ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

পেকুয়ায় বন্যার্তদের পাশে চিকিৎসক, ১,২০০ রোগীকে চিকিৎসা ও ৫০ পরিবারকে ঢেউটিন সহায়তা

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদ ওয়াসিমের স্মৃতিবিজড়িত পেকুয়ায় আয়োজিত দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ১,২০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ১০০ বান (৮০০ পিস) ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় পেকুয়া শহীদ জিয়া ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত আলোচনা সভা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. মং টিং ঞো। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নার্স ও পুষ্টিবিদ ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান, পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সফওয়ানুল করিম এবং কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ব্রেইন অ্যান্ড মাইন্ড বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন।

দিনব্যাপী পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পে মেডিসিন, নিউরো মেডিসিন, শিশু রোগ, গাইনি অ্যান্ড অবস, সার্জারি, ডায়াবেটিস ও হরমোন, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌনরোগ, অর্থোপেডিক্স ও ট্রমা, নাক-কান-গলা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দন্ত বিভাগসহ ১২টি বিভাগের ৩৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৮ জন অভিজ্ঞ নার্স এবং ১০ জন স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করা হয়।

একই অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের প্রত্যেককে ১৬ পিস করে মোট ৮০০ পিস (১০০ বান) ঢেউটিন দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এসব উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বসতঘর পুনর্নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক বলেন, “দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসকদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন সহায়তা একসঙ্গে নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

প্রধান অতিথি ডা. মং টিং ঞো বলেন, “বন্যার পর স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা সম্মিলিতভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।”

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সফওয়ানুল করিম বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এই মানবিক উদ্যোগ বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায়

পেকুয়ায় বন্যার্তদের পাশে চিকিৎসক, ১,২০০ রোগীকে চিকিৎসা ও ৫০ পরিবারকে ঢেউটিন সহায়তা

আপডেট সময় : ১১:২৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদ ওয়াসিমের স্মৃতিবিজড়িত পেকুয়ায় আয়োজিত দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ১,২০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ১০০ বান (৮০০ পিস) ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় পেকুয়া শহীদ জিয়া ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত আলোচনা সভা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. মং টিং ঞো। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নার্স ও পুষ্টিবিদ ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান, পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সফওয়ানুল করিম এবং কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ব্রেইন অ্যান্ড মাইন্ড বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন।

দিনব্যাপী পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পে মেডিসিন, নিউরো মেডিসিন, শিশু রোগ, গাইনি অ্যান্ড অবস, সার্জারি, ডায়াবেটিস ও হরমোন, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌনরোগ, অর্থোপেডিক্স ও ট্রমা, নাক-কান-গলা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দন্ত বিভাগসহ ১২টি বিভাগের ৩৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৮ জন অভিজ্ঞ নার্স এবং ১০ জন স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করা হয়।

একই অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের প্রত্যেককে ১৬ পিস করে মোট ৮০০ পিস (১০০ বান) ঢেউটিন দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এসব উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বসতঘর পুনর্নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক বলেন, “দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসকদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন সহায়তা একসঙ্গে নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

প্রধান অতিথি ডা. মং টিং ঞো বলেন, “বন্যার পর স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা সম্মিলিতভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।”

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সফওয়ানুল করিম বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এই মানবিক উদ্যোগ বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।