ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে মুক্তিপণ আদায়ের পরও অপহৃত ঈদগাঁওর ২ বাসিন্দা উদ্ধার পেকুয়ার শিলখালীতে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ২ মুরগির ওজনে কারসাজি : ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বলে বিক্রি, অন্য দোকানে ওজন ২ কেজি ২০০ গ্রাম বিষপান করে উখিয়া হাসপাতালে দিনমজুর মমতাজ : অ্যাম্বুলেন্স দিল না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জসিম উদ্দিন হেলাল কে ভারতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে : দোয়া কামনা পরিবারের ঈদগাঁও উপজেলা সমবায় অফিসারের নিয়োগকৃত পশ্চিম গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচন কমিটি বাতিল বাঁকখালী নদীকে সংকটাপন্ন ঘোষণা, দখলদার উচ্ছেদে হাইকোর্টের পুর্ণাঙ্গ রায় চট্রগ্রামে পুলিশের উপর হামলা: সন্ত্রাসী ‘বিহারী বগা’কে প্রধান করে ২৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা রান্নাঘর রেস্টুরেন্টসহ ৩ প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা উখিয়া প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি শাহীন,সহ-সভাপতি সেলিম, সম্পাদক ফারুক কলেজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ইমতিয়াজের মৃত্যু সীমান্তে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার ১৬ ডিসেম্বর আংশিক চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল শিক্ষার মান যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের দিকে যেতে চায় সরকার স্ত্রীকে হত্যা করে শ্বশুরবাড়িতে খবর দেন স্বামী

কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কক্সবাজার জেলায় ছেলেদের পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকেই মেয়েদের অবস্থান ছেলেদের চেয়ে ভালো।

এবার কক্সবাজার জেলায় মোট ১৮ হাজার ২২৩ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ হাজার ১২৮ জন। পাস করেছে ১০ হাজার ৩৪৯ জন। জেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯৯ জন শিক্ষার্থী।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেয়েদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিপরীতে ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।

শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েদের সাফল্য বেশি। জেলায় মোট ৮৯৯ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১১ জনই মেয়ে, আর ছেলে ৩৮৮ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

তবে বিভাগভেদে ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। সবচেয়ে ভালো ফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জেলায় পাওয়া ৮৯৯টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই এসেছে ৮৩২টি।

বিজ্ঞান বিভাগে ছেলেদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, আর মেয়েদের ৮৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এ বিভাগে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা সামান্য এগিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২২ জন।

মানবিক বিভাগেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ফল ভালো। মেয়েদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ০৭ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫ জন। এখানেও মেয়েরা এগিয়ে—মেয়েদের পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর ছেলেদের ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সব মিলিয়ে কক্সবাজারের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এগিয়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে পাসের হার ও জিপিএ-৫ – দুই সূচকেই মেয়েদের সাফল্য জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতির বিষয়টি সামনে এনেছে।

তবে একই সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের ভালো ফলাফল এবং মানবিক বিভাগের দুর্বল ফলাফল বিভাগভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে না পারায় এ বিভাগের শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে মুক্তিপণ আদায়ের পরও অপহৃত ঈদগাঁওর ২ বাসিন্দা উদ্ধার

কক্সবাজারে এসএসসির ফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে

আপডেট সময় : ১১:০৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কক্সবাজার জেলায় ছেলেদের পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকেই মেয়েদের অবস্থান ছেলেদের চেয়ে ভালো।

এবার কক্সবাজার জেলায় মোট ১৮ হাজার ২২৩ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ হাজার ১২৮ জন। পাস করেছে ১০ হাজার ৩৪৯ জন। জেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯৯ জন শিক্ষার্থী।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেয়েদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিপরীতে ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।

শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েদের সাফল্য বেশি। জেলায় মোট ৮৯৯ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১১ জনই মেয়ে, আর ছেলে ৩৮৮ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

তবে বিভাগভেদে ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। সবচেয়ে ভালো ফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জেলায় পাওয়া ৮৯৯টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই এসেছে ৮৩২টি।

বিজ্ঞান বিভাগে ছেলেদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, আর মেয়েদের ৮৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এ বিভাগে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা সামান্য এগিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২২ জন।

মানবিক বিভাগেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ফল ভালো। মেয়েদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ০৭ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫ জন। এখানেও মেয়েরা এগিয়ে—মেয়েদের পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, আর ছেলেদের ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সব মিলিয়ে কক্সবাজারের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এগিয়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে পাসের হার ও জিপিএ-৫ – দুই সূচকেই মেয়েদের সাফল্য জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতির বিষয়টি সামনে এনেছে।

তবে একই সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের ভালো ফলাফল এবং মানবিক বিভাগের দুর্বল ফলাফল বিভাগভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে না পারায় এ বিভাগের শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।