ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিখোঁজের ১৫ ঘন্টা পর উদ্ধার হওয়া রামুর স্কুল ছাত্র শাহীনের জানাজা সম্পন্ন জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাবকে স্বাগত জানালো আশ্রিত রোহিঙ্গারা পেকুয়ায় মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্ব, মাছ বিক্রি বন্ধ কাউন্সিলর একরাম হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৭ সেপ্টেম্বর বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের গোলাগুলি : টেকনাফ সীমান্তে ১ লাখ ৪৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার বিমান বাহিনীর ১৩২ তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ মাদকই অপরাধের বড় কারণ, নির্মূলে কাজ করছে সরকার: পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের ২য় শাহাদাত বার্ষিকীতে সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধাঞ্জলি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক-জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত টেকসই শান্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিতে নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণে জোর দিলো বাংলাদেশ জাতিসংঘে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চকরিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির কমিটি গঠন: আহ্বায়ক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সদস্য সচিব: রায়হান উদ্দিন হলিডে মোড়ে ট্রাক চাপায় রাসেল নামের মোটরসাইকেল আরোহী নিহত : আহত ২ পেকুয়ায় মাদক কেনার সময় যুবক আটক, ৩ মাসের কারাদণ্ড

পেকুয়ায় মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্ব, মাছ বিক্রি বন্ধ

পেকুয়ায় কাঁচা মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্বে মাছ বিক্রি বন্ধ রয়েছে৷ অভিযোগ উঠেছে আড়ৎদারের কাছে ৪২জন ক্ষুদ্র মাছ বিক্রতেরা জিম্মি রয়েছে। আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণ, অসম দামে মাছ বিক্রি, দাদনের টাকা এবং অতিরিক্ত দামে মাছ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ীরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাবি-দাওয়া মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা মাছ বিক্রি করবেন না। এতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পেকুয়া বাজারের মাছের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেকুয়া বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের মাছ কেনাবেচা হয়। মাছ কেনাবেচার জন্য বাজারে তিনতলা বিশিষ্ট আলাদা ভবন রয়েছে। সেখানে চারজন আড়তদার ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে প্রায় ৪২ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিয়মিত মাছের ব্যবসা করে আসছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দাদন নেওয়ার কারণে তাদের অনেকটা বাধ্য হয়েই সংশ্লিষ্ট আড়তদারদের কাছ থেকে মাছ কিনতে হয়। একই সঙ্গে আড়তদাররা নির্দিষ্ট সময়ের পরও আড়ত খোলা রেখে খুচরা মাছ বিক্রি করায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।

ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, সকাল, দুপুর ও বিকেলে একই জাতের মাছ ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করা হয়। সকালে আড়ত থেকে মাছ কিনলে তুলনামূলক বেশি দাম দিতে হয়। পরে দুপুর বা বিকেলে একই মাছ কম দামে বিক্রি করা হয়। ফলে সকালে বেশি দামে মাছ কেনা ব্যবসায়ীরা দিন শেষে লোকসানে পড়েন।

তাদের ভাষ্য, বেশি দামে মাছ কেনার কারণে ক্রেতাদের কাছেও বেশি দামে মাছ বিক্রি করতে হয়। এতে ক্রেতারা বেশি দামে মাছ কিনতে অনাগ্রহী হন। আবার কম দামে বিক্রি করলে ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়। অনেক সময় সারাদিন মাছ বিক্রি করেও মাছ অবিক্রীত থেকে যায়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিন শেষে আড়তদারদের মাছের পুরো টাকা পরিশোধ করতে হয়। লোকসানের কারণে সময়মতো টাকা দিতে না পারলে আড়তদারদের কাছ থেকে গালমন্দ ও অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হয়। এভাবে লোকসান গুনতে গুনতে অনেক ব্যবসায়ী দেনায় পড়ে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তদাররা প্রতি লাখ টাকা মাছের কেনাবেচায় ৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন। তাদের দাবি, আড়তদারদের আড়ত পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত।

ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সকাল ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত আড়ত খোলা রাখা, এরপর আড়ত বন্ধ রাখা এবং আড়তদারদের বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে বাইরে থেকে মাছ নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদেরও বাজারে বসে মাছ বিক্রির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাছের দোকানের ইজারাদার আব্দুল মান্নান বলেন, “প্রতিদিন এই বাজারে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয়। আড়তদাররা প্রতি লাখে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন। অথচ ইজারাদার হিসেবে আমি হাসিল পাই মাত্র ৫ হাজার টাকা। আমার প্রস্তাব হচ্ছে, সকাল ৫টা থেকে ১০টা পর্যন্ত আড়ত খোলা থাকবে। এরপর আড়ত বন্ধ রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাইরে থেকে যারা মাছ এনে বিক্রি করতে চান, তাদেরও সিটে বসে মাছ বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে। ইজারাদারের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে এবং তাদের কাছ থেকে কম হাসিল নেওয়া হবে।”

ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দাবি-দাওয়া মেনে না নেওয়া পর্যন্ত মাছ বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে তারা অনড় থাকবেন। তাদের দাবি, আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণ ও দাদন নির্ভর ব্যবসা থেকে মুক্তি পেলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ন্যায্যভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেনি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। ইজারাদারের সঙ্গে কথা বলবো। আড়তদার নিদিষ্ট সময়ে খোলা থাকবে এটাতো স্বাভাবিক। সব সময় খোলা থাকবে এটাতো হতে পারেনা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নিখোঁজের ১৫ ঘন্টা পর উদ্ধার হওয়া রামুর স্কুল ছাত্র শাহীনের জানাজা সম্পন্ন

পেকুয়ায় মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্ব, মাছ বিক্রি বন্ধ

আপডেট সময় : ০৭:০৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পেকুয়ায় কাঁচা মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্বে মাছ বিক্রি বন্ধ রয়েছে৷ অভিযোগ উঠেছে আড়ৎদারের কাছে ৪২জন ক্ষুদ্র মাছ বিক্রতেরা জিম্মি রয়েছে। আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণ, অসম দামে মাছ বিক্রি, দাদনের টাকা এবং অতিরিক্ত দামে মাছ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ীরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাবি-দাওয়া মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা মাছ বিক্রি করবেন না। এতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পেকুয়া বাজারের মাছের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেকুয়া বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের মাছ কেনাবেচা হয়। মাছ কেনাবেচার জন্য বাজারে তিনতলা বিশিষ্ট আলাদা ভবন রয়েছে। সেখানে চারজন আড়তদার ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে প্রায় ৪২ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিয়মিত মাছের ব্যবসা করে আসছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দাদন নেওয়ার কারণে তাদের অনেকটা বাধ্য হয়েই সংশ্লিষ্ট আড়তদারদের কাছ থেকে মাছ কিনতে হয়। একই সঙ্গে আড়তদাররা নির্দিষ্ট সময়ের পরও আড়ত খোলা রেখে খুচরা মাছ বিক্রি করায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।

ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, সকাল, দুপুর ও বিকেলে একই জাতের মাছ ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করা হয়। সকালে আড়ত থেকে মাছ কিনলে তুলনামূলক বেশি দাম দিতে হয়। পরে দুপুর বা বিকেলে একই মাছ কম দামে বিক্রি করা হয়। ফলে সকালে বেশি দামে মাছ কেনা ব্যবসায়ীরা দিন শেষে লোকসানে পড়েন।

তাদের ভাষ্য, বেশি দামে মাছ কেনার কারণে ক্রেতাদের কাছেও বেশি দামে মাছ বিক্রি করতে হয়। এতে ক্রেতারা বেশি দামে মাছ কিনতে অনাগ্রহী হন। আবার কম দামে বিক্রি করলে ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়। অনেক সময় সারাদিন মাছ বিক্রি করেও মাছ অবিক্রীত থেকে যায়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিন শেষে আড়তদারদের মাছের পুরো টাকা পরিশোধ করতে হয়। লোকসানের কারণে সময়মতো টাকা দিতে না পারলে আড়তদারদের কাছ থেকে গালমন্দ ও অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হয়। এভাবে লোকসান গুনতে গুনতে অনেক ব্যবসায়ী দেনায় পড়ে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তদাররা প্রতি লাখ টাকা মাছের কেনাবেচায় ৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন। তাদের দাবি, আড়তদারদের আড়ত পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত।

ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সকাল ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত আড়ত খোলা রাখা, এরপর আড়ত বন্ধ রাখা এবং আড়তদারদের বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে বাইরে থেকে মাছ নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদেরও বাজারে বসে মাছ বিক্রির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাছের দোকানের ইজারাদার আব্দুল মান্নান বলেন, “প্রতিদিন এই বাজারে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয়। আড়তদাররা প্রতি লাখে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করেন। অথচ ইজারাদার হিসেবে আমি হাসিল পাই মাত্র ৫ হাজার টাকা। আমার প্রস্তাব হচ্ছে, সকাল ৫টা থেকে ১০টা পর্যন্ত আড়ত খোলা থাকবে। এরপর আড়ত বন্ধ রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাইরে থেকে যারা মাছ এনে বিক্রি করতে চান, তাদেরও সিটে বসে মাছ বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে। ইজারাদারের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে এবং তাদের কাছ থেকে কম হাসিল নেওয়া হবে।”

ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দাবি-দাওয়া মেনে না নেওয়া পর্যন্ত মাছ বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে তারা অনড় থাকবেন। তাদের দাবি, আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণ ও দাদন নির্ভর ব্যবসা থেকে মুক্তি পেলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ন্যায্যভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেনি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। ইজারাদারের সঙ্গে কথা বলবো। আড়তদার নিদিষ্ট সময়ে খোলা থাকবে এটাতো স্বাভাবিক। সব সময় খোলা থাকবে এটাতো হতে পারেনা।