ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ার যানজট নিরসন, ডাস্টবিন স্থাপন ও খেলার মাঠ উন্মুক্তকরণে এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা এবার এড. মোসলেমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে জিনিয়ার মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচীর উদ্বোধনকালে এমপি কাজল-সৈকতকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে হবে মহেশখালীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে খুঁটির সাথে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড চাঁদের পাশে জ্বলজ্বলে শুক্র, কক্সবাজারের আকাশে মনকাড়া মহাজাগতিক দৃশ্য টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনে শৃংখলা ফেরাতে ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত : যে কোনো ক্রীড়া আয়োজনে নিতে হবে অনুমতি পা হারানো রায়হানের পাশে উপজেলা প্রশাসন, দেওয়া হবে ভাতা-ট্রাইসাইকেল সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান : হত্যা ও চুরির আসামিসহ গ্রেপ্তার ১১ উখিয়ায় ডাম্পারের ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশু নিহত, গাড়ি ও চালক আটক হোয়াইক্যংয়ে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বাবুল মিয়া গ্রেফতার টেকনাফের সীমান্ত এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার গোলরক্ষক সাঈদীর উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে পেকুয়ায় মানববন্ধন কক্সবাজারে ‘ইউবিইএসটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু: উখিয়ার সেই আলোচিত ঘটনায় তিন আসামি কারাগারে
সম্পাদকীয়

খা’মে’নির মৃ’ত্যু’তে ই’রা’ন কি থেমে যাবে?

যুদ্ধের ইতিহাসে শত্রু নেতৃত্বকে হত্যা করা অনেক সময় “বড় সাফল্য” হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন রাষ্ট্রপ্রধান বা ধর্মীয় নেতাকে হত্যা কখনোই যুদ্ধজয়ের সমার্থক নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এর মতো ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করে না।

খামেনি একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতীক। ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয়; এটি আদর্শ, নিরাপত্তা কাঠামো ও বহুস্তরীয় ক্ষমতার ওপর দাঁড়ানো। ফলে একজন নেতার মৃত্যু মানেই রাষ্ট্রের পতন, এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বরং এমন ঘটনা রাষ্ট্রকে আরও কড়া, আরও প্রতিরোধী করে তোলে।

ইতিহাস বলে, নেতৃত্ব হত্যার ফল প্রায়শই উল্টো হয়। এতে; জনসমর্থন একত্রিত হয়, প্রতিশোধের নৈতিক বৈধতা তৈরি হয়, এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও নির্মম হয়ে ওঠে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এর পর কী? খামেনী নিহত হলে ইরানের ভেতরে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে না; বরং উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হবে, নিরাপত্তা বাহিনী আরও প্রভাবশালী হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি শক্তিগুলো আরও স্বাধীনভাবে আঘাত হানবে। অর্থাৎ যুদ্ধ “জয়” নয়, বরং নতুন ও অনিয়ন্ত্রিত অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও নেতৃত্ব হত্যা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। এটি রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে সংঘাতকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় নামিয়ে আনে, যেখানে কূটনীতির জায়গা সংকুচিত হয়। যুদ্ধ তখন লক্ষ্যহীন প্রতিহিংসায় পরিণত হয়, যার শেষ নেই।

অতএব সত্যটি কঠিন হলেও স্পষ্ট: খামেনী হত্যা, তা কোনো পক্ষের জন্যই যুদ্ধজয় নয়।
এটি হবে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার, আরও রক্তপাতকে বৈধতা দেওয়ার এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিরতার গভীরে ঠেলে দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

যুদ্ধ জয় হয় ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে, একজন মানুষ হত্যার মাধ্যমে নয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ার যানজট নিরসন, ডাস্টবিন স্থাপন ও খেলার মাঠ উন্মুক্তকরণে এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা

সম্পাদকীয়

খা’মে’নির মৃ’ত্যু’তে ই’রা’ন কি থেমে যাবে?

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধের ইতিহাসে শত্রু নেতৃত্বকে হত্যা করা অনেক সময় “বড় সাফল্য” হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন রাষ্ট্রপ্রধান বা ধর্মীয় নেতাকে হত্যা কখনোই যুদ্ধজয়ের সমার্থক নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এর মতো ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে তা যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করে না।

খামেনি একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতীক। ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয়; এটি আদর্শ, নিরাপত্তা কাঠামো ও বহুস্তরীয় ক্ষমতার ওপর দাঁড়ানো। ফলে একজন নেতার মৃত্যু মানেই রাষ্ট্রের পতন, এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বরং এমন ঘটনা রাষ্ট্রকে আরও কড়া, আরও প্রতিরোধী করে তোলে।

ইতিহাস বলে, নেতৃত্ব হত্যার ফল প্রায়শই উল্টো হয়। এতে; জনসমর্থন একত্রিত হয়, প্রতিশোধের নৈতিক বৈধতা তৈরি হয়, এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও নির্মম হয়ে ওঠে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এর পর কী? খামেনী নিহত হলে ইরানের ভেতরে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে না; বরং উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া দ্রুত সক্রিয় হবে, নিরাপত্তা বাহিনী আরও প্রভাবশালী হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি শক্তিগুলো আরও স্বাধীনভাবে আঘাত হানবে। অর্থাৎ যুদ্ধ “জয়” নয়, বরং নতুন ও অনিয়ন্ত্রিত অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও নেতৃত্ব হত্যা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। এটি রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে সংঘাতকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় নামিয়ে আনে, যেখানে কূটনীতির জায়গা সংকুচিত হয়। যুদ্ধ তখন লক্ষ্যহীন প্রতিহিংসায় পরিণত হয়, যার শেষ নেই।

অতএব সত্যটি কঠিন হলেও স্পষ্ট: খামেনী হত্যা, তা কোনো পক্ষের জন্যই যুদ্ধজয় নয়।
এটি হবে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার, আরও রক্তপাতকে বৈধতা দেওয়ার এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিরতার গভীরে ঠেলে দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

যুদ্ধ জয় হয় ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে, একজন মানুষ হত্যার মাধ্যমে নয়।