কক্সবাজারের পেকুয়ায় সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে এক যুবকের কাছ থেকে ৪ লাখ ১২ হাজার টাকা নেওয়ার পর ভিসা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারী ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে গালিগালাজ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগও করেছেন ওই যুবক। এ ঘটনায় পেকুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী মাহমুদুল হাছান মাসুদ (২৯) কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী এলাকার মৃত জাকের উল্লাহর ছেলে। বর্তমানে তিনি পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব গোয়াখালী এলাকায় বসবাস করেন। গতকাল তিনি পেকুয়া থানায় জিডিটি করেন। জিডি নম্বর ৫০৪।
জিডি সূত্রে জানা যায়, চাকরির সূত্রে পরিচয়ের সুবাদে পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের আন্নর আলী পাড়ার বাসিন্দা জন্না বেগম (৫০) ও তাঁর ছেলে প্রবাসী মোহাম্মদ মিজানের (৩২) সঙ্গে মাসুদের পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানোর আশ্বাস দেন তাঁরা।
অভিযোগে বলা হয়, ওই আশ্বাসে বিশ্বাস করে ২০২৫ সালের ১৭ মে জন্না বেগমকে নগদ ৪ লাখ ১২ হাজার টাকা দেন মাসুদ। তবে টাকা নেওয়ার পরও তাঁকে ভিসা দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা টালবাহানা করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৭ অক্টোবর পাওনা টাকা চাইতে জন্না বেগমের বসতঘরে যান মাসুদ। এ সময় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারমুখী আচরণ করেন। তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
মাসুদ জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার ভিসা দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৪ লাখ ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভিসা দেওয়া হয়নি, টাকাও ফেরত পাননি। উল্টো টাকা চাইতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েছেন। এ কারণে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন তিনি।
অভিযুক্ত মিজান দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে তাঁর বড় ভাই শাজাহান বলেন, আমার ভাইয়ের সাথে তাদের ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে লেনদেন আছে। তবে টাকার পরিমাণটা আরও কম৷ আমার ভাইয়ের সাথে কথা বলে সেটা সমাধান করা হবে।
পেকুয়া থানার এএসআই ফরিদ মিয়া বলেন, ভিসা দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পেকুয়া প্রতিনিধি: 
























