- ওসি মহেশখালী এস আলম বাসের ধাক্কায় টমটম উল্টে নারীর মৃত্যু উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সমাবেশের ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা, আসামী ১১৪, গ্রেফতার ২ উখিয়ার পর রামু : নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা সভাপতির ঘোষনা অনুযায়ী বাইক শো ডাউন ও মিছিল আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী ​টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্ত নিরাপত্তা ও ৬ দফা নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ‘নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন’-এর বৈঠক ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি এ্যালায়েন্স’কক্সবাজার জেলা কমিটি ঘোষণা কাউন্সিলর একরাম হত্যা: হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে কক্সবাজারের মেয়ে ইয়াশনা ইকতার এসএসসি ফল প্রকাশের সাম্ভব্য তারিখ জানা গেল বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন পারিবারিক কলহের জেরে মা-বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করে ছেলে : পুলিশ কোনো একসময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবির বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল
সম্পাদকীয়

খা’মে’নির মৃ’ত্যু’তে ই’রা’ন কি থেমে যাবে?

যুদ্ধের ইতিহাসে শত্রু নেতৃত্বকে হত্যা করা অনেক সময় “বড় সাফল্য” হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন রাষ্ট্রপ্রধান বা ধর্মীয় নেতাকে হত্যা কখনোই যুদ্ধজয়ের সমার্থক নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এর মতো ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করে না।

খামেনি একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতীক। ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয়; এটি আদর্শ, নিরাপত্তা কাঠামো ও বহুস্তরীয় ক্ষমতার ওপর দাঁড়ানো। ফলে একজন নেতার মৃত্যু মানেই রাষ্ট্রের পতন, এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বরং এমন ঘটনা রাষ্ট্রকে আরও কড়া, আরও প্রতিরোধী করে তোলে।

ইতিহাস বলে, নেতৃত্ব হত্যার ফল প্রায়শই উল্টো হয়। এতে; জনসমর্থন একত্রিত হয়, প্রতিশোধের নৈতিক বৈধতা তৈরি হয়, এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও নির্মম হয়ে ওঠে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এর পর কী? খামেনী নিহত হলে ইরানের ভেতরে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে না; বরং উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হবে, নিরাপত্তা বাহিনী আরও প্রভাবশালী হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি শক্তিগুলো আরও স্বাধীনভাবে আঘাত হানবে। অর্থাৎ যুদ্ধ “জয়” নয়, বরং নতুন ও অনিয়ন্ত্রিত অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও নেতৃত্ব হত্যা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। এটি রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে সংঘাতকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় নামিয়ে আনে, যেখানে কূটনীতির জায়গা সংকুচিত হয়। যুদ্ধ তখন লক্ষ্যহীন প্রতিহিংসায় পরিণত হয়, যার শেষ নেই।

অতএব সত্যটি কঠিন হলেও স্পষ্ট: খামেনী হত্যা, তা কোনো পক্ষের জন্যই যুদ্ধজয় নয়।
এটি হবে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার, আরও রক্তপাতকে বৈধতা দেওয়ার এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিরতার গভীরে ঠেলে দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

যুদ্ধ জয় হয় ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে, একজন মানুষ হত্যার মাধ্যমে নয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কার দুই জেলে কে নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে- ওসি মহেশখালী

সম্পাদকীয়

খা’মে’নির মৃ’ত্যু’তে ই’রা’ন কি থেমে যাবে?

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধের ইতিহাসে শত্রু নেতৃত্বকে হত্যা করা অনেক সময় “বড় সাফল্য” হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন রাষ্ট্রপ্রধান বা ধর্মীয় নেতাকে হত্যা কখনোই যুদ্ধজয়ের সমার্থক নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এর মতো ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করে না।

খামেনি একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতীক। ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয়; এটি আদর্শ, নিরাপত্তা কাঠামো ও বহুস্তরীয় ক্ষমতার ওপর দাঁড়ানো। ফলে একজন নেতার মৃত্যু মানেই রাষ্ট্রের পতন, এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বরং এমন ঘটনা রাষ্ট্রকে আরও কড়া, আরও প্রতিরোধী করে তোলে।

ইতিহাস বলে, নেতৃত্ব হত্যার ফল প্রায়শই উল্টো হয়। এতে; জনসমর্থন একত্রিত হয়, প্রতিশোধের নৈতিক বৈধতা তৈরি হয়, এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও নির্মম হয়ে ওঠে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এর পর কী? খামেনী নিহত হলে ইরানের ভেতরে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে না; বরং উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হবে, নিরাপত্তা বাহিনী আরও প্রভাবশালী হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি শক্তিগুলো আরও স্বাধীনভাবে আঘাত হানবে। অর্থাৎ যুদ্ধ “জয়” নয়, বরং নতুন ও অনিয়ন্ত্রিত অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও নেতৃত্ব হত্যা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। এটি রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে সংঘাতকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় নামিয়ে আনে, যেখানে কূটনীতির জায়গা সংকুচিত হয়। যুদ্ধ তখন লক্ষ্যহীন প্রতিহিংসায় পরিণত হয়, যার শেষ নেই।

অতএব সত্যটি কঠিন হলেও স্পষ্ট: খামেনী হত্যা, তা কোনো পক্ষের জন্যই যুদ্ধজয় নয়।
এটি হবে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার, আরও রক্তপাতকে বৈধতা দেওয়ার এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিরতার গভীরে ঠেলে দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

যুদ্ধ জয় হয় ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে, একজন মানুষ হত্যার মাধ্যমে নয়।