ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১০ মরদেহ হস্তান্তরের দিন উদ্ধার নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তার দেহাবশেষ : নিহত বেড়ে ১১ ১০ দিন পর মিলল মুক্তার দেহাবশেষ, গলার লকেটেই স্ত্রীকে চিনলেন স্বামী কক্সবাজারে এসে পৌঁছাল মহানগর এক্সপ্রেসের প্রথম ট্রেন, পর্যটন মৌসুমে বাড়তি সুবিধার আশা পর্যটনের পাশাপাশি সংস্কৃতিতেও এগিয়ে যাবে কক্সবাজার: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী পেকুয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. কামাল হোসেনের ইন্তেকাল জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’, সারাদেশে বৃষ্টির আভাস টেকনাফের বাহারছড়ার রিদুয়ান বাহিনীর সদস্য আব্দুর রহিম আটক মাটি থেকে বের হচ্ছে আগুন, গ্যাসের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ইনানী চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ মিথ্যা দাবি খোকন চেয়ারম্যানের : চাইলেন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত কুতুবজোমের উন্নয়ন ও নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নামছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. রহিম উল্লাহ টুপটুপের মামলায় ওসি তলব- ‘আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ’ পাটুয়ারটেক ট্রাজেডি, ডিএনএ টেস্টে নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে, মিলেনি ছাত্রদল নেতার স্ত্রীর পরিচয় কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, যুক্ত হলো মহানগর এক্সপ্রেস নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ কক্সবাজার জেলার উপ কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ সাঈদ চট্রগ্রামে আটক
তিন ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ মাঝিমাল্লা নিখোঁজ

সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের তাণ্ডব: ৮ মাঝিমাল্লা চমেক হাসপাতালে

মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের বর্বর হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত আটজন মাঝিমাল্লাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মহেশখালী থেকে চিকিৎসার জন্য তাদের চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত তিনদিনে (রবি, সোম, মঙ্গলবার) ওই সমুদ্রসীমার ‘১২ বাম’ এলাকায় অন্তত ১৫টি ফিশিং ট্রলারে উপর্যুপরি হামলা চালিয়েছে দস্যু দল, এতে কমপক্ষে ২০ জন মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন।

এই ঘটনার পর থেকে তিনটি ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও বোট মালিকরা।

জানা যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, মাহমুদুল হক মাঝি (৩৯), লকিয়ত উল্লাহ (৩৩), আব্দুল মান্নান (৩৪), আব্দুল মজিদ (৩৩), সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. হাসান (২৬), সামুন (২৫) ও কামাল হোসেন মাঝি (৩৯)। এর আগে হামলার শিকার অন্যান্য আহতদের মহেশখালী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহমুদুল হক মাঝি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ ছোট ছোট বোটে করে সশস্ত্র জলদস্যুরা এসে তাদের ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়। দস্যুরা ট্রলারে উঠে ব্যাপক লুটপাট চালায় এবং মাঝিমাল্লাদের জিম্মি করে নির্মমভাবে মারধর করে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাগরে নিরাপত্তা জোরদার না করা হলে ফিশিং বোট নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। বর্তমানে দস্যুদের ভয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে তাদের সাগরে যেতে হচ্ছে।

কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সোনাদিয়া চ্যানেলের পশ্চিমে ‘১২ বাম’ নামক এলাকায় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল একের পর এক ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা প্রতিটি ট্রলার থেকে মাছ, জাল, জ্বালানি তেল, খাদ্য রসদ, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

আক্রান্ত ট্রলারগুলোর মধ্যে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা ঘাটের ৯টি ট্রলার রয়েছে। আহত মাঝিমাল্লারা গত ৫ অক্টোবর বিকেলে ঘাটে ফিরে এলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তিনটি ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ থাকায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এদিকে সাগরে জলদস্যুদের এই অপতৎপরতা ও ডাকাতি প্রতিরোধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় টহল ও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে জানান, জলদস্যু ও ডাকাতদের দমন করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজর জোরদার করা হয়েছে। শীঘ্রই সাগরে দস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

১০ মরদেহ হস্তান্তরের দিন উদ্ধার নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তার দেহাবশেষ : নিহত বেড়ে ১১

তিন ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ মাঝিমাল্লা নিখোঁজ

সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের তাণ্ডব: ৮ মাঝিমাল্লা চমেক হাসপাতালে

আপডেট সময় : ১০:৩৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের বর্বর হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত আটজন মাঝিমাল্লাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মহেশখালী থেকে চিকিৎসার জন্য তাদের চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত তিনদিনে (রবি, সোম, মঙ্গলবার) ওই সমুদ্রসীমার ‘১২ বাম’ এলাকায় অন্তত ১৫টি ফিশিং ট্রলারে উপর্যুপরি হামলা চালিয়েছে দস্যু দল, এতে কমপক্ষে ২০ জন মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন।

এই ঘটনার পর থেকে তিনটি ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও বোট মালিকরা।

জানা যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, মাহমুদুল হক মাঝি (৩৯), লকিয়ত উল্লাহ (৩৩), আব্দুল মান্নান (৩৪), আব্দুল মজিদ (৩৩), সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. হাসান (২৬), সামুন (২৫) ও কামাল হোসেন মাঝি (৩৯)। এর আগে হামলার শিকার অন্যান্য আহতদের মহেশখালী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহমুদুল হক মাঝি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ ছোট ছোট বোটে করে সশস্ত্র জলদস্যুরা এসে তাদের ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়। দস্যুরা ট্রলারে উঠে ব্যাপক লুটপাট চালায় এবং মাঝিমাল্লাদের জিম্মি করে নির্মমভাবে মারধর করে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাগরে নিরাপত্তা জোরদার না করা হলে ফিশিং বোট নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। বর্তমানে দস্যুদের ভয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে তাদের সাগরে যেতে হচ্ছে।

কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সোনাদিয়া চ্যানেলের পশ্চিমে ‘১২ বাম’ নামক এলাকায় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল একের পর এক ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা প্রতিটি ট্রলার থেকে মাছ, জাল, জ্বালানি তেল, খাদ্য রসদ, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

আক্রান্ত ট্রলারগুলোর মধ্যে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা ঘাটের ৯টি ট্রলার রয়েছে। আহত মাঝিমাল্লারা গত ৫ অক্টোবর বিকেলে ঘাটে ফিরে এলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তিনটি ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ থাকায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এদিকে সাগরে জলদস্যুদের এই অপতৎপরতা ও ডাকাতি প্রতিরোধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় টহল ও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে জানান, জলদস্যু ও ডাকাতদের দমন করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজর জোরদার করা হয়েছে। শীঘ্রই সাগরে দস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।