ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, স্বামীকে অক্ষত ফেরত চেয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রামুর সেক্টর কমান্ডার শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ লামায় বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাবের বিদায় সংবর্ধনা প্রশাসন-গণমাধ্যমের সমন্বয়ে জনসেবা গতিশীল হবে- উখিয়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময় পেকুয়ায় করাতকলে অভিযান, মেশিন ও গাছ জব্দ কয়েক যুগেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া , দুর্ভোগে দুই গ্রামের হাজার মানুষ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম নিখোঁজের তিন দিন পর চট্টগ্রামের দুই বাসা থেকে উদ্ধার ৩ স্কুলছাত্রী বিকাশের দোকানের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা:অতঃপর আটক সাহিত্যিকা পল্লীর মিজান পেশকার পাড়ার মৎস্য ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক আর নেই, বাদ আছর জানাজা আজ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস শারদীয় দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সর্বদলীয় মতবিনিময় সভা

কয়েক যুগেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া , দুর্ভোগে দুই গ্রামের হাজার মানুষ

কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব গোঁয়াখালী টেকপাড়া-বিলহাসুরা সড়ক। কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও সড়কটিতে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। যুগের পর যুগ ধরে অবহেলা আর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়ক।ভোগান্তিতে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ।

বর্ষা এলেই কাঁচা সড়কটি কাদায় সয়লাব হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। আর গ্রীষ্মে ধুলাবালি ও খানাখন্দে ভরা এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় সড়কটি ছিল ছোট্ট একটি আইল। ওই আইল দিয়েই চলাচল করতেন এলাকার বাসিন্দারা। পরে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন মাটি দিয়ে সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করেন। এরপর সময়ের সঙ্গে এলাকায় জনবসতি বেড়েছে, গড়ে উঠেছে শত শত বসতবাড়ি। বেড়েছে মানুষের যাতায়াতও। কিন্তু সড়কটির প্রয়োজনের তুলনায় উন্নয়ন হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।

প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের একাংশে ইট বিছানো থাকলেও এক কিলোমিটার অংশ এখনো উন্নয়নবঞ্চিত। খলিলুর রহমান জামে মসজিদ সংলগ্ন কালভার্ট হতে বাবুলের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটির ওই অংশ কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো পথ। কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও কোমর সমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। গ্রীষ্মকালে অটোরিকশা চলাচল করতে পারলেও বর্ষায় অনেক সময় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

শতবর্ষী স্থানীয় বাসিন্দা ফকির মুহাম্মদ আক্ষেপ করে বলেন, “এই এলাকায় প্রথম দিকে আমরা কয়েকটি পরিবার বসবাস করতাম। এখন শত শত বসতবাড়ি হয়েছে। প্রথমে এখানে ছোট্ট একটি আইল ছিল। সেই আইল দিয়েই আমাদের যাতায়াত করতে হতো। পরে সড়কটি প্রশস্ত হয়েছে, কিন্তু এখনো পাকা হয়নি। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। জীবনের শেষ সময়ে এসে অন্তত সড়কটি পাকা হতে দেখতে চাই।”

কলেজছাত্রী জিসান বলেন, সড়কের বেশির ভাগ অংশে ইট বিছানো থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। সড়কটি দেখলে মনে হয়, এটি কোনো রাস্তা নয়, যেন চাষ করা জমি। বর্ষায় চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ মিয়া ও বাদশাহ বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে মানুষের কষ্টের সীমা নেই। বিশেষ করে বর্ষাকালে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় রোগীকে দোলনায় করে নিয়ে যেতে হয়। বর্ষায় সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে থাকে। তখন নৌকাই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ চললেও সড়কটির স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি চলাচল উপযোগী সড়কের অভাবে শুধু যাতায়াতেই নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়-কলেজে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী পরিবহনে বিলম্বের আশঙ্কাও থাকে। তাই সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণ এখন এলাকাবাসীর সময়ের দাবি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক বলেন, পরিষদের পক্ষ থেকে ১৪টি সড়কের উন্নয়নের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বাবুলের বাড়ি হতে খলিলুর রহমান জামে মসজিদ কালভার্ট পর্যন্ত সড়কটি তিন নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কারকাজ হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল হোছাইন বলেন, “আমি নতুন আসছি। সড়কটির লোকেশনটা চিনতে পারছিনা। খোঁজ নিয়ে আমরা সরেজমিন গিয়ে সড়কটি দেখে আসব।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, স্বামীকে অক্ষত ফেরত চেয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

