তাল নবমী তিথিতে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা সৎসঙ্গ মন্দিরে দুই দিনব্যাপী মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর জেলা সৎসঙ্গ মন্দিরের শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ মহোৎসবের আয়োজন করা হয়।
শনিবার ভোরে প্রাতঃকালীন প্রার্থনা, ঊষা কীর্তন ও প্রভাতী সংগীতের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের সূচনা হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল গীতাপাঠ, ‘সত্যানুসরণ’ পাঠ, ভক্তিমূলক গানের প্রতিযোগিতা ও মাতৃ সম্মেলন।
রবিবার সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর নগর পরিক্রমা, ঠাকুরের সৎনামে দীক্ষা গ্রহণ, ইষ্টপূজা ও অঞ্জলি নিবেদন অনুষ্ঠিত হয়। পরে আনন্দবাজারে মহাপ্রসাদ বিতরণ ও আস্বাদনের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় সান্ধ্যকালীন প্রার্থনা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ও মহতী ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়।
ধর্মসভার উদ্বোধন করেন শ্রী শ্রী ঠাকুরের পৌত্র ও সংঘাধ্যক্ষের প্রতিনিধি শ্রী বিনায়ক চক্রবর্তী। বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে ও উপমহাদেশে এত হানাহানি, মারামারি, গণ্ডগোল ও যুদ্ধ লেগে মৃত্যুর মিছিল হচ্ছে। হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে ভালো অস্ত্র কিংবা মিসাইল কীভাবে আবিষ্কার করা যায়, অথচ মানুষ তৈরির জন্য কোনো গবেষণা হচ্ছে না। জনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু মানুষ হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “গাছের পরিচর্যা ছাড়া যেমন ফুল-ফল পাওয়া যায় না, তেমনি আদর্শের চর্চা ছাড়া মানুষের জীবনও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয় না। ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আদর্শ ধারণ করে সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল জীবন গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তি ও পরিবারকে সুন্দর করার মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে।”
ধর্মীয় আলোচনা সভায় জেলা সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশনের সংগঠনিক সম্পাদক ছোটন দাশের সঞ্চালনায়, ১৩৯ তম শুভ তাল নবমী উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি শিমুল পালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অভিলাষ ধর,শ্রী শ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় শাখার সভাপতি বৃতেন্দ্র কুমার মালাকার স:প্র: ঋ, সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথী চক্রবর্ত্তী স: প্র: ঋ, ঋত্তিক সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চক্রবর্ত্তী স:প্র: ঋত্তিক, জেলা সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশন কার্যকরী সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব কর্মকার,সদর থানার (ওসি) অপারেশন শোভন সাহা,সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাপ্পি শর্মা ও সাধারণ সম্পাদক বলরাম দাশ সহ অনেকেই ।
মহোৎসবের সার্বিক আয়োজন সম্পর্কে জেলা সৎসঙ্গ মন্দিরের কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক রাজীব কর্মকার বলেন, “শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী মহোৎসব ভক্ত ও অনুসারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অত্যন্ত আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। মহোৎসবের প্রতিটি আয়োজনে ভক্তদের আন্তরিক উপস্থিতি ও সহযোগিতা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।ভবিষ্যতেও সৎসঙ্গের বিভিন্ন কার্যক্রমে সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।”
পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মধ্যে দিয়ে শেষ হয় দুইদিনব্যাপী এই আয়োজন।
রাহুল মহাজন: 


















