কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ), নো ডেভেলপমেন্ট জোন ও সংরক্ষিত পর্যটন এলাকার ভেতরে ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আবেদন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করার জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ সড়ক নির্মাণকাজের ওপর আট সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে এ নির্মাণকাজ কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং নির্মিত অংশ অপসারণ করে জীববৈচিত্র্য পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। জাইকার অর্থায়নে আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড আরবান গভর্ন্যান্স প্রকল্পের আওতায় সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত এ সড়কটি নির্মিত হচ্ছিল।
পরিবেশবাদীদের মতে, সৈকতের বালিয়াড়ি সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলায় প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে এবং এটি লাল কাঁকড়াসহ নানা জীববৈচিত্র্যের প্রধান আবাসস্থল। বেলার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, ইসিএ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোনো বাধ্যতামূলক পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়েই কেবল ভূমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে এই নির্মাণকাজ শুরু করেছিল, যা সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশনারও স্পষ্ট লঙ্ঘন। সোমবার আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং বেলার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