কয়েক যুগেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া , দুর্ভোগে দুই গ্রামের হাজার মানুষ

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব গোঁয়াখালী টেকপাড়া-বিলহাসুরা সড়ক। কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও সড়কটিতে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। যুগের পর যুগ ধরে অবহেলা আর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়ক।ভোগান্তিতে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ।

বর্ষা এলেই কাঁচা সড়কটি কাদায় সয়লাব হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। আর গ্রীষ্মে ধুলাবালি ও খানাখন্দে ভরা এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় সড়কটি ছিল ছোট্ট একটি আইল। ওই আইল দিয়েই চলাচল করতেন এলাকার বাসিন্দারা। পরে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন মাটি দিয়ে সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করেন। এরপর সময়ের সঙ্গে এলাকায় জনবসতি বেড়েছে, গড়ে উঠেছে শত শত বসতবাড়ি। বেড়েছে মানুষের যাতায়াতও। কিন্তু সড়কটির প্রয়োজনের তুলনায় উন্নয়ন হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।

প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের একাংশে ইট বিছানো থাকলেও এক কিলোমিটার অংশ এখনো উন্নয়নবঞ্চিত। খলিলুর রহমান জামে মসজিদ সংলগ্ন কালভার্ট হতে বাবুলের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটির ওই অংশ কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো পথ। কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও কোমর সমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। গ্রীষ্মকালে অটোরিকশা চলাচল করতে পারলেও বর্ষায় অনেক সময় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

শতবর্ষী স্থানীয় বাসিন্দা ফকির মুহাম্মদ আক্ষেপ করে বলেন, “এই এলাকায় প্রথম দিকে আমরা কয়েকটি পরিবার বসবাস করতাম। এখন শত শত বসতবাড়ি হয়েছে। প্রথমে এখানে ছোট্ট একটি আইল ছিল। সেই আইল দিয়েই আমাদের যাতায়াত করতে হতো। পরে সড়কটি প্রশস্ত হয়েছে, কিন্তু এখনো পাকা হয়নি। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। জীবনের শেষ সময়ে এসে অন্তত সড়কটি পাকা হতে দেখতে চাই।”

কলেজছাত্রী জিসান বলেন, সড়কের বেশির ভাগ অংশে ইট বিছানো থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। সড়কটি দেখলে মনে হয়, এটি কোনো রাস্তা নয়, যেন চাষ করা জমি। বর্ষায় চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ মিয়া ও বাদশাহ বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে মানুষের কষ্টের সীমা নেই। বিশেষ করে বর্ষাকালে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় রোগীকে দোলনায় করে নিয়ে যেতে হয়। বর্ষায় সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে থাকে। তখন নৌকাই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ চললেও সড়কটির স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি চলাচল উপযোগী সড়কের অভাবে শুধু যাতায়াতেই নয়, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়-কলেজে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী পরিবহনে বিলম্বের আশঙ্কাও থাকে। তাই সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণ এখন এলাকাবাসীর সময়ের দাবি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক বলেন, পরিষদের পক্ষ থেকে ১৪টি সড়কের উন্নয়নের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বাবুলের বাড়ি হতে খলিলুর রহমান জামে মসজিদ কালভার্ট পর্যন্ত সড়কটি তিন নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কারকাজ হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল হোছাইন বলেন, “আমি নতুন আসছি। সড়কটির লোকেশনটা চিনতে পারছিনা। খোঁজ নিয়ে আমরা সরেজমিন গিয়ে সড়কটি দেখে আসব।”