ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে : রিজভী বিশ্ববাজারে ১০১ ডলারে পৌঁছেছে জ্বালানি তেলের দাম সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের তাণ্ডব: ৮ মাঝিমাল্লা চমেক হাসপাতালে সেন্টমার্টিনে ভুল চিকিৎসায় অসুস্থ ৫০ শিশু! ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উখিয়ায় শ্মশানের ভাঙচুর করা দেয়াল পুন:র্নির্মাণ শুরু সোনাদিয়া দ্বীপে প্যারাবন দখলদারদের উচ্ছেদে নামছে নৌবাহিনী : পরিবেশবাদীদের স্বস্তি জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ বৈঠকে আমীর -“তেল, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে” কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে চেইন্দায় ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজি যাত্রী নিহত বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ২৫ জন, ১৭ কিশোর গ্যাং সদস্য আটক লোহাগাড়ায় বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু ১.৫ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি, তার মধ্যে ৫,৭৬৬ টন লবণ গায়েব উখিয়ায় কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার কক্সবাজারে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি চকরিয়ায় ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ ৩ জন আটক
তিন ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ মাঝিমাল্লা নিখোঁজ

সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের তাণ্ডব: ৮ মাঝিমাল্লা চমেক হাসপাতালে

মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের বর্বর হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত আটজন মাঝিমাল্লাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মহেশখালী থেকে চিকিৎসার জন্য তাদের চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত তিনদিনে (রবি, সোম, মঙ্গলবার) ওই সমুদ্রসীমার ‘১২ বাম’ এলাকায় অন্তত ১৫টি ফিশিং ট্রলারে উপর্যুপরি হামলা চালিয়েছে দস্যু দল, এতে কমপক্ষে ২০ জন মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন।

এই ঘটনার পর থেকে তিনটি ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও বোট মালিকরা।

জানা যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, মাহমুদুল হক মাঝি (৩৯), লকিয়ত উল্লাহ (৩৩), আব্দুল মান্নান (৩৪), আব্দুল মজিদ (৩৩), সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. হাসান (২৬), সামুন (২৫) ও কামাল হোসেন মাঝি (৩৯)। এর আগে হামলার শিকার অন্যান্য আহতদের মহেশখালী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহমুদুল হক মাঝি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ ছোট ছোট বোটে করে সশস্ত্র জলদস্যুরা এসে তাদের ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়। দস্যুরা ট্রলারে উঠে ব্যাপক লুটপাট চালায় এবং মাঝিমাল্লাদের জিম্মি করে নির্মমভাবে মারধর করে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাগরে নিরাপত্তা জোরদার না করা হলে ফিশিং বোট নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। বর্তমানে দস্যুদের ভয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে তাদের সাগরে যেতে হচ্ছে।

কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সোনাদিয়া চ্যানেলের পশ্চিমে ‘১২ বাম’ নামক এলাকায় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল একের পর এক ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা প্রতিটি ট্রলার থেকে মাছ, জাল, জ্বালানি তেল, খাদ্য রসদ, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

আক্রান্ত ট্রলারগুলোর মধ্যে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা ঘাটের ৯টি ট্রলার রয়েছে। আহত মাঝিমাল্লারা গত ৫ অক্টোবর বিকেলে ঘাটে ফিরে এলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তিনটি ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ থাকায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এদিকে সাগরে জলদস্যুদের এই অপতৎপরতা ও ডাকাতি প্রতিরোধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় টহল ও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে জানান, জলদস্যু ও ডাকাতদের দমন করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজর জোরদার করা হয়েছে। শীঘ্রই সাগরে দস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ট্যাগ :

দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে : রিজভী

তিন ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ মাঝিমাল্লা নিখোঁজ

সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের তাণ্ডব: ৮ মাঝিমাল্লা চমেক হাসপাতালে

আপডেট সময় : ১০:৩৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের বর্বর হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত আটজন মাঝিমাল্লাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মহেশখালী থেকে চিকিৎসার জন্য তাদের চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত তিনদিনে (রবি, সোম, মঙ্গলবার) ওই সমুদ্রসীমার ‘১২ বাম’ এলাকায় অন্তত ১৫টি ফিশিং ট্রলারে উপর্যুপরি হামলা চালিয়েছে দস্যু দল, এতে কমপক্ষে ২০ জন মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন।

এই ঘটনার পর থেকে তিনটি ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও বোট মালিকরা।

জানা যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, মাহমুদুল হক মাঝি (৩৯), লকিয়ত উল্লাহ (৩৩), আব্দুল মান্নান (৩৪), আব্দুল মজিদ (৩৩), সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. হাসান (২৬), সামুন (২৫) ও কামাল হোসেন মাঝি (৩৯)। এর আগে হামলার শিকার অন্যান্য আহতদের মহেশখালী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহমুদুল হক মাঝি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ ছোট ছোট বোটে করে সশস্ত্র জলদস্যুরা এসে তাদের ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়। দস্যুরা ট্রলারে উঠে ব্যাপক লুটপাট চালায় এবং মাঝিমাল্লাদের জিম্মি করে নির্মমভাবে মারধর করে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাগরে নিরাপত্তা জোরদার না করা হলে ফিশিং বোট নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। বর্তমানে দস্যুদের ভয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে তাদের সাগরে যেতে হচ্ছে।

কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সোনাদিয়া চ্যানেলের পশ্চিমে ‘১২ বাম’ নামক এলাকায় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল একের পর এক ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা প্রতিটি ট্রলার থেকে মাছ, জাল, জ্বালানি তেল, খাদ্য রসদ, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

আক্রান্ত ট্রলারগুলোর মধ্যে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা ঘাটের ৯টি ট্রলার রয়েছে। আহত মাঝিমাল্লারা গত ৫ অক্টোবর বিকেলে ঘাটে ফিরে এলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তিনটি ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ থাকায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এদিকে সাগরে জলদস্যুদের এই অপতৎপরতা ও ডাকাতি প্রতিরোধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় টহল ও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে জানান, জলদস্যু ও ডাকাতদের দমন করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজর জোরদার করা হয়েছে। শীঘ্রই সাগরে দস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।