উখিয়ার দারোগা বাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের ভাঙচুর করা সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কাজ শুরু হয়। এর আগে দেয়াল পুনর্নির্মাণ ও ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দুর্গাপূজা থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছিল শ্মশান ও দুর্গা মন্দির পরিচালনা পরিষদ।
কর্মসূচি ঘোষণার পর বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তিতে উদ্যোগ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। মঙ্গলবার সকালে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু আবদুল্লাহ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে তাদের সম্মতিতে দেয়াল পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, ‘এখানে সাম্প্রদায়িক কোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ছিল না। জায়গাজমির বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’
শ্মশান ও দুর্গা মন্দির পরিচালনা পরিষদের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে শ্মশানের দক্ষিণ পাশের সীমানা প্রাচীরের ১৫ ফুটের বেশি অংশ ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শ্মশানের জায়গা জবরদখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে দেয়াল ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
পরিচালনা পরিষদের ভাষ্য, ঘটনার পর ইউএনও ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে ইউএনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে থানায় ও ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
৪ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে পরিচালনা পরিষদ তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। ৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি, ৮ অক্টোবরের মধ্যে দেয়াল পুনর্নির্মাণ ও আইনগত ব্যবস্থা না হলে দুর্গাপূজা থেকে বিরত থাকা এবং এরপরও দাবি পূরণ না হলে ১০ অক্টোবর মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।
শ্মশান ও দুর্গা মন্দির পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রতন কান্তি দে জানান,দারোগা বাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে দুই শত বছরের বেশি সময় ধরে উখিয়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মরদেহ সৎকার হয়ে আসছে।
পরিচালনা পরিষদের দাবি, শ্মশানের জমি সরকারি খাস জমি হিসেবে আরএস ও বিএস ১ নম্বর খতিয়ানে শ্মশানের নামে রেকর্ডভুক্ত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের জায়গাজমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করত। তাঁদের ভাষ্য, ইউএনও পান্না আক্তারের নেতৃত্বে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধটি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়েছে। এতে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















