চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দরবেশহাট ডিসি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে শত শত ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও যানবাহনের চালকদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে গর্তগুলোতে পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার ( ৩০) দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ,
দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় দরবেশহাট তাজমহল কমিটি সেন্টার এলাকায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ইট, কংক্রিট দিয়ে ভরাট করলেও আরো বিপদজনক হয়ে উঠেছে সড়কটি। কোথাও কোথাও ইট ও খোয়া বেরিয়ে আসায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা, পিকআপ, মিনিট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের সময় চালকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় গর্ত এড়াতে গিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নুরুল আলম বলেন, দরবেশহাট ডিসি সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। গাছ, বাঁশের ট্রাকও চলে এ সড়কে। সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ইটভাটা। বড় ট্রাকে করে ইট, কংক্রিট ও মাটি পরিবহন করা হয় এই সড়কে। ধারণক্ষমতার চেয়ে গাড়ির লোড বেশি হওয়ায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলতে হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা জরুরি।
পুটিবিলা ইউনিয়নের গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কবি সোলাইমান বলেন, ‘সড়কটি এতই খারাপ যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। সড়কের এমচর হাট বাজার, মাস্টারপাড়া টার্নিং, গৌড়স্থান লাকী পাড়ার আগে ও পরে, নয়াবাজারসহ হাসনা ভিটা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি দ্রুত সময়ে সংস্কার করা জরুরি।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ছরওয়ার কামাল বলেন, সড়কের গর্তের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যানবাহনের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে গেছে।
লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ জানান, এটা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টেন্ডার করা হয়েছিলো। ঠিকাদার মালামালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে টেন্ডার বাতিল করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পল্লী সড়ক ও সেতু মেরামত কর্মসূচির আওতায় দরবেশহাট থেকে শুরু করে এমচরহাট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা প্রাক্কলন তৈরির কাজ সমাপ্ত করেছি৷ আগামী মাসে এটা সংক্রান্ত মিটিং আছে। এটা অনুমোদন হলে এই ৫ কিলোমিটার টেন্ডারে চলে যাবে।
মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, লোহাগাড়া: 
























