ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশেষ অভিযানে কক্সবাজারে ৩৬ জন গ্রেপ্তার, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কক্সবাজারের টুটুল, মাসুসহ ৫ নেতা আটক শহরের বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শনকালে এমপি কাজল- পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সদ্য সাবেক কউক চেয়ারম্যানের বড় ভাই আলাউদ্দিন রাজা মারা গেছেন কক্সবাজার সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রদলের মানবিক উদ্যোগ টেকনাফে ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ পেকুয়ার জাহেদ পেলেন পিপিএম পদক আসছে পুলিশের নতুন ইউনিট হাসপাতাল, হাট-বাজার, সমুদ্র সৈকত : ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাস প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পেকুয়ায় ‘ইউসুফ আলী’ হত্যাকান্ডে জড়িত তিন আসামি গ্রেফতার বিশ্ব পর্যটন দিবস : ১৩ ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার’ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই সিএনজির সংঘর্ষ, নিহত ১; আহত ৮ ফ্যাসিবাদীদেরকে তথ্য দিলে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা: পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২ বছর পর পর্দা উঠলো পর্যটন মেলার, তারকামানের হোটেলে বিশেষ ছাড় কুতুবদিয়া থানা কাবাডি দলের জার্সি উন্মোচন

দেশের ওপর ১৬ বছর ধরে যেন ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে: বিবিসিকে ড. ইউনূস

অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: বিবিসি

বাংলাদেশে গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব পেয়ে বিস্মিত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বুধবার (৫ মার্চ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, আমার কোনও ধারণাই ছিল না যে আমি সরকারের নেতৃত্ব দেবো। সরকার পরিচালনার কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা আমার নেই। তবে সব স্থিতিশীল হওয়ার পর আমরা সবকিছু সংগঠিত করতে শুরু করি।

দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। ড. ইউনূস বলেছেন, অর্থনীতি, শান্তি ও শৃঙ্খলা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অর্থনীতির অবস্থা এতটা ভয়াবহ, যেন এর ওপর দিয়ে ১৬ বছর ধরে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস হতে চললেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন না সাধারণ মানুষ। উল্টো তাদের ধারণা, নিরাপত্তা বরং কমেছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. ইউনূস বলেন, ভালো পরিস্থিতি তো আসলে আপেক্ষিক বিষয়। গত বছরের একই সময় কালের অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখবেন, পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। এখন যা হচ্ছে, সেটা অন্য সময়ের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়।

দেশের বর্তমান অস্থিতিশীলতার জন্য সাবেক সরকারকে দায়ী করেছেন ড. ইউনূস।

বাংলাদেশে এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয়ের একটি হলো নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ। ড ইউনূস বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা সামনের বছর মার্চ নাগাদ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। যদি সংস্কার কাজ যথাযথভাবে শেষ হয়, তবে ডিসেম্বরেই সেটা করা যেতে পারে। নইলে কিছুদিন বিলম্ব হবে।

সাবেক সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলেও এখনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা, প্রশ্ন করলে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা এই সিদ্ধান্ত তাদের। আর কে অংশগ্রহণ করতে পারবে সেটা যাচাই করে দেখবে নির্বাচন কমিশন। আমার তো এখানে কিছু বলার নেই।

এদিকে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশেষত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার পৈতৃক বাসভবন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ধ্বংসের পাশাপাশি দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেছেন তারা। তাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার এসব নৃশংসতাকে ন্যায্যতা দিচ্ছে।

তবে মুহূর্তমাত্র বিলম্ব না করে এই অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে ড. ইউনূস বলেছেন, দেশে আইন আছে, আদালত আছে। তারা অনিরাপদ বোধ করলে সেখানে যাক। বিবিসির কাছে গিয়ে অভিযোগ করার কী আছে! তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ করে দেখুক আইন নিজস্ব গতিতে চলছে কিনা।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশেষ অভিযানে কক্সবাজারে ৩৬ জন গ্রেপ্তার, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার

দেশের ওপর ১৬ বছর ধরে যেন ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে: বিবিসিকে ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশে গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব পেয়ে বিস্মিত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বুধবার (৫ মার্চ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, আমার কোনও ধারণাই ছিল না যে আমি সরকারের নেতৃত্ব দেবো। সরকার পরিচালনার কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা আমার নেই। তবে সব স্থিতিশীল হওয়ার পর আমরা সবকিছু সংগঠিত করতে শুরু করি।

দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। ড. ইউনূস বলেছেন, অর্থনীতি, শান্তি ও শৃঙ্খলা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অর্থনীতির অবস্থা এতটা ভয়াবহ, যেন এর ওপর দিয়ে ১৬ বছর ধরে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস হতে চললেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন না সাধারণ মানুষ। উল্টো তাদের ধারণা, নিরাপত্তা বরং কমেছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. ইউনূস বলেন, ভালো পরিস্থিতি তো আসলে আপেক্ষিক বিষয়। গত বছরের একই সময় কালের অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখবেন, পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। এখন যা হচ্ছে, সেটা অন্য সময়ের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়।

দেশের বর্তমান অস্থিতিশীলতার জন্য সাবেক সরকারকে দায়ী করেছেন ড. ইউনূস।

বাংলাদেশে এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয়ের একটি হলো নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ। ড ইউনূস বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা সামনের বছর মার্চ নাগাদ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। যদি সংস্কার কাজ যথাযথভাবে শেষ হয়, তবে ডিসেম্বরেই সেটা করা যেতে পারে। নইলে কিছুদিন বিলম্ব হবে।

সাবেক সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলেও এখনও সাড়া পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা, প্রশ্ন করলে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা এই সিদ্ধান্ত তাদের। আর কে অংশগ্রহণ করতে পারবে সেটা যাচাই করে দেখবে নির্বাচন কমিশন। আমার তো এখানে কিছু বলার নেই।

এদিকে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশেষত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার পৈতৃক বাসভবন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ধ্বংসের পাশাপাশি দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেছেন তারা। তাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার এসব নৃশংসতাকে ন্যায্যতা দিচ্ছে।

তবে মুহূর্তমাত্র বিলম্ব না করে এই অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে ড. ইউনূস বলেছেন, দেশে আইন আছে, আদালত আছে। তারা অনিরাপদ বোধ করলে সেখানে যাক। বিবিসির কাছে গিয়ে অভিযোগ করার কী আছে! তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ করে দেখুক আইন নিজস্ব গতিতে চলছে কিনা।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন